জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: গত ১৬ ডিসেম্বর ছিল ২০২৬ আইপিএলের নিলাম (IPL 2026 Auction)। সেদিন আবুধাবিতে মোট ৭৭ শূন্যপদ পূরণের লড়াইয়ে নাম উঠেছিল ৩৫৯ জন ক্রিকেটার। ৫ বারের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংস (Chennai Super Kings) ৯টি স্লট পূরণ করতে ৪৩.৪ কোটি টাকা নিয়ে এসেছিল নিলামের বাজারে।
কলকাতা নাইট রাইডার্সের (KKR) পর দ্বিতীয় সর্বাধিক পার্স ছিল সিএসকে-র (CSK)। কেকেআর ৬৪.৩ কোটি টাকা নিয়ে এসেছিল। তাদের ১৩টি স্লট পূরণ করতে হত। সিএসকে ২৮.৪০ কোটি টাকা খরচ করে এবং রীতিমতো লড়াই করে দু‘জন ক্রিকেটারকে নিয়ে নিলামে সবাইকে চমকে দিয়েছিল। তাঁরা হলেন প্রশান্ত বীর ও কার্তিক শর্মা (Prashant Veer And Karthik Sharma IPL 2026 Auction)। দুই ক্রিকেটারই আনক্যাপড'(আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেননি যাঁরা)
আরও পড়ুন: বেস প্রাইজের চেয়ে ৪৬৩৩% বেশি! ‘আনক্যাপড’ হয়েও ১৪ কোটি, ইতিহাস লেখা প্রশান্ত-কার্তিক কারা?
কার্তিক শর্মার আবেগি কাহিনি
আইপিএল বদান্যতায় রাতারাতি ‘ধনকুবের’ হয়েছেন কার্তিক। বিরাট অঙ্কের টাকা পেয়ে জানালেন যে, এখন তার অগ্রাধিকার যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাবার ঋণ পরিশোধ করা। ১৯ বছর বয়সী এই ব্যাটার বিজয় হাজারে ট্রফিতে রাজস্থানের সর্বাধিক রানশিকারি ছিলেন, আইপিএল নিলামে অর্জিত অর্থ কীভাবে খরচ করার পরিকল্পনা করছেন, সে বিষয়ে স্পোর্টস সঞ্চালক যতীন সাপ্রুর সঙ্গে কথা বলেছেন। দারুণ ছক্কা হাঁকানো এবং নির্ভীক শট খেলার জন্য পরিচিত এই তরুণ ব্যাটার বলছেন, নিলাম তাঁর জীবন বদলে দিয়েছে। কার্তিকের কাছে এই মুহূর্তটি ব্যক্তিগত সাফল্যের মতোই তাঁর পরিবারের জন্যও স্বস্তিদায়ক ছিল। তোমার প্রথম আইপিএল বেতনের অঙ্ক জীবন বদলে দেওয়ার মতো। এই টাকা দিয়ে তুমি তোমার বাবা-মায়ের জন্য কী করবে? আমি প্রথমেই আমার বাবার ২৬ লাখ টাকার লোন মেটাতে চাই। তবে কার্তিক জানাননি কেন তাঁর বাবা এত টাকার লোন নিয়েছিলেন।
কার্তিকের কান্নাই থামেনি
নিলামে চেন্নাই সুপার কিংস, লখনউ সুপার জায়ান্টস এবং কলকাতা নাইট রাইডার্স কার্তিকের জন্য তীব্র দর কষাকষি করেছিল। যখন ১৪.২০ কোটি টাকায় নিলামের হাতুড়ি পড়ে তখন তিনি আইপিএল নিলামের ইতিহাসে যৌথভাবে সবচেয়ে দামি আনক্যাপড খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন প্রশান্ত বীরের সঙ্গে। তরুণ ক্রিকেটার স্বীকার করেছেন যে, তাঁকে যে দামে নেওয়া হয়েছে তা দেখে সে তাঁর আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। কার্তিক জানিয়েছেন, শুরুতে তাঁর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি সন্দিহান ছিলেন এবং দীর্ঘক্ষণ ধরে তাঁকে নিয়ে নিলাম যুদ্ধের মুহূর্ত আরও আবেগঘন করে তুলেছিল। নিলাম শেষ হওয়ার পরেও, কী ঘটেছে তা হজম করতেও তাঁর অসুবিধা হচ্ছিল। কার্তিক বলেন, ‘আমি এতটাই খুশি হয়েছিলাম যে কেঁদে ফেলেছিলাম। যখন আমার জন্য বিডিং শুরু হয়, আমি ভয় পাচ্ছিলাম। ভাবছিলাম হয়তো আজ আমি সুযোগই পাব না। কিন্তু বিডিং শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দর কষাকষি চলতে থাকে। সেই মুহূর্তে আমি আমার চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। বিডিং শেষ হওয়ার পরেও আমি কাঁদছিলাম। সবাই নাচছিল আর আমি কাঁদছিলাম। আমি এতটাই খুশি ছিলাম।‘
আরও পড়ুন: ‘বাবার থেকে আর টাকা চাইতে হবে না’, ট্রাক চালকের ছেলের নিলামে ৫.২০ কোটি! কে মঙ্গেশ যাদব?
ধারাবাহিক ভাবে কার্তিক ছন্দে
কার্তিক সাম্প্রতিক বিজয় হাজারে ট্রফিতে রাজস্থানের হয়ে ৮ ম্যাচে ১১৮.০৩-এর দুরন্ত স্ট্রাইক রেটে ৪৪৫ রান করেছিলেন। মূলত চার নম্বরে ব্যাট করা কার্তিক রাজস্থানের মিডল অর্ডারে ধারাবাহিক পারফর্মার। সৈয়দ মুসতাক আলি ট্রফিতে কার্তিক দুই মরসুম মিলিয়ে ১১ ইনিংসে ১৬২.৯২-এর দ্রুত স্ট্রাইক রেটে ৩৩৪ রান করেছেন।২০২৪ সালে শের-ই-পাঞ্জাব টি-টোয়েন্টিতেও মুগ্ধ করেছিলেন, যেখানে তিনি মাত্র ১০ ইনিংসে ১৬৮.০১ স্ট্রাইক রেটে ৪৫৭ রান করেছিলেন। যা একজন বিস্ফোরক তরুণ ব্যাটার হিসেবে তাঁর খ্যাতিকে আরও জোরালো করেছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
