EPFO News Update : চাকরিজীবীদের জন্য তাঁদের ভবিষ্যৎ তহবিল বা প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সঞ্চয়। এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO) দ্বারা পরিচালিত এই স্কিমটি অবসরের পর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। প্রতি মাসে আপনার বেতন থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ এবং আপনার নিয়োগকর্তার (Employer) তরফ থেকে সমপরিমাণ টাকা এই ফান্ডে জমা হয়।
কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় তখন, যখন অনেকেই চাকরি পরিবর্তন করার পর পুরনো পিএফ অ্যাকাউন্টের টাকা নতুন অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করতে ভুলে যান বা অবহেলা করেন। যেহেতু পুরো প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংস্থার মাধ্যমে হয়, তাই কর্মীরা প্রায়শই এর ট্র্যাক হারিয়ে ফেলেন। আপনিও কি এমনটা করছেন? তাহলে জেনে নিন কী কী বড়সড় লোকসান হতে পারে আপনার।
১. ট্যাক্স বা TDS-এর কোপ
আয়কর নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো কর্মী টানা ৫ বছর চাকরি করার পর পিএফ-এর টাকা তোলেন, তবে তার ওপর কোনো TDS (Tax Deducted at Source) কাটা হয় না। কিন্তু আপনি যদি চাকরি বদলানোর পর পুরনো পিএফ অ্যাকাউন্টটি নতুন অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত (Consolidate) না করেন, তবে EPFO-র খাতায় আপনার চাকরির সময়কাল আলাদা আলাদা হিসেবে গণ্য হবে। এর ফলে ৫ বছরের কম সময়ের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে গেলে আপনাকে অতিরিক্ত ট্যাক্স দিতে হতে পারে।
২. চক্রবৃদ্ধি সুদের (Compounding) বিপুল ক্ষতি
বর্তমানে EPFO বার্ষিক ৮.২৫% হারে আকর্ষণীয় সুদ দিচ্ছে। পিএফ-এর আসল ম্যাজিক লুকিয়ে আছে চক্রবৃদ্ধি সুদে (Compound Interest)। আপনার সমস্ত টাকা যদি একটিমাত্র অ্যাকাউন্টে (MID) জমা না হয়ে আলাদা আলাদা অ্যাকাউন্টে পড়ে থাকে, তবে আপনি চক্রবৃদ্ধির পুরো সুবিধা পাবেন না। ফলে অবসরের সময়ে আপনার মোট ফান্ডের অঙ্ক অনেকটাই কমে যাবে।
৩. পেনশন ও বিমার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়া
EPFO-র নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কর্মী যদি টানা ১০ বছর বা তার বেশি চাকরি করেন, তবে তিনি আজীবন পেনশনের (Pensionary Benefits) যোগ্য হন। কিন্তু আপনি যদি চাকরি বদলানোর পর আগের অ্যাকাউন্টগুলো বর্তমান অ্যাকাউন্টের সাথে লিঙ্ক না করেন, তবে আপনার আগের চাকরির মেয়াদ গণনা করা হবে না। ফলে ১০ বছরের হিসাব না মিললে আপনি পেনশন এবং EPFO-র জীবন বিমা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
৪. অ্যাকাউন্ট ‘ইনঅপারেটিভ’ বা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার ভয়
সাধারণত কোনো অ্যাকাউন্টে টানা ৩৬ মাস (৩ বছর) কোনো অবদান বা টাকা জমা না পড়লে সেটিকে একপ্রকার নিষ্ক্রিয় ধরা হয়। যদিও বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ৫৮ বছর বয়স পর্যন্ত সুদের সুবিধা পাওয়া যায়, তবুও অ্যাকাউন্টটি ‘ইনঅপারেটিভ’ (Inoperative) হয়ে গেলে পরবর্তীতে টাকা তোলা বা ট্রান্সফার করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত জটিল কাগজের কাজ এবং ভেরিফিকেশনের মুখে পড়তে হয়।
মুশকিল আসান আপনার UAN নম্বর
এই সমস্ত জটিলতা এড়াতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো আপনার ইউনিক অ্যাকাউন্ট নম্বর বা UAN।
একটি ছাতার তলায় সব অ্যাকাউন্ট: UAN একটি ছাতার মতো কাজ করে, যার অধীনে আপনার সমস্ত পুরনো এবং নতুন মেম্বার আইডি (MID) যুক্ত করা যায়।
অটো-ট্রান্সফার: নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় সঠিক UAN দিলে এখন অনলাইনেই পুরনো পিএফ ব্যালেন্স নতুন অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করার অনুরোধ জানানো যায়।
ডিজিটাল সুবিধা: এর মাধ্যমে আপনি ঘরে বসেই আপডেট পিএফ পাসবুক দেখা, এসএমএস অ্যালার্ট পাওয়া এবং কেওয়াইসি (KYC) আপডেট করতে পারবেন।
