সন্দীপ সরকার, কলকাতা: একটা সময় ছিল যখন ইডেনে কোনও ক্রিকেট ম্যাচ থাকলেই তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-মন্ত্রীদের দেখা যেত। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে বদলে গিয়েছে সিএবি-র সেই চেনা ছবিও। এখন ম্যাচের সময় গ্যালারিতেও এমন অনেক দর্শকের দেখা মিলছে, যাঁদের গলায় গেরুয়া উত্তরীয়। মুখে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান। ক্রিকেট মাঠেও পরিবর্তনের হাওয়া।
সিএবি-র অন্দরেও পরিবর্তনের রং। বিজেপি নেতা-মন্ত্রীদের আনাগোনা বেড়েছে। বিজেপির বিধায়ক, রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ মাঝে মধ্যে ইডেনে খেলা দেখতে আসতেন। স্ত্রী রিঙ্কুকে নিয়ে দিলীপ আগেও ম্যাচ দেখেছেন ইডেনে। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচ দেখতে এসে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন। সেদিন সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় গেরুয়া উত্তরীয় পরিয়ে দিলীপকে বরণ করেছিলেন।
রবিবার ইডেনে আইপিএলের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স ও দিল্লি ক্যাপিটালস। সেই ম্যাচ দেখতে এদিন ইডেনে আসেন সস্ত্রীক দিলীপ ঘোষ। তবে তিনি একা নন। এসেছিলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়, বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত, সৌরভ শিকদাররা।
ম্যাচ দেখে লকেট বলেন, ‘একটা সময় ইডেনে এসে খেলা দেখেছি। তবে আজ এলাম ১২ বছর পর। এক যুগ পরে। ভাল লাগছে এতদিন পরে ইডেনে এসে।’ রাসবিহারী কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে বিধানসভা ভোটে জেতা স্বপন দাশগুপ্তও এসেছিলেন খেলা দেখতে। ছিলেন দমদম উত্তরের বিধায়ক সৌরভ শিকদার। তবে ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের জন্য প্রায় প্রত্যেক ম্যাচেই আলাদা করে বন্দোবস্ত করা থাকলেও, ইডেনে আসেননি তিনি।
ম্যাচের ফলাফলে অবশ্য কেকেআর সমর্থকেরা হতাশ। এমনিতেই বিকেলের ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালস জিতে যাওয়ায় কেকেআরের প্লে অফের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিল। তার ওপর স্বস্তির প্রলেপ হতে পারত দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে বড় জয়। যদিও ম্যাচে ৪০ রানে হেরে গেল কেকেআর। কার্যত একপেশেভাবে। দিল্লির ২০৩/৫ তাড়া করে ১৬৩ রানে অল আউট হয়ে যায় কেকেআর। ১৪ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের সাত নম্বরে শেষ করল নাইটরা।
ম্যাচে দুই ইনিংসের বিরতিতে একটি বিশেষ লেজার শোয়ের আয়োজন করেছিল সিএবি। যে খবর প্রথম লিখেছিল এবিপি লাইভ বাংলা। প্রায় ২ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের লেজার শো হল। সেখানে কপিল দেবের ভারতের ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জয় থেকে শুরু করে ১৯৮৭ সালে এই মাঠেই অ্যালান বর্ডারের অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া, বাংলার রঞ্জি জয়, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উত্থান, কিংবদন্তি ক্রিকেট প্রশাসক জগমোহন ডালমিয়া, ২০০১ সালের সেই ঐতিহাসিক টেস্ট ম্য়াচ – নানা মুহূর্ত তুলে ধরা হল।
তবে সেই শোয়ে মন ভরল না দর্শকদের। অনেকেই বলছিলেন, লেজার শো মোটামুটি হয়েছে। চোখধাঁধানো কিছু নয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে খেলার মাঠে আরও অত্যাধুনিক লেজার শো হয় বলেও আলোচনা চলছিল। শোনা গেল, প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে এই শোয়ের জন্য। কারও কারও প্রশ্ন, এরকম শো আরও পেশাদার কোনও সংস্থার দ্বারা আরও ঝকঝকেভাবে কি করা যেত না?
আরও পড়ুন: রাহুল-ঝড় আর কুলদীপের ঘূর্ণিতে ইডেনে লজ্জার পরিণতি কেকেআরের, শেষ করল সাত নম্বরে
