May 26, 2026
ab0a408c1ffbf82247751f221dee0b4517752181758051307_original.jpg
Spread the love


কলকাতা: সম্পূর্ণ ভাবে এখনও পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খোলা হয়নি। সেই নিয়ে উত্তেজনার পারদ চড়ছে ক্রমশ। কিন্তু ইচ্ছাকৃত ভাবে ইরান হরমুজ বন্ধ রাখেনি, বরং হরমুজ বন্ধ রাখতে তারা এককম বাধ্য হচ্ছে বলে দাবি। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনই দাবি করলেন আমেরিকার এক আধিকারিক। জানালেন, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীন নৌবাহিনীকে দিয়ে জলের নীচে মাইন বসিয়েছিল ইরান। কিন্তু যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলেও, এখনও সবক’টি মাইন খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাতেই তারা হরমুজ সম্পূর্ণ রূপে খুলতে পারছে না বলে দাবি করেছেন ওই আধিকারিক। (Mines in Hormuz)

ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, সমস্যার সূত্রপাত গতমাসে। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীনই হরমুজে ছোট ছোট নৌকা নামায় ইরান। জলের নীচে মাইন পাতার কাজ শুরু করে তারা। মাইন পাতার আগেই, ২ মার্চ ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ডস কর্পসের এক আধিকারিক হরমুজ বন্ধ রাখার ঘোষণা করে। কোনও জাহাজ দেখলে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এর ফলে হরমুজ দিয়ে পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। তেলের দাম তরতর করে বাড়তে শুরু করে আন্তর্জাতিক বাজারে। (Strait of Hormuz)

জলের নীচে মাইন পাতার কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও ঘোরাল হয়ে ওঠে। ট্যাঙ্কার চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ইরানের ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র থেকে রক্ষা পেতে, হরমুজ যাওয়া থেকে নিজেদের বিরত রাখে বহু জাহাজ। এর ফলে হরমুজের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ ভাবেই ইরানের হাতে ওঠে। কিন্তু এই মুহূর্তে সেই পদক্ষেপই ইরানের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। আমেরিকার ওই আধিকারিকের দাবি, তাড়াহুড়োয়, এদিক ওদিক, ছড়িয়েছিটিয়ে মাইনগুলি পাতা হয়েছিল। প্রত্যেকটির লোকেশন রেকর্ড করা হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। ফলে বর্তমানে সেগুলির হদিশ পেতে হিমশিম খাচ্ছে ইরান। 

ওই আধিকারিকের দাবি, জেলর তোড়ে কিছু ডিভাইস অন্যত্র সরে গিয়ে থাকবে। ফলে সেগুলিকে তুলে আনা আরও কষ্টকর হয়ে উঠেছে। মাঝে হরমুজের একটি দিক খুলে দেওয়া হয়েছিল। টোল ফি দিয়ে ওই পথ ধরে জাহাজ বের করা হচ্ছিল। মাইন সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল জাহাজগুলিকে। বিশেষ মানচিত্রও প্রকাশ করা হয়, যাতে নিরাপদ পথ ধরে এগোতে পারে জাহাজ। এখন আবার সেটাও হচ্ছে না। সমস্ত মাইন তোলা যায়নি বলেই ইরান হরমুজ পুরোপুরি খুলতে পারেনি। আমেরিকার শর্ত মেনে জাহাজ চলাচল আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়নি সেখানে। 

যুদ্ধবিরতির অন্যতম শর্ত হিসেবে হরমুজকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “সব দিক ভেবে দেখে, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা-সহই উন্মুক্ত হচ্ছে হরমুজ।” পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আয়োজিত শান্তি-বৈঠকেও বিষয়টি উঠবে বলে জানা যাচ্ছে। 

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সাগরের নীচে মাইন পাতার চেয়েও, সেগুলি তুলে আনা অনেক বেশি কঠিন কাজ। অত্য়াধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি, মাইন তোলার জন্য তৈরি বিশেষ লিটোরাল যুদ্ধজাহাজ লাগে। দ্রুত সব মাইন তুলে নেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় রসদ নেই ইরানের কাছে। ফলে নিজেদের পাতা মাইন তুলতেই হিমশিম খাচ্ছে তারা। পরিস্থিতি আরও জটিল করে দিয়েছে আমেরিকা। ইরানের একাধিক নৌঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। বেশ কিছু জাহাজও ডুবিয়ে দিয়েছে তারা। কোথায় কোথায় মাইন পাতা হয়েছে, তা বুঝতে পারছে না আমেরিকাও। 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks