সন্দীপ সরকার, কলকাতা: তাঁকে বলা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের নতুন চমক। ব্যাটে বিধ্বংসী। বল হাতেও ভেল্কি দেখাচ্ছেন। বয়স? মাত্র ২২। আর তাতেই প্রতিপক্ষদের আতঙ্ক হয়ে উঠেছেন।
সেই কুপার কনোলিকে (Cooper Connolly) ৩ কোটি টাকায় আইপিএলের নিলাম থেকে কিনে নিয়েছে প্রীতি জিন্টা-নেস ওয়াদিয়ার পঞ্জাব কিংস। কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে দর কষাকষি করে। ২ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দর হেঁকেছিল শাহরুখ খান-জুহি চাওলার দল। তার চেয়ে ২০ লক্ষ টাকা বেশি দিয়ে শেষ হাসি হেসেছে গত আইপিএলের ফাইনালিস্টরা।
কে এই কুপার কনোলি? অস্ট্রেলিয়ার ২২ বছর বয়সী তরুণ প্রথমবার নজর কেড়েছিলেন ২০২২-২৩ মরশুমে বিগ ব্যাশ লিগ ফাইনালে। ব্রিসবেন হিটের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিততে পারথ স্কর্চার্সের ১৯ বলে প্রয়োজন ছিল ৩৮ রান। হাতে মোটে পাঁচ উইকেট। রক্ষাকর্তা হয়ে হাজির হন লম্বা সোনালি চুলের এক তরুণ। ১১ বলে ২৫ রানের অপরাজিত, বিধ্বংসী ইনিংস খেলে পারথ স্কর্চার্সকে চ্যাম্পিয়ন করেন। বিবিএলের সাফল্য অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের দরজাও খুলে দেয় কুপারের সামনে। আর সেখানেও চমক। এবার বল হাতে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওয়ান ডে ম্যাচে মাত্র ২২ রানে পাঁচ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসাবে ওয়ান ডে ফর্ম্যাটে পাঁচ উইকেট নেন বাঁহাতি স্পিনার কুপার।
পরের আইপিএলে কুপারকে ফিনিশারের ভূমিকাতে ব্যবহার করার কথা ভাবছেন বলে নিজেই জানিয়েছেন পঞ্জাব কিংসের অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। তিনি নিজে কি নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত? বিবিএলের ফাঁকেই পারথ থেকে জুম কলে এবিপি লাইভ বাংলাকে কুপার বললেন, ‘আমি বিগ ব্যাশ লিগে সব রকম ব্যাটিং পোজিশনেই খেলেছি। আপাতত মিডল অর্ডারে, তিন নম্বরে ব্যাট করছি। তবে যদি ম্যাচ শেষ করে আসার সুযোগ পাই, সেটাই করব। আমি যে কোনও চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে তৈরি।’
তবে ব্যাট হাতে চার-ছক্কার ঝড় তোলার পাশাপাশি বল হাতেও গেমচেঞ্জার হতে তৈরি কুপার। বিশেষ করে ভারতীয় পরিবেশে স্পিন বোলিংয়ের ফাঁদ পাততে প্রস্তুত। বলছিলেন, ‘গত তিন বছর বল হাতেও আমার দারুণ কাটছে। বোলিংয়ে আগের চেয়ে অনেক উন্নতি করেছি। এখনও শিখছি, তবে আমি বল হাতে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারি।’
পঞ্জাব কিংসে কোচ হিসাবে কুপার পাবেন কিংবদন্তি রিকি পন্টিংকে। স্বদেশীয় মহাতারকার সঙ্গে কথা হল? কুপার বলছেন, ‘বিবিএল চলছে তাই সেভাবে কথা হয়নি। আশা করছি দ্রুত রিকির সঙ্গে কথা বলব। আইপিএলে নিজের সেরাটা দিতে মুখিয়ে রয়েছি।’
