নয়াদিল্লি: অত্যাধুনিক AI প্রযুক্তি থেকে বাইরের লোকজনকে ব্রাত্য রাখার সিদ্ধান্ত আমেরিকার। ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার সেই মর্মে নির্দেশ দিল AI সেফটি এবং রিসার্চ সংস্থা Anthropic-কে। বলা হয়েছে, আমেরিকার নাগরিক ব্যাতীত, ভারতীয়-সহ কোনও বিদেশি নাগরিক Anthropic-এর অত্যাধুনিক ও শক্তিশালী AI প্রযুক্তির নাগাল না পায়। (US Anthropic Ban for Foreigners)
সম্প্রতি নিজেদের নতুন দুই AI মডেল Claude Fable 5 এবং Mythos 5 সামনে আনে Anthropic. অত্যাধুনিক এবং শক্তিশালী দুই AI মডেলকে ঘিরে সাড়া পড়ে যায় গোটা বিশ্বে। কিন্তু আচমকাই পৃথিবীর সর্বত্র AI মডেল দু’টির নাগাল পেতে সমস্য়া হতে শুরু করে। এর পরই Anthropic-ই সাফাই দিতে এগিয়ে আসে। জানায়, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে আমেরিকার সরকারের নির্দেশেই পৃথিবীর অন্য দেশে AI মডেল দু’টিকে ‘ডিসেবল’ করে দেওয়া হয়েছে। (laude Fable 5-Mythos 5)
কিন্তু এই ধরনের বিধিনিষেধ যে যুক্তিযুক্ত নয়, তাও স্বীকার করে নিয়েছে Anthropic. কিন্তু আমেরিকার সরকারের নির্দেশ মেনে চলা ছাড়া উপায় নেই বলে জানিয়েছে তারা। পুনরায় সকলের নাগালের মধ্যে আনার জন্য লড়াই চলবে বলেও জানিয়েছে ওই সংস্থা।
তবে এই ঘটনায় অস্বস্তি বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে। কারণ এতদিন ঘোষিত ভাবেই AI নিয়ে তেমন বিধিনিষেধ ছিল না। যেটুকু বিধিনিষেধ ছিল, তা ছিল চিপ, হার্ডওয়্যার নিয়েই, যার দ্বারা AI সিস্টেম গড়ে তোলা এবং পরিচালিত হয়। এই প্রথম AI সফ্টওয়্যারের নাগাল পাওয়া নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করল কোনও দেশ। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত যন্ত্রমেধার দুনিয়ায় একটা টার্নিং পয়েন্ট হতে চলেছে।
হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত কেন?
কিন্তু আমেরিকা হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত নিলই বা কেন? কেন অন্য দেশের নাগরিকদের নিয়ে আপত্তি তাদের? Anthropic-এর দাবি, গত ১২ জুন আমেরিকার সরকারের কাছ থেকে এক্সপোর্ট-কন্ট্রোল নির্দেশিকা এসেছে। নির্দেশ দেওয়া হয়, বিদেশি নাগরিকরা যেন কোনও ভাবেই Calude Fable 5 এবং Mythos 5-এর নাগাল পান। এমনকি পৃথিবীর অন্য দেশে সংস্থার যত কর্মী রয়েছেন, তাঁরাও ওই দুই মডেলের নাগাল পাবেন না।
কী দুশ্চিন্তা আমেরিকার?
Anthropic-এর দাবি, আমেরিকার আধিকারিকদের আশঙ্কা, Fable 5-এর নিরাপত্তার বেড়াজাল টপকানো সম্ভব। সেই বেড়াজাল বাইপাস করা গেলেই Mythos মডেলের শক্তিশালী সাইবার সিকিওরিটির খুঁটিনাটি বেহাত হয়ে যাবে। অত্য়াধুনিক AI মডেল ব্যবহার করে সফ্টওয়্যারের দুর্বলতা ধরে ফেলা যেমন সম্ভব হবে, তেমনই সাইবার হামলার ঝুঁকিও বাড়বে।
সম্প্রতি The Wall Street Journal-এ সেই নিয়ে অ্যামাজ়নের একটি গবেষণাপত্রও প্রকাশিত হয়। গবেষকদের দাবি, Anthropic-এর মডেলকে কিছু প্রম্পট দিয়ে দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন সফ্টওয়্যারের খামতি সঙ্গে সঙ্গে সামনে চলে আসছে। আমেরিকার বাণিজ্য বিভাগকেও জানানো হয় বিষয়টি। এর পরই সরকারি নির্দেশিকা আসে।
আমেরিকার সরকার এবং Anthropic-এর মধ্য়ে বেশ কিছুদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছিল। চলতি বছরের শুরুতে সেই টানাপোড়েন চরমে ওঠে। দেশের অন্দরে নজরদারি চালাতে এবং স্বয়ংক্রিয় ওয়েপন সিস্টেম তৈরিতে সরকারকে নিজেদের তৈরি AI মডেল দিতে অস্বীকার করে তারা। পেন্টাগনের তরফে তাদের ‘সাপ্লাই চেন রিস্কে’র আওতায় ফেলা হয়, যার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইও লড়ছে Anthroipc. অতি সম্প্রতিই IPO-র ডন্য আবেদন জানিয়েছে, যাতে তাদের বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যাবে। পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান AI স্টার্টআপ হয়ে উঠবে Anthropic.
আরও পড়ুন: গৃহবধূরা জাতির রূপকার, ন্যূনতম ৩০০০০ টাকা বেতনের দাবিদার, যুগান্তকারী রায় সুপ্রিম কোর্টের
ভারতের উপর কী প্রভাব নিষেধাজ্ঞার?
এতদিন AI চিপ, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির উপরই নিষেধাজ্ঞা চাপাত আমেরিকা, যাতে চিন অত্যাধুনিক কম্পিউটিং পাওয়ারের নাগালনা পায়। কিন্তু Anthropic-এর এই নিষেধাজ্ঞার অর্থ, কৌশল বদলে ফেলেছে ওয়াশিংটন। সফ্টওয়্যার সিস্টেমের নাগাল কারা পাবেন, কারা পাবেন না, তাকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হল। অর্থাৎ আর শুধু হার্ডওয়্যার নয়, শক্তিশালী AI কাদের হাতে উঠবে, কাদের দূরে রাখা হবে, তা ঠিক করছে আমেরিকা। Zoho-র প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু বলেন, “চোখ মেলে তাকানোর সময় এসেছে ভারতের। বিশ্বায়ন এখন মৃত। ভারতকে নিজের AI ক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির নাগাল আর চাইলেই মিলবে না।” দেশের অন্দরে AI প্রযুক্তির উপর আরও বিনিয়োগ বাড়ানোয় জোর দিয়েছেন তিনি। AI এখন রাষ্ট্রের কৌশলের অঙ্গ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন অন্য বিশেষজ্ঞরাও। তাই অন্যের উপর নির্ভর না করেে, প্রত্যেক দেশের নিজ নিজ AI মডেল গড়ে তোলা উচিত বলে মত তাঁদের।
Budget 2026: অপারেশন সিঁদুরের পর বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি
