April 8, 2026
ca260d670879dd118d3f156c3bb1a0671775646112082338_original.jpg
Spread the love


নয়াদিল্লি: শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হল আমেরিকা ও ইরান। ৪০ দিনের মাথায় দু’সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে তারা। তবে যুদ্ধবিরতির শর্তবাবদ ১০টি প্রস্তাব পেশ করেছে ইরান। আগামী দুই সপ্তাহ সেই নিয়ে পর্যালোচনা চলবে। দুই পক্ষের সম্মতি থাকলে তার পর দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হবে। (Iran 10 Point Ceasefire Condition)

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছে। দুই দেশই পাকিস্তানের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছে। কিন্তু ইরানের তরফে যে ১০টি প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে, সেগুলি কি মেনে নেবে আমেরিকা? আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদিও ইতিবাচক ইঙ্গিতই দিয়েছেন। তাঁর কথায়, যে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে ইরান, তা ‘চলতে পারে’। (US-Iran Ceasefire)

ইরানের তরফে যে ১০টি প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে, তা হল-

  • আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে অনাক্রমণ চুক্তি। 

অর্থাৎ নতুন করে কেউ কারও উপর আর হামলা চালাবে না বলে চুক্তিবদ্ধ হতে হবে।

  • হরমুজ প্রণালীর উপর ইরানের নিয়ন্ত্রণই বজায় থাকবে। 

যুদ্ধপরিস্থিতিতে হরমুজের উপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে তারা।

  • ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধিকে স্বীকৃতি দিতে হবে। 

অর্থাৎ ইউরেনিয়াম মজুত রাখতে দিতে হবে ইরানকে। পারমাণবিক জ্বালানি থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং মর্যাদার প্রশ্নে বার বার এই দাবিকে সামনে রেখেছে ইরান। 

  • প্রাথমিক সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। 

অর্থাৎ আমেরিকার চাপানো নিষেধাজ্ঞা, যেখানে আমেরিকার নাগরিক, সংস্থা, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। 

  • সব ‘সেকেন্ডারি’ নিষেধাজ্ঞাও তুলে নিতে হবে।

অর্থাৎ অন্য দেশ বা সংস্থার সঙ্গে ব্যবসাবাণিজ্যে জরিমানা করা যাবে না। এতে ইরানের ব্যাঙ্কিং সিস্টেম পুনরায় স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে, নির্ধারিত বাজারমূল্যে ইরান তেল বিক্রি করতে পারবে, বিদেশে আটকে থাকা ধনরাশিরও নাগাল মিলবে।

  • রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে যে প্রস্তাবগুলি গৃহীত হয়েছে, তা বাতিল করতে হবে।

অর্থাৎ পারমাণবিক কর্মসূচি, অস্ত্রভাণ্ডারের বিস্তার আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যত প্রস্তাব আনা হয়েছিল, সব বাতিল করতে হবে। 

  • আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বোর্ড ইরানের বিরুদ্ধে যত প্রস্তাব এনেছিল, বাতিল করতে হবে সেগুলি। 

পারমাণবিক সুরক্ষাচুক্তি মেনে চলতে আহ্বান জানানো হয় ইরানকে। ইউরেনিয়াম সংগ্রহ, ইউরেনিয়াম মজুত রাখা এবং পরমাণু গবেষণাকেন্দ্রগুলি নিয়ে স্বচ্ছতা বদল করার দাবি জানানো হয়। 

  • ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ইরানকে। 

আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের তরফে বিনা প্ররোচনায় যে হামলা চালানো হয়, তে যে বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়, গোড়া থেকেই তার ক্ষতিপূরণ চেয়ে সরব হয় ইরান। 

  • উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমেরিকাকে সেনা সরাতে হবে। 

যুদ্ধ চলাকালীনই এই দাবিতে সরব হয়েছিল ইরান। ইরানে হামলা চালাতে আমেরিকাক নিজেদের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়ায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরাইন, কাতারের মতো দেশগুলির সমালোচনা করে তারা। সেখানে আমেরিকার ঘাঁটিগুলিতে আঘাতও হানে ইরান।

  • সব ধরনের যুদ্ধ থেকে সরে আসতে হবে।

ইরানের সাহায্য়প্রাপ্ত লেবাননের হেজবোল্লার সঙ্গে সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকতে হবে বলেও দাবি জানিয়েছে। 

ইরানের শর্তগুলি ‘চলতে পারে’ বলে যদিওও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প, তবে আমেরিকার সংবাদমাধ্যমের দাবি, এখনও সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে খতিয়ে দেখা হয়নি।। ইরানের সব দাবিদাওয়া মানা হবে কি না, তা নিয়েও ধন্দ রয়েছে। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সেনা সরাতে আমেরিকা রাজি হবে না বলে মনে করছেন কূটনীতিকদের একাংশ।

শুধু তাই নয়, আপাতত যুদ্ধবিরতি হলেও, পুরোপুরি যুদ্ধসমাপ্তি এখনও বাকি। ইসলামাবাদে দুই পক্ষের বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে কী হয়, সেদিকে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks