April 17, 2026
4c6b9d1c91c42a8bd5a953d738231c6c176763076839064_original.jpg
Spread the love



দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণ সংক্রান্ত স্বতঃপ্রণোদিত জনস্বার্থ মামলাটির শুনানি করছে বোম্বে হাইকোর্ট। এবং সাম্প্রতিক শুনানিগুলি বায়ুদূষণের এই যে অবস্থা (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স), এই যে সংকট, তার সঙ্গে যুক্ত মৌলিক সমস্যাগুলিকে তুলে ধরেছে – দূষণের উৎসগুলি সঠিকভাবে চিহ্নিত করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাব রয়েছে আমাদের, এবং দূষণ কমাতে গৃহীত পদক্ষেপগুলিও আমরা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করি না।

সম্প্রতি সংসদে কেন্দ্র জানায়, উচ্চ বায়ুদূষণ সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স এবং ফুসফুসের সমস্যার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এমন কোনও তথ্য নেই। আর এই তথ্যে নড়েচড়ে বসেছেন অনেকে। তবে, এই বিষয়টি কেউ উল্লেখ করেননি, যে, এই এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স সংক্রান্ত কোনও তথ্য সংগ্রহ ও সংকলনের জন্য কোনও উদ্যোগ রয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। সম্পর্কযুক্ত হোক বা কার্যকারণমূলক – কোনও একটি সংযোগ যে বিদ্যমান, তা স্পষ্ট। কারণ কেন্দ্রীয় সরকারের একই জবাবে “…বায়ুদূষণ সম্পর্কিত অসুস্থতাগুলিকে কেন্দ্র করে উপকরণ তৈরির…” (“…development of material targeting Air Pollution related illnesses…”) কথা বলা হয়েছে।

আমাদের দেশে বায়ুদূষণ যখন অন্যতম প্রধান সমস্যা, তখন, এই উপযুক্ত ডেটার অভাব একটি সাধারণ সমস্যা। সপ্তাহের শুরুতে শুনানির সময় বোম্বে হাইকোর্ট অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে এও উল্লেখ করেছে যে, দূষণ নিয়ন্ত্রণে বসানো বেশ কয়েকটি দূষণ সেন্সর কাজই করছে না।

এটা উল্লেখ্য যে, নির্মাণস্থলে দূষণ নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা কার্যকর না হওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং সেই নির্দেশিকা কার্যকর করার জন্য BMC-র আপাত প্রচেষ্টার মধ্যেকার ফারাকটি নিয়ে হাইকোর্টকে প্রশ্ন তুলতে হয়েছে।

বিএমসি-র আপাতত নথিগত প্রমাণ, বা যাকে তথ্য বলা যেতে পারে, তা থেকে মনে হয় যে তারা যথাযথভাবে কাজ করেছে। কিন্তু, শহরের পরিস্থিতি অবশ্য অন্য কথাই বলে, এবং আমাদের এই মেগাসিটিতে (এবং সম্ভবত আমাদের সমস্ত শহুরে জনবসতিতে) স্থানিক তারতম্য ও জনসংখ্যার ঘনত্বকে আমলে না নেওয়া একটি দূষণ সেন্সর নেটওয়ার্ক আমাদের এবং আদালতকে এক শূন্যতার মধ্যে কাজ করতে বাধ্য করে।

সমস্যা অনেক বড়,  মনোযোগ অতি সামান্য

আশ্চর্যজনক যে, মহামারীর পর আমরা যে সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সংকটের সম্মুখীন হয়েছি, তা প্রয়োজনের তুলনায় কম মনোযোগ পাচ্ছে। আমি যেমনটা সবসময় বলে এসেছি, আমরা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমেই একে অপরের সঙ্গে যুক্ত – আমরা একই বাতাসে শ্বাস নিই, এবং এখন প্রতিটি শ্বাসের সাথে বিপুল পরিমাণ দূষিত জিনিসপত্র শরীরে প্রবেশ করে যা স্বাস্থ্যের জন্য স্পষ্টতই ক্ষতিকর। মুম্বই বা দিল্লিতে একদিনের শ্বাস-প্রশ্বাসকে (অত্যন্ত বিপুল সংখ্যক) ধূমপানের সমতুল বলে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়, তা আমরা পড়ি এবং তারপর নির্বিকারভাবে নিজেদের কাজ চালিয়েও যাই !

অন্ততপক্ষে, আমরা যে বর্তমান ও আসন্ন অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি, তা উপেক্ষা করে যাচ্ছি ; সহজভাবে বলতে গেলে, স্বাস্থ্যক্ষেত্রের খরচ অনেক বেশি, এবং আমাদের বায়ুদূষণ ও সংকটের স্বাস্থ্যগত পরিণতি সম্পর্কে আমরা যা জানি, তা এই সীমিত পরিসরেও যথেষ্ট উদ্বেগজনক।


AQI ভ্রম : তথ্য উধাওয়ের জেরে বানচাল হচ্ছে দেশের দূষণের বিরুদ্ধে লড়াই !

অনেকগুলি কারণ আমাদের এহেন পরিস্থিতিতে এনে দাঁড় করিয়েছে। খণ্ডিত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা  (fragmented regulation) বাস্তব জগতে সীমিত বা অস্তিত্বহীন প্রয়োগ ও ফলাফল সহ উচ্চাকাঙ্খামূলক নীতি, এবং আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী নির্মল বাতাসের লক্ষ্য ও ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার এক বাস্তব প্রয়োজনীয়তা – সবই এর অন্তর্ভুক্ত।

আমার মতে, এই সবকিছু দুটি প্রধান ত্রুটি থেকেই উদ্ভূত : তথ্যের অভাব এবং প্রত্যক্ষ আর্থিক ইনসেনটিভ ও ডিসইনসেনটিভের অভাব। অন্যান্য সমস্ত কারণ, এবং এই প্রবন্ধে তার মধ্যে কয়েকটি মাত্র উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই প্রধান ত্রুটিগুলো সমাধান না করে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

ডেটা কেন গুরুত্বপূর্ণ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks