June 26, 2026
64c1b5bd8ef0ff13508a20fd4e69abbb1782404956961394_original.jpg
Spread the love


Digital Fraud : বদলে গেছে দেশের অর্থ লেনদেনের (Online Payment) মাধ্যম। এখন নগদের পরিবর্তে অনলাইন পেমেন্টের দিকেই ঝুঁকেছে দেশ। সেই ক্ষেত্রে দ্রুত খনিকের মধ্যে অন্যের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে আপনার টাকা। তবে এই সুবিধার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে অনেক অসুবিধাও। দেশবাসীর এই ডিজিটাল লেনদেনের (Digital Payment) সুযোগ নিচ্ছে প্রতারকরা। 

প্রতারণা হলে আপনি পাবেন কত টাকা  

বর্তমানে দেশে অনলাইন লেনদেন ঘিরে দেশজুড়ে বাড়ছে সাইবার জালিয়াতি। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর নিয়ে এল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। অনলাইন প্রতারণার শিকার হওয়া গ্রাহকদের সুরক্ষাকবচ আরও মজবুত করতে এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বুধবার একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। নতুন এই নিয়মে গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।

কী এই ‘Fraudulent EBT’ বা নতুন নিয়ম ?
আগের নিয়মগুলি মূলত গ্রাহকের অজান্তে হওয়া অননুমোদিত ইলেকট্রনিক লেনদেনের (unauthorised transactions) ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ছিল। কিন্তু বর্তমানে জালিয়াতির ধরন বদলেছে। তাই আরবিআই এবার নিয়ে এসেছে ‘Fraudulent Electronic Banking Transactions’ (Fraudulent EBT) বা প্রতারণামূলক ইলেকট্রনিক ব্যাঙ্কিং লেনদেনের ধারণা।

এর আওতায় শুধু গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া লেনদেনই নয়, বরং প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে ওটিপি (OTP), পাসওয়ার্ড বা ব্যাঙ্কের গোপন তথ্য শেয়ার করার ফলে হওয়া ক্ষতি, কিংবা জোরপূর্বক করানো লেনদেনও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কার্যকর হওয়ার সময়সীমা: কমার্শিয়াল ব্যাঙ্ক, স্মল ফিন্যান্স ব্যাঙ্ক, পেমেন্ট ব্যাঙ্ক এবং সমবায় ব্যাঙ্কসহ সমস্ত ব্যাঙ্কের জন্য এই নিয়ম ১ জানুয়ারি, ২০২৭ থেকে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে কার্যকর হবে। পরবর্তীকালে এর মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে।

গ্রাহকের দায় কখন ‘শূন্য’ (Zero Liability) হবে ?
আরবিআই জানিয়েছে, জালিয়াতির পেছনে যদি ব্যাঙ্কের গাফিলতি থাকে, তবে গ্রাহকের কোনও দায় থাকবে না। যেমন:

ব্যাঙ্ক যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখতে ব্যর্থ হয়।

লেনদেনের বাধ্যতামূলক অ্যালার্ট বা মেসেজ না পাঠায়।

জালিয়াতির রিপোর্ট করার জন্য ২৪ ঘণ্টার ২৪ ঘণ্টাই সচল চ্যানেল (হেল্পলাইন/অ্যাপ) না রাখে।

গ্রাহক জানানোর পরেও ব্যাঙ্ক দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়।

এছাড়া, কোনো থার্ড-পার্টি অ্যাপ, পেমেন্ট গেটওয়ে বা টেলিকম অপারেটরের ত্রুটির কারণে জালিয়াতি হলে এবং গ্রাহক যদি ৫ ক্যালেন্ডার দিনের মধ্যে ব্যাঙ্কে তা রিপোর্ট করেন, তাহলেও গ্রাহকের দায় শূন্য হবে।

গ্রাহকের গাফিলতি বলতে কী বোঝায় ?
যদি গ্রাহকের নিজস্ব ভুলের কারণে জালিয়াতি হয়, তবে ব্যাঙ্কে রিপোর্ট করার আগে পর্যন্ত হওয়া সমস্ত লোকসান গ্রাহককেই বইতে হবে। ব্যাঙ্কের চোখে গ্রাহকের গাফিলতিগুলি হল:

পিন (PIN), পাসওয়ার্ড বা ওটিপি (OTP) কারোর সাথে শেয়ার করা।

সন্দেহজনক লেনদেন নিয়ে ব্যাঙ্কের দেওয়া সতর্কবার্তা এড়িয়ে যাওয়া।

কোনো ক্ষতিকারক বা ম্যালিসিয়াস (Malicious) অ্যাপ ডাউনলোড করা।

মোবাইল নম্বর পরিবর্তন হলে ব্যাঙ্কে তা আপডেট না করা।

গাফিলতি থাকলেও মিলবে ক্ষতিপূরণ ! কত টাকা পাওয়া যাবে ?
আরবিআই সাধারণ ও ক্ষুদ্র গ্রাহকদের (একক মালিকানাধীন বা Sole Proprietor ব্যবসায়ীসহ) জন্য এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে। গ্রাহকের নিজের ভুলের (গাফিলতির) কারণেও যদি ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল জালিয়াতি হয়, তাও মিলবে ক্ষতিপূরণ!

ক্ষতিপূরণের পরিমাণ: গ্রাহক তাঁর মোট লোকসানের ৮৫% অথবা ২৫,০০০ টাকা (যেটি কম), সেই অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাবেন।

শর্তাবলী: এই সুবিধা একজন গ্রাহক জীবনে মাত্র একবারই পাবেন। এর জন্য জালিয়াতি হওয়ার ৫ ক্যালেন্ডার দিনের মধ্যে ব্যাঙ্কের পাশাপাশি ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল বা ১৯৩০ হেল্পলাইন নম্বরে অভিযোগ নথিভুক্ত করতে হবে। ১ জানুয়ারি, ২০২৭ থেকে পরবর্তী এক বছর পর্যন্ত হওয়া জালিয়াতির ক্ষেত্রে এই ক্ষতিপূরণ প্রযোজ্য হবে।

ক্ষতিপূরণের টাকা কে দেবে? (RBI ও ব্যাঙ্কের অংশীদারি)
এই ক্ষতিপূরণের সিংহভাগ খরচ বহন করবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নিজেই। টাকা দেওয়ার ফর্মুলাটি নিচে দেওয়া হলো:

সহজ উদাহরণের মাধ্যমে বুঝুন:
উদাহরণ ১: আপনার ৪০,০০০ টাকা জালিয়াতি হল। ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আগেই ব্যাঙ্ক ১৫,০০০ টাকা উদ্ধার (Recover) করতে পারল। অর্থাৎ আপনার নেট লস ২৫,০০০ টাকা। এই ২৫,০০০ টাকার ৮৫% অর্থাৎ ২১,২৫০ টাকা আপনি ক্ষতিপূরণ পাবেন। যার মধ্যে আরবিআই দেবে ১৬,২৫০ টাকা এবং দুই ব্যাঙ্ক দেবে ২,৫০ Useful টাকা করে।

উদাহরণ ২: আপনার ৪০,০০০ টাকা জালিয়াতি হল এবং আপনি নিয়ম মেনে ২৫,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়ে গেলেন। পরবর্তীতে যদি পুরো ৪০,০০০ টাকাই উদ্ধার করা সম্ভব হয়, তবে সেই উদ্ধার হওয়া টাকা থেকে আপনি আরও ১৫,০০০ টাকা পাবেন (যাতে আপনার পুরো ৪০,০০০ টাকাই ফেরত আসে) এবং বাকি টাকা আরবিআই ও ব্যাঙ্কগুলি তাদের দেওয়া অনুপাত অনুযায়ী ফেরত পেয়ে যাবে।

কত দ্রুত মিলবে ক্ষতিপূরণের টাকা ?
অভিযোগটি খতিয়ে দেখে ব্যাঙ্ক যদি সন্তুষ্ট হয় যে এটি একটি প্রকৃত জালিয়াতির ঘটনা, তবে ব্যাঙ্ক গ্রাহককে একটি ক্ষতিপূরণের আবেদনপত্র (Application Form) দেবে। সেই ফর্ম জমা দেওয়ার ৫ ক্যালেন্ডার দিনের মধ্যে ব্যাঙ্ক গ্রাহককে ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে বাধ্য থাকবে। ব্যাঙ্কগুলি পরবর্তীতে প্রতি ত্রৈমাসিক (Quarterly) ভিত্তিতে আরবিআই এবং বেনিফিশিয়ারি ব্যাঙ্কের থেকে তাদের অংশ বুঝে নেবে।

আরও পড়ুন : ভারতে বড় কর্মী ছাঁটাই করতে পারে এই কোম্পানি, চাকরি যাবে বহু লোকের



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks