নয়াদিল্লি: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আশায় আপাতত জল ঢেলে দিল পাকিস্তান। ‘অ্যাব্রাহাম চুক্তি’তে পাকিস্তানকে পাশে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। চেয়েছিলেন, পাকিস্তানও যেন ইজ়রায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু পাকিস্তান পরিষ্কার জানিয়ে দিল যে, কোনও ভাবেই ‘আদর্শে’র সঙ্গে সমঝোতা করবে না তারা। (Pakistan on Abraham Accords)
আমেরিকার মধ্যস্থতায় ২০২০ সালে ‘অ্য়াব্রাহাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার আওতায় ইজ়রায়েল এবং বেশ কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তাজনিত সম্পর্ককে স্বাভাবিক করে তোলা হয়। ইহুদি, খ্রিস্টান এবং মুসলিম- তিন ধর্মবিশ্বাসের মানুষের কাছে শ্রদ্ধেয় অ্যাব্রাহামের নামে নামকরণ করা হয় ওই চুক্তির। ‘অ্য়াব্রাহাম চুক্তি’কে অভিন্ন ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে যেমন তুলে ধরা হয়, তেমনই স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ইজ়রায়েলের অস্তিত্বের সিলমোহরও হয়ে ওঠে ওই চুক্তি। (US-Pakistan Relations)
আরও পড়ুন: বলিউডে ‘নিষিদ্ধ’ হলেন রণবীর সিংহ? আর অভিনয় করতে পারবেন না? যে কারণে জল এতদূর গড়াল…
প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরাই ওই ‘অ্য়াব্রাহাম চুক্তি’তে সই করে। পরবর্তীতে মরক্কো, সুদানও যোগ দেয়। কাজাখস্তানও ওই চুক্তিতে সই করেছে। সম্প্রতি পাকিস্তান এবং দেশের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে সখ্য় বাড়ায় ট্রাম্প আশাবাদী ছিলেন যে, ইসলামাবাদও চুক্তিতে সই করবে। কিন্তু সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। ট্রাম্পের প্রস্তাব পাকিস্তানের ‘মৌলিক আদর্শে’র পরিপন্থী বলে মত তাঁর।
আরও পড়ুন: তৃণমূলকে ডোবাল কে? পদ ছেড়েই বিস্ফোরক কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মমতাকে নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য
আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শান্তি-আলোচনায় যুক্ত সব দেশকে ‘অ্য়াব্রাহাম চুক্তি’র অন্তর্ভুক্ত হতে সম্প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। আমিরশাহি এবং বাহরাইন আগেই সই করেছে। সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং জর্ডনকেও যোগদানে আহ্বান জানান ট্রাম্প। পাকিস্তান ওই প্রস্তাবে সাড়া দেয় কি না, তা জানতে মুখিয়ে ছিল আন্তর্জাতিক মহল। কিন্তু সেই প্রস্তাব কার্যত খারিজ করে দিলেন দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।
পাকিস্তানের Samaa TV-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খোলাখুলি বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন আসিফ। তাঁর বক্তব্য, “ব্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করি, ওই চুক্তিতে যোগ দেওয়া উচিত নয় আমাদের, কারণ সেটি আমাদের মৌলিক আদর্শের পরিপন্থী। পাকিস্তান বরাবর বলে এসেছে, ১৯৬৭ সালের মানচিত্র অনুযায়ী প্যালেস্তাইন এবং তাদের রাজধানী হিসেবে জেরুসালেমকে স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত ইজ়রায়েলের অস্তিত্ব মেনে নেওয়ার প্রশ্ন নেই। ৭৮ বছরের ইতিহাসে ইজ়রায়েকে স্বীকৃতি দেয়নি ইসলামাবাদ। যে কারণে পাকিস্তানের নাগরিকরা নিজের দেশের পাসপোর্টে ইজ়রায়েলও যেতে পারেন না। আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। আমাদের কাছে এটা গ্রহণযোগ্য নয়।”
ইজ়রায়েলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আসিফ। তাঁর বক্তব্য, “একদিনের জন্য যাদের বিশ্বাস করার উপায় নেই, তাদের পাশে কী ভাবে বসা সম্ভব?” ইজ়রায়েলের সঙ্গে ‘স্বাভাবিক’ সম্পর্ক স্থাপন নিয়ে বরাবরই কুণ্ঠা প্রকাশ করেছেন আসিফ। গত মাসেই ইজ়রায়েলকে ‘মানবতার অভিশাপ’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তোলেন। এবার সরাসরি ট্রাম্পের প্রস্তাব খারিজ করে দিলেন।
পাকিস্তানের পক্ষে ট্রাম্পের প্রস্তাব মেনে নেওয়া অসম্ভব বলে মনে করছেন কূটনীতিকদের একাংশও। কারণ ঐতিহাসিক ভাবে ইজ়রায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে এসেছে তারা। স্বাধীন প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত ইজ়রায়েল রাষ্ট্রেকে স্বীকৃতি দেওয়া যাবে না বলে মত তাদের। ট্রাম্পের প্রস্তাব মানলে দেশের অন্দরেই বিরোধিতার মুখে পড়তে হবে শেহবাজ শরিফের সরকারকে। সেই সঙ্গে মুসলিম দেশগুলিরও বিরাগভাজন হতে হবে, যাদের কাছ থেকে মোটা টাকা আর্থিক সহযোগিতা পায় ইসলামাবাদ।
কিন্তু আমেরিকার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্য়ান করার দিকে পাকিস্তান এগোবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। কারণ বহু চেষ্টার পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুসম্পর্ক কায়েমে সফল হয়েছে ইসলামাবাদ। ট্রাম্পের আমন্ত্রণে হোয়াইট হাউসে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে পৌঁছন মুনির। পাকিস্তানে মোটা টাকা বিনিয়োগের কথাও বলেছেন ট্রাম্প। এমতাবস্থায় অস্বস্তি বাড়ছে পাকিস্তানের।
