Provident Fund : বর্তমান সময়ে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য সঞ্চয় প্রকল্প হল পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিপিএফ (PPF)। নিশ্চিত রিটার্ন এবং আয়করে বিশেষ ছাড় মেলার কারণে বহু মানুষ এই সরকারি স্কিমে টাকা বিনিয়োগ করেন। এই স্কিমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, বছরে মাত্র ৫০০ টাকা জমা দিলেই অ্যাকাউন্টটি সচল রাখা যায়।
তবে অনেক সময় ব্যস্ত জীবনের ইঁদুরদৌড়ে আমরা সময়মতো টাকা জমা দিতে ভুলে যাই। ফলে অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় বা ‘বন্ধ’ (Inactive) হয়ে পড়ে। আপনার সাথেও যদি এমনটা হয়ে থাকে, তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই। বন্ধ অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু করা অত্যন্ত সহজ।
বন্ধ অ্যাকাউন্টের জমানো টাকার ওপর কি সুদ পাওয়া যায়?
অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলেও পিপিএফ-এ জমা থাকা টাকা নিয়ে প্যানিক করার কিছু নেই। আপনার অ্যাকাউন্টে আগে থেকে যে টাকা জমা ছিল, তার ওপর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সুদের হিসেব চলতেই থাকবে। তবে অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকার বেশ কিছু অসুবিধা রয়েছে। যেমন— অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় থাকা অবস্থায় আপনি এর বিপরীতে কোনো লোন (ঋণ) নিতে পারবেন না, এমনকি দরকারে আংশিক টাকাও তুলতে (Partial Withdrawal) পারবেন না।
নিষ্ক্রিয় PPF অ্যাকাউন্ট কীভাবে চালু করবেন?
আপনার বন্ধ পড়ে থাকা পিপিএফ অ্যাকাউন্টটি আবার সচল করতে নিচে দেওয়া সহজ ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসে যান: যে ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসের শাখায় আপনি পিপিএফ অ্যাকাউন্টটি খুলেছিলেন, সেখানে সরাসরি যোগাযোগ করুন।
আবেদনপত্র জমা দিন: অ্যাকাউন্টটি পুনরায় চালু করার জন্য সেখানে একটি লিখিত আবেদনপত্র (Written Application) জমা দিতে হবে।
বকেয়া টাকা জমা দিন: অ্যাকাউন্টটি যত বছর বন্ধ ছিল, প্রতি বছরের জন্য ন্যূনতম ৫০০ টাকা করে বিনিয়োগের অর্থ হিসাব করে জমা দিতে হবে।
জরিমানা বা পেনাল্টি দিন: বকেয়া বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রতি বছরের জন্য ৫০ টাকা করে জরিমানা দিতে হবে।
একটি সহজ উদাহরণ: ধরুন, আপনার পিপিএফ অ্যাকাউন্টটি ৪ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। অ্যাকাউন্টটি চালু করতে আপনার খরচ হবে— ৪ বছরের ন্যূনতম বিনিয়োগ ৪ × ৫০০ = ২,০০০ টাকা এবং ৪ বছরের জরিমানা ৪ × ৫০ = ২০০ টাকা। অর্থাৎ মোট ২,২০০ টাকা জমা দিলেই আপনার অ্যাকাউন্টটি আবার আগের মতো সচল হয়ে যাবে।
১৫ বছরের আগেই কি PPF অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব?
সাধারণত পিপিএফ-এর ম্যাচুরিটি পিরিয়ড বা মেয়াদ হলো ১৫ বছর। তবে কিছু বিশেষ জরুরি পরিস্থিতিতে, অ্যাকাউন্ট খোলার ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর আপনি এটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে (Premature Closure) সম্পূর্ণ টাকা তুলে নিতে পারেন। নিয়মগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসা: ঈশ্বর না করুন, যদি অ্যাকাউন্টধারী নিজে, তাঁর স্ত্রী বা সন্তানদের কোনো মারাত্মক রোগ বা চিকিৎসার জন্য জরুরি টাকার প্রয়োজন হয়, তবে ৫ বছর পর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা যাবে।
২. সন্তানদের উচ্চশিক্ষা: অ্যাকাউন্টধারী নিজে অথবা তাঁর সন্তানদের কলেজ বা উচ্চশিক্ষার খরচের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখিয়ে ৫ বছর পর এই ফান্ড বন্ধ করে টাকা তুলতে পারেন।
৩. স্থায়ীভাবে বিদেশ যাত্রা: আপনি যদি ভারতের নাগরিকত্ব ছেড়ে পাকাপাকিভাবে অন্য কোনো দেশে চলে যান (Permanently Shifting), তাহলেও পিপিএফ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে পুরো টাকা তুলে নেওয়ার অনুমতি মিলবে।
৪. অ্যাকাউন্টধারীর মৃত্যু হলে: যদি দুর্ভাগ্যবশত ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই অ্যাকাউন্টধারীর মৃত্যু হয়, তবে অ্যাকাউন্টটি নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে নমিনি (Nominee) বা আইনি উত্তরাধিকারী অ্যাকাউন্টটি আর চালিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন না। অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার ঠিক আগের মাস পর্যন্ত জমা হওয়া সম্পূর্ণ সুদসহ সমস্ত টাকা নমিনিকে দিয়ে দেওয়া হবে।
ABI News: ফিক্সড ডিপোজিটে সুদের হার কমাল এসবিআই,১৬ মে থেকে কার্যকর হবে নতুন সুদের হার
