July 2, 2026
035d5304ee53834da23b7f34364027731783014730164338_original.jpg
Spread the love


নয়াদিল্লি: আস্ত বিমান পুড়িয়ে দেওয়া হল। গুলি করে মেরে ফেলা হল আমেরিকার পাইলটকে। ভয়ঙ্কর ঘটনা ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়ায়। এমনিতেই অশান্তির আগুন জ্বলছে পাপুয়া। বিচ্ছিন্নতাকামীরা সেখানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সেই আবহেই আমেরিকার পাইলটের উপর এই হামলা, যা ইন্দোনেশিয়া এবং আমেরিকার সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। (West Papua National Liberation Army)

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাকামী সংগঠন পাপুয়া ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা হামলার দায়ও স্বীকার করেছে ইতিমধ্যে। আমেরিকার যে পাইলটকে হত্যা করা হয়েছে, তাঁর নাম নিকোলাস এফ গোসেলিন। পাপুয়ার প্রত্যন্ত ইয়াহুকিমোয় বিমান অবতরণ করিয়েছিলেন তিনি। (US Pilot Killed in Indonesia)

ইন্দোনেশিয়া সরকার জানিয়েছে, পুড়ে যাওয়া বিমানটিকে স্থানীয় একটি বিমানবন্দরে পাওয়া গিয়েছে। তবে পাইলটের হত্যা নিয়ে নির্দিষ্ট ভাবে কিছু জানায়নি তারা। তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে। 

আরও পড়ুন: হাঁ মুখ থেকে কোটি কোটি টাকার সোনা উগরে দেয় আন্টার্কটিকার এই আগ্নেয়গিরি…

পাপুয়া ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির মুখপাত্র সেবি সামবোম জানিয়েছেন, জাকার্তা এবং ওয়াশিংটনকে বার্তা দিতেই এই হামলা। বারং বার ওই পাইলট বিমান নিয়ে বিচ্ছিন্নতাকামীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় ঢুকে পড়ছিলেন, সতর্ক করার পরও বিরত হননি বলে দাবি সামবোমের। বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘সতর্কবার্তা কানে না তুলে বার বার সীমা অতিক্রম করছিলেন বলেই ওঁকে গুলি করা হয়, জ্বালিয়ে দেওয়া হয় বিমান’।

পাপুয়া ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির দাবি, বেসামরিক বিমানে সেনাবাহিনীর প্রয়োজনে ব্যবহার করা হচ্ছিল। সেনা নিয়ে আসা, নিয়ে যাওয়া থেকে সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হচ্ছিল বিমানে চাপিয়ে। সামবোমের দাবি, ইন্দোনেশিয়ার সেনা এবং বিচ্ছিন্নতাকামীদের সংঘর্ষের মূল কারণ চিহ্নিত না করে, যথেচ্ছাচার চালিয়ে দেওয়ার জন্য বার্তা দেওয়া হল দুই দেশকেই। বেসামরিক বিমান নিয়ে তাদের এলাকায় ঢুকলে একই পরিণতি হবে বলে হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভেনিজুয়েলায় রহস্যমৃত্যু ভারতীয় নাবিকের, দেশে ফিরল নিথর দেহ, শরীরের ভিতর থেকে গায়েব মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড, যকৃৎ, পাকস্থলী

১৯৬৯ সালে ইন্দোনেশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হয় পাপুয়া। সেই থেকেই সশস্ত্র সংগ্রাম চলছে সেখানে। খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ পাপুয়ার জন্য স্বাধীন দেশের স্বীকৃতি চায় বিচ্ছিন্নতাকামীরা। গত কয়েক বছরে বার বার প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে। দুই তরফেই সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিসহ করে তোলার অভিযোগ এসেছে লাগাতার। আর তার মধ্যে পড়ে ঘরছাড়া হয়েছেন বহু মানুষ, হিংসার শিকার হয়েছেন।

এর আগে, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নিউজিল্যান্ডের পাইলট ফিলিপ মেহর্তেন্সকে অপহরণ করে বিচ্ছিন্নতাকামীরা। ছোট একটি বিমান নিয়ে হাইল্যান্ড পাপুয়ায় নেমেছিলেন তিনি। দীর্ঘ ১৯ মাস বন্দি করে রাখা হয়েছিল তাঁকে। ২০২৪ সালে শেষ পর্যন্ত মুক্তি দেওয়া হয়। 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks