কার্ডিফ: ক্রিজে যখন বিরাট কোহলি (Virat Kohli) উপস্থিত ছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল ভারতীয় দল হেসেখেলে তিনশো রানের গণ্ডি পার করবে। তিনি শ্রেয়স আইয়ারের (Shreyas Iyer) সঙ্গে মিলে ভাল পার্টনারশিপ গড়েন। দুইজনেই অর্ধশতরানও হাঁকান। তা সত্ত্বেও ২৫০ রানের গণ্ডি অবধি পার করতে পারল না ভারত। দলের মিডল অর্ডার চূড়ান্ত ব্যর্থ। ৫৫ রানের ব্যবধানে সাত উইকেট হারিয়ে দ্বিতীয় ওয়ান ডে ম্যাচে মাত্র ২৩৩ রানে অল আউট হয়ে গেল টিম ইন্ডিয়া। জোফ্রা আর্চারদের শর্ট বলের বিরুদ্ধে ফের একবার ভারতীয় ব্যাটরদের দুর্বলতা সামনে চলে এল।
এদিন টস হেরে দলে মাত্র এক বদল করে ব্য়াটে নেমেছিল ভারত। অসুস্থ কেএল রাহুলের পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছিলেন ঈশান কিষাণ তবে সুযোগ পেলেও রান পেলেন না তিনি। শুরুটা অবশ্য করেছিলেন রোহিত শর্মা এবং শুভমন গিলই। গত ম্য়াচে ৮০ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হওয়া গিলকে এই ম্যাচেও দুরন্ত ছন্দে দেখাচ্ছিল। একের পর এক দৃষ্টিনন্দন শট খেলছিলেন তিনি। কিন্তু কভার ড্রাইভ মারতে গিয়ে তিনি ৩১ রানে আউট হন। অপর ওপেনার রোহিত শর্মার হতাশাজনক সফর অব্যাহত থাকে। তিনি একাধিকবার জীবনদান পেয়েও ৪৭ বল ২৬ রান করেই সাজঘরে ফেরেন।
রোহিত আউট হওয়ার পরে ঈশান কিষাণ ব্যাটে নেমে এই সফরে ফের একবার শর্ট বলের শিকার হন। তাঁর সংগ্রহ মাত্র এক রান। চাপে পড়ে যাওয়া ভারতের হয়ে এই সময়ই ইনিংসের হাল ধরেন বিরাট কোহলি এবং শ্রেয়স আইয়ার। শুরুতে শ্রেয়স খানিকটা দেখেশুনে খেলে দুরন্ত ছন্দে থাকা কোহলিকেই স্ট্রাইক দিচ্ছিলেন। কোহলিও একের পর এক চোখধাঁধানো শট মেরে ৫০ বলে অর্ধশতরান করেন।
কিন্তু শ্রেয়সের সঙ্গে কোহলির অর্ধশতরানের পার্টনারশিপ ভাঙেন জোফ্রা আর্চার। তাঁকে নতুন স্পেলে নিয়ে আসার অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করেন ইংল্যান্ডের তারকা ফাস্ট বোলার। কোহলি আউট হওয়ার পরেই ভারতীয় ব্যাটিংয়ে ধস নামে। শাকিব মামুদের শর্ট বলে দুই রানে আউট হন সুন্দর, শিবম দুবে এবং অক্ষর পটেল পরপর বলে যথাক্রমে শূন্য ও এক রানে জোফ্রা আর্চারের শিকার হন। এইসবের মধ্যেই শ্রেয়স আইযার ব্যাট চালিয়ে নিজের অর্ধশতরান পূরণ করেন। তবে তারপরে আর বেশিদূর এগোতে পারেননি তিনি। শেষের দিকে বুমরা ব্যাট চালিয়ে ২০ রান যোগ করে দলের স্কোর আরেকটু টানেন। তবে এই রান জয়ের জন্য যথেষ্ট হয় কি না, সেটাই এবার দেখার বিষয় হতে চলেছে।
