নয়াদিল্লি: আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়েছে। আগামী দু’সপ্তাহের জন্য যুদ্ধ বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। আর এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে এই প্রথম দু’টি জাহাজ বেরিয়ে এল। একটি গ্রিসের পণ্যবাহী জাহাজ, অন্য়টি লিবারিয়ার পতাকা লাগানো জাহাজ। (Hormuz Toll Fee)
MarineTraffic জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর প্রথম বার হরমুজ পেরোল ওই দু’টি জাহাজ। গ্রিসের পণ্যবাহী জাহাজটির নাম NJ Earth. সেটি স্থানীয় সময় সকাল ১০টা বেজে ৪৪ মিনিটে হরমুজ পেরোয়। লিবারিয়ার পতাকা লাগানো Daytona Beach জাহাজটি হরমুজ পেরোয় সকাল ৮টা বেজে ৫৯ মিনিটে। সকাল ৭টা বেজে ২৮ মিনিটে সেটি ইরানের বন্দর আব্বাস থেকে বেরিয়েছিল। (Strait of Hormuz)
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন, আগামী দুই সপ্তাহ হরমুজ দিয়ে নিরাপদে বের করা হবে জাহাজগুলিকে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিরাপত্তা জোগাবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ৮০০-র বেশি জাহাজ উপসাগরে আটকে রয়েছে এই মুহূর্তে। এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণই ইরানের হাতে।
Vessel movements resume in the Strait of Hormuz following ceasefire announcement
Early signs of vessel activity are emerging in the Strait of Hormuz following a ceasefire announcement, which includes a temporary reopening of the strategic waterway to allow for negotiations.… pic.twitter.com/CSy6PZlCJ4
— MarineTraffic (@MarineTraffic) April 8, 2026
যুদ্ধবিরতিতে আমেরিকার হাতে যে ১০ দফা শর্ত ধরিয়েছে ইরান, তাতে হরমুজের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে বলে জানানো হয়েছে। হরমুজ পেরোতে এখন থেকে টোল দিতে হবে কি না, তা যদিও স্পষ্ট নয়। তবে শোনা যাচ্ছে, হরমুজ দিয়ে তেলের ট্যাঙ্কার ছাড়তে টোল নিতে বদ্ধপরিকর ইরান। দেশের Oil, Gas and Petrochemical Products Exporters’ Union-এর মুখপাত্র হামিদ হোসেনি জানিয়েছেন, প্রত্যেক জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায় করতে চায় তেহরান।
হামিদ জানিয়েছেন, হরমুজ দিয়ে কী যাচ্ছে, তার উপর নজরদারি চালাবে ইরান। এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি, তাতে অস্ত্র সরবরাহ হচ্ছে কি না, দেখা দরকার। প্রত্যেক জাহাজকেই যেতে দেওয়া হবে। তবে তল্লাশি চালানো হবে প্রত্যেকটি জাহাজে। এতে সময় লাগবে অবশ্যই। তবে ইরানের আপত্তি নেই। প্রত্যেকটি তেলের ট্যাঙ্কারের কাছে হরমুজ পেরনোর অনুমোদন থাকতে হবে। অনুমোদন নিতে হবে ইমেলে। ব্যারেল প্রতি ১ ডলার করে আপাতত টোল নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে, যা দিতে হবে ক্রিপটোকারেন্সির মাধ্যমে। তবে খালি ট্যাঙ্কারের উপর কোনও টোল ধার্য হবে না।
