আজ আপনি কী খেলেন সেটা নিয়ে কি কাল বা পরে কখনও ভাবেন? আপনারা কেউই তা নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবেননি। আমরা কেউই ভাবি না। কিন্তু আমরা যে সব খাবার খাচ্ছি সেগুলোর গুণগত মান সঠিক তো? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সম্প্রতি এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যা আমাদের সবাইকে স্তম্ভিত করে তুলেছে। এই রিপোর্ট পাওয়ার প্রকাশিত হওয়ার পর খাবার খাওয়া নিয়ে ভাবতে হচ্ছে দ্বিতীয়বার। আমরা কী খাচ্ছি? কেনই বা খাচ্ছি? কোনও উত্তর নেই মানুষের কাছে।
কী জানাচ্ছে WHO ?
WHO-এর রিপোর্ট বলছে, শুধুমাত্র ২০২১ সালেই দূষিত খাবার প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং আরও ৮৬.৬ কোটি মানুষকে গুরুতর অসুস্থ করে তুলেছে। এগুলো কোনও নিছক পরিসংখ্যান নয়, সত্যি। সব বয়সের মানুষই আক্রান্ত হচ্ছেন, তবে ভয়ের বিষয় হল ছোটো ছোটো শিশুরাও এর কবলে বেশি আক্রান্ত।
তবে এই বিষয়টি মেনে নেওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠছে এই কারণে যে, বর্তমান উন্নত প্রযুক্তি ও জীবনধারার যুগে এই মৃত্যুগুলোর বেশিরভাগই না ঘটলেও চলত। বিশুদ্ধ জল, মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সঠিক ও ভাল খাদ্য খাওয়া বা সংরক্ষণ কোনও অস্বাভাবিক চাহিদা নয়। তবুও, বিশ্বের বেশিরভাগ জায়গাতেই এগুলোকে অবহেলার চোখে দেখা হয়।
প্রাণ হারাচ্ছেন শিশুরা
WHO-এর এই পরিসংখ্যানটি প্রত্যেক বাবা-মায়ের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৯ শতাংশ, অথচ খাদ্যবাহিত রোগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই তাদের মধ্যে ঘটে। প্রাপ্তবয়স্কদের মতো তাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এখনও সেভাবে গড়ে ওঠেনি, যার ফলে দূষিত খাবারে লুকিয়ে থাকা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং পরজীবীগুলো তাদের অনেক বেশি দ্রুত আক্রমণ করে। কখনও কখনও পরিস্থিতি হাতের নাগালের বাইরে চলে যায়। আর এখানেই ঘটে বিপত্তি। ছোট শিশুদের জন্য ডায়রিয়া শুধু কষ্টদায়কই নয়, এটিতে মৃত্যুও হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুদের অবস্থার অবনতি হতে পারে।
কেন ভয়ের ?
আমরা সাধারণত খাদ্যে বিষক্রিয়াকে একটি তাৎক্ষণিক বিষয় হিসেবেই ভাবি। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনটি আমাদের আরও নীরব এবং মারাত্মক এক দিকের মুখোমুখি করিয়েছে। বলা হয়েছে, সীসা এবং মিথাইলমার্কারির মতো ভারী ধাতুগুলো আমাদের খাদ্য সরবরাহে মিশে যাচ্ছে, এবং এটি পেটের সাধারণ সংক্রমণের মতো নয়, এগুলোর প্রভাব আপনি প্রথমে টের পাবেন না। অন্তত প্রথম দিকে তো নয়ই। এই রাসায়নিক পদার্থগুলো শিশুদের মস্তিষ্ককে টার্গেট করে। এর পরিণতিতে শিশুর ব্রেনের বিকাশ ব্যাহত হওয়া, শেখার ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং স্থায়ী স্নায়বিক ক্ষতি হচ্ছে। এগুলো জ্বর বা ফুসকুড়ির মাধ্যমে প্রকাশ পায় না। এগুলো প্রকাশ পায় বহু বছর পরে। ক্লাসে অন্য শিশুর সঙ্গে বা অন্যদের সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খায়।
২০২১ সালে খাদ্যবাহিত মোট মৃত্যুর ৭৩ শতাংশই রাসায়নিক ঝুঁকির কারণে ঘটেছিল। ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের কারণে নয়, যেমনটা আমাদের বেশিরভাগই মনে করে থাকি। এই মৃত্যুগুলোর ৪২ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল অজৈব আর্সেনিক। ৩১ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল এটি। এই উপাদানগুলো হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং ক্যান্সারের কারণ, এবং এগুলো মানবজীবনের সবচেয়ে মৌলিক জিনিস খাবারের মাধ্যমেই মানুষের ভেতরে পৌঁছাচ্ছে।
Check out below Health Tools-
Calculate Your Body Mass Index ( BMI )
Calculate The Age Through Age Calculator
Nipah Virus: নিপা-আতঙ্কে কি খেজুর গুড় খাবেন না? মাংস বা ফলেও ভয়? কীভাবে খাবেন?
