ATM Card Free Insurance : ATM কার্ড থাকলেই আপনি পেতে পারেন ৫ লাখ টাকা দুর্ঘটনাজনিত বিমা (Accident Insurance)। বার বার এটিএমে (ATM Card) গেলেও এই বিষয়ে আমরা অনেকেই জানি না। মানিব্যাগে থাকা এই কার্ডই হতে পারে আপনার বিনামূ্ল্যে বিমা (Free Insurance) পাওয়ার সাথী।
এর জন্য আলাদা কোনও চার্জ লাগে
অনেকেই ভাবতে পারেন এই বিমা পেতে আলাদা কোনও তার্জ লাগে। কিন্তু আসলে তা নয়। অতিরিক্ত প্রিমিয়াম ছাড়াই প্রতিটি ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের এটিএম কার্ডের সঙ্গে এই বিশেষ সুবিধা দিয়ে থাকে। কারণ বেশিরভাগ মানুষ এই ফ্রি বিমার সুবিধার সম্পর্কে জানেনই না। সেই কারণে ক্লেম বা দাবি করার কথাও ভাবেন না।
আপনার কার্ডে কত টাকার বিমা রয়েছে ?
তবে এই ক্ষেত্রে আপনার একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে। এই দুর্ঘটনাজনিত বিমার টাকার পরিমাণ সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার কাছে কোন ধরনের এটিএম বা ডেবিট কার্ড রয়েছে তার ওপর। সেটা কতটা প্রিমিয়াম সেটা এই অঙ্কের ওপর নির্ভর করে।
১ ক্লাসিক বা রুপে (RuPay) কার্ড: আপনার কাছে যদি সাধারণ বা ক্লাসিক কার্ড থাকে, তাহলে এই বিমার টাকার পরিমাণ হয় সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা। এই টাকা আপনি বিমা কভারেজ পাবেন।
২ প্ল্যাটিনাম (Platinum) কার্ড: তবে আপনার কাছে যদি প্ল্যাটিনাম কার্ড থাকে, তাহলে এই বিমার পরিমাণ হতে পারে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত।
৩ প্রিমিয়াম বা ভিসা (Visa) কার্ড: কিছু প্রিমিয়াম বা বিশেষ ভিসা কার্ডে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে দুর্ঘটনা বিমা দেওয়া হয়।
(বিঃদ্রঃ: ব্যাঙ্ক ভেদে এই নিয়ম ও টাকার পরিমাণের কিছুটা পার্থক্য হতে পারে, তাই নিজের ব্যাঙ্কের সঙ্গে একবার কথা বলে নেওয়া ভাল।)
বিমার সুবিধা পাওয়ার জন্য জরুরি শর্তাবলী
এই ফ্রি বিমার সুবিধা পেতে গেলে গ্রাহকদের কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হবে, অন্যথায় ক্লেম বাতিল হয়ে যেতে পারে
১ অ্যাক্টিভ কার্ড থাকতে হবে : এই বিমা পেতে হলে দুর্ঘটনার সময় কার্ডটি অবশ্যই অ্য়াক্টিভ থাকতে হবে, না হলে বিমা পাবেন না।
২ লেনদেনের সময়সীমা বড় বিষয় : ব্যাঙ্কের নিয়ম অনুযায়ী, দুর্ঘটনার আগের ৩০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে ওই এটিএম কার্ডটি ব্যবহার করে অন্তত একটি সফল লেনদেন (Transaction) করা বাধ্যতামূলক। তাই ক্লেম যাতে বাতিল না হয়, তার জন্য মাঝে মাঝেই কার্ডটি ব্যবহার করা উচিত।
ক্লেম করার জন্য কী কী নথি প্রয়োজন ?
কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে বিমার টাকা দাবি করার জন্য নীচের নথিগুলি ব্যাঙ্কে জমা দিতে হবে:
কার্ডহোল্ডারের মৃত্যু শংসাপত্র (Death Certificate)
পুলিশের এফআইআর (FIR)-এর কপি
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট (Postmortem Report)
নমিনির (Nominee) পরিচয়পত্র
সংশ্লিষ্ট এটিএম বা ডেবিট কার্ডের ফটোকপি
ব্যাঙ্কের স্টেটমেন্ট (Bank Statement)
কীভাবে করবেন বিমার ক্লেম ?
১ সবার আগে আপনার একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, দুর্ভাগ্যবশত কোনও কার্ডধারীর পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে, তাঁর পরিবার বা নমিনিকে প্রথমেই সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের গিয়ে ঘটনাটি জানাতে হবে।
২ এরপর ব্যাঙ্ক থেকে একটি ‘ক্লেম ফর্ম’ নিয়ে সমস্ত সঠিক তথ্য দিয়ে তা পূরণ করতে হবে ও ওপরের নথিপত্রগুলি জমা দিতে হবে।
৩ এবার ব্যাঙ্ক সব তথ্য ভেরিফাই বা যাচাই করার পর ক্লেম মঞ্জুর হলে, বিমার টাকা সরাসরি নমিনির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেবে।
আরও পড়ুন : হেলমেট পরলেও হতে পারে ফাইন ! ১০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, কী রয়েছে ট্রাফিক রুল
