জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অজিত আগরকরের (Ajit Agarkar) জাতীয় নির্বাচক কমিটি মুম্বইয়ে, গত শনিবার (২০ ডিসেম্বর) আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করেছে (India’s T20 World Cup squad)। স্কোয়াড দেখেই চমকে গিয়েছে বাইশ গজ। ১৫ সদস্যের তালিকায় নাম নেই খোদ ভারতের টি-২০ দলের নবনিযুক্ত সহ-অধিনায়ক শুভমন গিলের (Shubman Gill)। যিনি আবার সদ্যই দেশের টেস্ট এবং ওডিআই দলের পূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিনায়ক হয়েছেন রোহিত শর্মার (Rohit Sharma) স্থলাভিষিক্ত হয়ে। চরম বিস্ময়কর ঘটনা তবে গিলকে ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়ক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সূর্যকুমার যাদবদের (Suryakumar Yadav) দলে ফিরে এসে সহ-অধিনায়কের পদে উন্নীত হয়েছিলেন গিল, কিন্তু ধারাবাহিক ভাবে হতশ্রী পারফরম্যান্সের পরই বিসিসিআই তাঁকে ভারতের টি-টোয়েন্টি দল থেকে বসিয়ে দিল।
আরও পড়ুন: ক্রিকেট মহলকে চমকে বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ গিল, ব্রাত্য শামি-পন্থও…
গিলকে নিয়ে গোলযোগ!
এই নিয়ে গিল পরপর দু’বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়লেন! গতবারও সুযোগ পাননি তরুণ ওপেনার। টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে গিলের অন্তর্ভুক্তিও রীতিমতো বিতর্কিত ছিল। মূলত ভারতের ওপেনিং জুটির উপর গিলের প্রভাব নিয়েই বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। টেস্ট এবং ওডিআই-তে গিল নিজেকে যত ভালো ব্যাটার হিসেবে প্রমাণ করেছেন, টি-টোয়েন্টিআই-তে তাঁর ধারে কাছেও যাননি। তাঁর মধ্যে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে। যা সম্ভবত নির্বাচক কমিটি উপলব্ধি করেছিল। যদিও তারা এই গিলকে বসানোর সিদ্ধান্ত দলের কম্বিনেশনের সঙ্গেই লিংক করেছে। ভারতীয় দলে সেট সঞ্জু স্যামসন যেমন রয়েছে তেমনই সৈয়দ মুসতাক আলি ট্রফিতে আগুনে পারফর্ম করে ফের জাতীয় দলে কামব্যাক করেছেন ঈশান কিষান। গিল শুধুই ব্যাট করতে পারেন, তবে স্যামসন- কিষান উইকেটকিপিংটাও পারেন।
কেন বাদ পড়লেন গিল?
বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া বিশ্বকাপের দল ঘোষণার পরেই, নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান অজিত আগরকর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন দল নিয়ে। গিলের বাদ পড়ার প্রসঙ্গে আগরকর বলেন, ‘শুভমন দলের সহ-অধিনায়ক ছিল। সে এখন দলে নেই, তাই অন্য কাউকে সেই দায়িত্বে আসবে। এর আগে যখন শুভমন টি-টোয়েন্টি খেলছিল না এবং টেস্ট ক্রিকেট খেলছিল, তখন অনেক টি-টোয়েন্টিআই ম্যাচের সঙ্গে টেস্টের সংঘর্ষ হচ্ছিল। সেই সময় অক্ষর প্যাটেল দলের ভাইস ক্যাপ্টেন ছিল। সহ-অধিনায়ক সম্পর্কে এটুকুই বলার। ধারাবাহিকতার বিষয়ে বলতে গেলে, আমি বলতে চাই যে আমরা বর্তমানে বিভিন্ন কম্বিনেশন পরীক্ষা করছি। যদি উইকেটরক্ষক টপ অর্ডারে ব্যাট করে, তাহলে আমাদের ভাবনা ছিল যে কোনও সমস্যা হলে আরেকজন উইকেটরক্ষককে দলে রাখা। জিতেশ দলে ছিল। আবারও বলব, সে খুব বেশি ভুল কিছু করেনি। আমি বলতে চাই, শুভমন কেমন মানের খেলোয়াড় তা আমরা জানি। সম্ভবত এই মুহূর্তে তার রান কিছুটা কম পড়ে গিয়েছে। দলে সুযোগ না পাওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক। গত বিশ্বকাপেও সে সুযোগ পায়নি কারণ আমরা ভিন্ন কম্বিনেশন নিয়ে খেলেছিলাম। ওপেনিংয়ে দু’জন উইকেটকিপারকে রাখা হবে। আমরা এভাবেই চেষ্টা করতে চাই। অবশ্যই টিম ম্যানেজমেন্টই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবে যে তারা কখন কী রকম কম্বিনেশন নিয়ে খেলবে। রিঙ্কু এসেছে, যে মিডল থেকে লোয়ার মিডল অর্ডারে কিছুটা গভীরতা বাড়ায়। এটা আসলে কম্বিনেশনের ব্যাপার। যখন ১৫ জনের দল গড়তে হয়, তখন কাউকে না কাউকে বাদ পড়তেই হবে। এবং দুর্ভাগ্যবশত, এই মুহূর্তে গিল।’
আরও পড়ুন: আগুনের নাম ঈশান কিষান, ধোনির বিশ্বরেকর্ড ভেঙেই কামব্যাক! ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে…
আগরকরের জোর দলের কম্বিনেশনেই
আগরকর আরও বলেন, ‘আমার সঙ্গে আপনার মতভেদ থাকতেই পারে। কখনও কখনও যখন আপনি খেলোয়াড়দের নিয়ে আলোচনা করেন, তখন আমাদের মতামতের তুলনায় অন্য কারও মতামত বোঝাটা কিছুটা কঠিন হয়ে যায় আমাদের। আমরা এখনও মনে করি গিল একজন কোয়ালিটি প্লেয়ার। ফর্মের ক্ষেত্রে উত্থান-পতন তো থাকেই, এটা স্বাভাবিক। তবে, ব্যাপারটা আসলে আমরা কোন কম্বিনেশনে খেলতে চাই, তা নিয়েই বেশি। অথবা টিম ম্যানেজমেন্ট কোন কম্বিনেশনে খেলতে স্বচ্ছন্দ বোধ করে। গৌতম গম্ভীর এবং সূর্যকুমারের কী ভাবনা, কে টপ অর্ডারে ব্যাট করবে, এসব বিষয়ও আছে। অভিষেক গত এক বছর ধরে বা তারও কিছু বেশি সময় ধরে যা করেছে তা স্পষ্টই। এবং আমরা অনুভব করেছি যে, এই মুহূর্তে টপ অর্ডারে একজন উইকেটকিপার থাকলে দলের অন্য সব জায়গায় আমাদের অনেক বেশি দৃঢ়তা আসে, যা আমাদের বিভিন্ন কম্বিনেশনে খেলার সুযোগ করে দেয়। যেমনটা আমি বললাম ১৫ জনকে বেছে নিতে হবে। কাউকে না কাউকে বাদ পড়তে হবেই। এবার গিল বাদ পড়েছে। এর কারণ এই নয় যে, সে ভালো খেলোয়াড় নয়। টিম ম্যানেজমেন্ট এই কম্বিনেশনগুলোই খুঁজছে। এবং সৌভাগ্যবশত, ভারতীয় ক্রিকেটে আমাদের হাতে কিছু বিকল্পও আছে।’
আরও পড়ুন: সময় শেষ, অস্তাচলে অধিনায়ক সূর্য! বিশ্বকাপের দল ঘোষণার আগের দিনই এল বিরাট ব্রেকিং…
উইকেটকিপারই দলের প্রাধান্য
আগরকরের সংযোজন, ‘যখন কেউ অন্য কোথাও টেস্ট খেলছে এবং টি-টোয়েন্টি খেলছে না, তার মানে এই নয় যে এটি একটি ভিন্ন দল। যখন তারা দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিল, যেখানে সঞ্জু দুটি সেঞ্চুরি করেছিল, বা তিলক সেঞ্চুরি করেছিল, তখন টেস্ট দলের কোনও খেলোয়াড় সেখানে যায়নি, কারণ টেস্ট দল অস্ট্রেলিয়ায় ছিল। তাই, কখনও কখনও এই ধরনের চ্যালেঞ্জ আসে, যেখানে কিছু খেলোয়াড় একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাট থেকে বাদ পড়ে কারণ তারা অন্য কিছু খেলছে। এটা নিয়ে বেশি আলোচনা না করাই ভালো। এই মুহূর্তে যেমনটা আমি বললাম, গত রাতে সঞ্জু ওপেন করেছে। আমাদের কাছে ব্যাকআপ হিসেবে আরেকজন উইকেটরক্ষক আছে যে ওপেন করে। সুতরাং, এটি স্পষ্টভাবে বলে দেয় যে এই বিষয়ে আমাদের ভাবনাটা কী। আর এ কারণেই গিল বাদ পড়েছে।’
একই সুরে সূর্যকুমার-আগরকর
গিলের বাদ পড়ার প্রসঙ্গে অধিনায়ক সূর্যকুমার বলেন, ‘যে কোনও দলীয় খেলায় যেমন আমরা যতগুলো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেছি, তাতে ২-৩ জন খেলোয়াড় দলে আসা-যাওয়া করে। যখন খেলোয়াড়রা ফিরে এসেছে, তারা সুযোগ পেয়েছে। আমরা এখন যেমন দল আছে, আমরা তাতেই খুশি। আমাদের বর্তমান স্কোয়াডে ২-৩টি কম্বিনেশন প্রস্তুত আছে। তাই এখন যা আছে তা নিয়েই খুশি। আমরা এমন একটা পর্যায়ে এসেছি, আমি, গৌতি ভাই এবং অন্য ব্যাটাররা একমত যে, আমরা বাঁ-হাতি-ডানহাতি জুটি খুঁজছি না। এটা একটু বেশিই গুরুত্ব পায়। আমরা তিলকের জন্য ৩ নম্বর এবং আমার জন্য ৪ নম্বর পজিশন ঠিক করেছি, এবং তারপর যে যেখানে স্বচ্ছন্দ বোধ করে। আমরা তিলকের জন্য এই ভূমিকাটি নির্দিষ্ট করে দিতে চাই, যাতে সে তার ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারে এবং সেই অবস্থানে খুশি থাকে।’
আরও পড়ুন: ‘ভণ্ড’ বিরুষ্কাকে ছিঃ ছিক্কার নেটদুনিয়ার, শেষে বিশেষ ভাবে সক্ষম ব্যক্তির সঙ্গেও…
গিল-রান-চোট
একেতে তো গিল রান করতে ভুলে গিয়েছেন। তারউপর ইদানিং চোটের সমস্যায় ভুগছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট সিরিজের সময় তিনি ঘাড়ে চোট পেয়ে আহত হয়েছিলেন। যার জন্য তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল এবং এর ফলে তিনি ওডিআই সিরিজ থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন। টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি-২০আই সিরিজে ৪, ০ এবং ২৮ রানের ইনিংস খেলার পর, লখনউতে চতুর্থ ম্যাচের আগে তিনি আবার অনুশীলনে চোট পান। আমদাবাদে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া গিল ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেরা পারফরম্যান্স করতে পারেননি। জুলাই ২০২৪ থেকে অগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত গিল ভারতের হয়ে একটিও টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেননি। কিন্তু এশিয়া কাপে দলে ফিরেও গিল সাত ম্যাচ থেকে মাত্র ১২৭ রান করতে সক্ষম হয়েছিলেন। যার মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ৪৭। অস্ট্রেলিয়াতেও গিল রান তুলতে হিমশিম খেয়েছিলেন। পাঁচ টি-টোয়েন্টিআই-তে তাঁর সংগ্রহ ছিল মাত্র ১৩২ রান। এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজও এর চেয়ে ভালো ছিল না। ইনিংসের শুরুতে গিল রান তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় ভারত অভিষেক শর্মা এবং স্যামসন জুটির বিস্ফোরণ পাচ্ছিল না।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত: সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), অক্ষর প্যাটেল (সহ-অধিনায়ক), অভিষেক শর্মা, তিলক ভার্মা, সঞ্জু স্যামসন, রিঙ্কু সিং, শিবম দুবে, হার্দিক পাণ্ডিয়া, ওয়াশিংটন সুন্দর, জসপ্রীত বুমরা, কুলদীপ যাদব, বরুণ চক্রবর্তী, অর্শদীপ সিং, ঈশান কিষান এবং হর্ষিত রানা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
