SIP : বিনিয়োগ (Investments Tips) করতে গিয়ে আমরা অনেকেই করে ফেলি এই ভুল। নিয়ম করে প্রতিমাসে ইনভেস্টমেন্ট বজায় রাখতে মিউচুয়াল ফান্ডে Systematic Investment Plans (SIP) বা এসআইপি-র জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। কিন্তু জানেন কি, আপনার অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় যদি একটি এসআইপি কিস্তিও ফেল হয়, তবে আপনাকে বড়সড় আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। এই ছোট ভুলটি আপনার দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
কেন জরিমানা করা হয় ?
ভারতে বেশিরভাগ এসআইপি এখন NACH (National Automated Clearing House) ম্যান্ডেটের মাধ্যমে যুক্ত থাকে। এটি ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI) দ্বারা পরিচালিত একটি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি। এর ফলে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট তারিখে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়। কিন্তু যদি নির্ধারিত দিনে অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকে, তবে ব্যাঙ্ক প্রতিটি ব্যর্থ লেনদেনের জন্য মোটা অঙ্কের জরিমানা আদায় করে।
জরিমানার অঙ্কটা ঠিক কত ?
মিউচুয়াল ফান্ড পর্যবেক্ষকদের মতে, একটি কিস্তি ব্যর্থ হলে ব্যাঙ্কগুলি সাধারণত ২৫০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ধার্য করে। এর সঙ্গে যোগ হয় ১৮% জিএসটি (GST)।
এখানেই শেষ নয়, বিপত্তি বাড়ে যখন একাধিক এসআইপি একই দিনে থাকে। ধরুন, আপনার ৫টি এসআইপি একই দিনে নির্ধারিত এবং আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা নেই। সেক্ষেত্রে যদি প্রতি ব্যর্থ ডেবিটে ৫০০ টাকা করে চার্জ লাগে, তবে একদিনেই আপনার পকেট থেকে ২,৯৫০ টাকা (জিএসটি সহ) বেরিয়ে যাবে। অর্থাৎ, ১,০০০ টাকার এসআইপি দিতে গিয়ে আপনাকে অতিরিক্ত ৫৯০ টাকা জরিমানা গুনতে হতে পারে!
দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয় এই ক্ষেত্রে
কেবল তাৎক্ষণিক টাকাই নয়, এসআইপি মিস করলে আরও কিছু ক্ষতি হয়:
চক্রবৃদ্ধি মুনাফা বা Compounding-এর ক্ষতি: কিস্তি মিস করার ফলে আপনার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য পূরণ হতে দেরি হয়।
ব্যাঙ্কিং সম্পর্কে প্রভাব: ঘনঘন কিস্তি ফেইল হলে ব্যাঙ্কের সঙ্গে আপনার লেনদেনের বিশ্বস্ততা কমে যেতে পারে।
প্রতিকারের সহজ উপায়
বিনিয়োগকারীরা কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে এই বাড়তি খরচ এড়াতে পারেন:
বাফার ব্যালেন্স বজায় রাখা: এসআইপি ডেটের অন্তত দু-তিন দিন আগে অ্যাকাউন্টে প্রয়োজনীয় টাকা আছে কি না দেখে নিন।
তারিখ পরিবর্তন বা স্ট্যাগারড এসআইপি: সব এসআইপি মাসের এক তারিখে না রেখে মাসের বিভিন্ন দিনে ছড়িয়ে দিন। এতে সব টাকা একসঙ্গে কাটার চাপ থাকবে না।
রিমাইন্ডার সেট করা: কিস্তির তারিখের আগে মোবাইলে রিমাইন্ডার দিয়ে রাখুন।
হায়ার ম্যান্ডেট লিমিট: ওয়ান-টাইম ম্যান্ডেট (OTM) করার সময় সীমার পরিমাণ একটু বেশি রাখুন, যাতে ভবিষ্যতে এসআইপি-র পরিমাণ বাড়ালেও নতুন করে অনুমোদনের ঝামেলা না থাকে।
