May 27, 2026
899fdbdd379d93ea7fae7afe7bf82c111766757317734170_original.jpg
Spread the love


১৭ বছর পর বাংলাদেশে ফিরেছেন BNP নেত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান। যাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক আলাদ্দা উদ্দীপনা শুরু হয়েছে। যদিও, দীর্ঘদিন দেশে না থাকায় বর্তমান পরিস্থিতি বুঝতে খালেদা-পুত্রের সমস্যা হতে পারে বলে মনে করছেন বাংলাদেশে ভারতের প্রাক্তন হাই কমিশনার বীণা সিক্রি।

এ প্রসঙ্গে কথা বলার সময় সংবাদ সংস্থা ANI-কে তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর উনি ফিরেছেন। নেতাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ থাকতে পারে, কিন্তু দেশে তৃণমূল স্তরের রাজনীতির সঙ্গে উনি জড়িত নন। তাছাড়া উনি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, সুফি এবং আহমদীদের মতো সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে যে গভীর ক্ষোভ বা অত্যাচার সংঘটিত হচ্ছে তার মাত্রা পরিমাপ করতে পারেননি।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্য়ান তারেক রহমানের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে উজ্জীবিত দলের নেতা-কর্মীরা। গতকাল তারেককে দেখতে রাস্তার দু’পাশে বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক জমায়েত করেন। রহমানের এই প্রত্যাবর্তনের রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন বীণা সিক্রি। তিনি বলেন, “দেশের বাইরে তাঁর দীর্ঘ সময় কাটানোর ফলে তাঁর পক্ষে ক্রমবর্ধমান সামাজিক ও রাজনৈতিক গতিশীলতার সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলির সঙ্গে।”

২০২৬-এর ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। তার আগে ইনকিলাব মঞ্চের মুখ শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর পর থেকেই উত্তাল প্রতিবেশী রাষ্ট্র। ভাঙচুর, তাণ্ডব, লুঠপাট, অগ্নি সংযোগ, খুন…কিছুই বাদ যাচ্ছে না। এই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই, দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাংলাদেশে ফিরেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।  

২০০৭ সালের, ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশে জারি হয়েছিল জরুরি অবস্থা। সেনা-সমর্থিত সরকারের হাতে চলে যায় দেশের শাসনক্ষমতা। দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হন তারেক রহমান। ১৮ মাস জেলে থাকার পর ২০০৮-এর সেপ্টেম্বরে ছাড়া পান তিনি। ওই বছর বাংলাদেশের ভোটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয় শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগ। এরপর তারেকের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা হয়। ২০০৪ সালে আওয়ামি লিগের সভায় গ্রেনেড হামলায় ২৪ জনের মৃত্যুর মামলায় নাম জড়ায় খালেদা পুত্রের। ওই বছরই ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ছেড়ে লন্ডনে চলে যান তিনি। দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর সেখান থেকেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দল পরিচালনা করছিলেন তারেক রহমান। 

২০২৪ সালের অগাস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর তাঁর বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার করে নেয় ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের আগে ফের সপরিবারে ঢাকায় ফিরেছেন তারেক রহমান। জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ের ধারে বিশাল জন সমাগমের মধ্যে করেন সভা। 

লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৪২ নাগাদ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে তারেকের বিমান। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী জুবায়দা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে খালি পায়ে মাটি স্পর্শ করে এক মুঠো মাটি নেন তারেক। তারপর বিশেষ বুলেটপ্রুফ বাসে করে রওনা দেন। তারেককে দেখতে রাস্তার দু’পাশে বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক জমায়েত করেন। সভা সেরে মা খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে যান তারেক রহমান। 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks