কলকাতা: হঠাৎ করে আপনি কি আয়কর দফতরের নোটিস পেয়েছেন? আসলে আয়কর দফতরের নোটিস পেলেই অনেক ক্ষেত্রেই করদাতার মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। তবে বাস্তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ধরনের নোটিস শুধুমাত্র কিছু তথ্য যাচাই বা অতিরিক্ত নথি চাওয়ার জন্য পাঠানো হয়। সঠিক সময়ে শান্তভাবে উত্তর দিলেই সাধারণত সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। ফলে আয়কর দফতরের পাঠানো নোটিসকে সরকারি যোগাযোগ হিসেবেই দেখা উচিত।
আরও পড়ুন: আধারে জন্ম তারিখ ভুল আছে? ঠিক করতে কী কী নথি প্রয়োজন জানিয়ে দিল UIDAI
অধিকাংশ ক্ষেত্রে করদাতার জমা করা রিটার্ন সম্পর্কে কিছু তথ্য অস্পষ্ট থাকলে তা স্পষ্ট করার জন্য এমন নোটিস পাঠিয়ে থাকে আয়কর দফতর। আর সেই কারণেই কোনও নোটিস এলে প্রথমেই আতঙ্কিত না হয়ে সেই নোটিসে কী লেখা আছে তা ভাল করে পড়ে নেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, কোনও নোটিস পেলেই আগে যাচাই করা উচিত সেই নোটিস আসল কি না। আয়কর দফতরের অফিসিয়াল ই-ফাইলিং পোর্টালে নোটিস ভেরিফাই করার সুবিধা রয়েছে। এই কাজের জন্য PAN কার্ড, ট্যাক্স সংক্রান্ত নথি, DIN নম্বর এবং মোবাইল নম্বর হাতের কাছে রাখা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: সত্যিই কি আপনার গ্যাস সিলিন্ডার জমা নিয়ে নেবে সরকার? নতুন নিয়ম কী বলছে?
নোটিসে সাধারণত আয়কর আইনের নির্দিষ্ট ধারা উল্লেখ করা থাকে। আর সেই ধারা দেখলেই বোঝা যায় ঠিক কোন কারণে সেই নোটিস পাঠানো হয়েছে। যেমন, Section 142(1) তথ্য চাওয়ার জন্য, Section 143(1) রিটার্ন প্রসেসিং সংক্রান্ত, Section 143(2) বিস্তারিত স্ক্রুটিনির জন্য, Section 148 পুনর্মূল্যায়নের জন্য এবং Section 245 বকেয়া ট্যাক্স সমন্বয় সংক্রান্ত নোটিস।
কোনও নোটিসের উত্তর দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় সব নথি সংগ্রহ করা উচিত। এর মধ্যে থাকতে পারে ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, ফর্ম ১৬, বিনিয়োগের প্রমাণ, পরিচয়পত্র ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য।
এই নোটিসের জবাব দেওয়ার জন্য করদাতাকে আয়কর ই-ফাইলিং পোর্টালে লগ-ইন করতে হবে। তারপর সেখানে ‘Pending Actions’ বিভাগে যেতে হবে। সেখানে ‘e-Proceedings’ অপশন বেছে নিতে হবে। জবাব দেওয়ার জন্য করদাতাকে সেই নোটিস দেখে প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করতে হবে। সফল ভাবে নথি জমা হয়ে গেলে acknowledgement কপি পাওয়া যাবে। যা সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞর বলেন, এই নোটিসের উত্তর যদি কেউ সময়ের মধ্যে না দেন, তাহলে জরিমানা, অতিরিক্ত তদন্ত বা অডিটের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। সেই কারণে নিয়মিত ইমেল বা আয়কর দফতরের পোর্টালে নজর রাখা প্রয়োজন। আর প্রয়োজনে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা আর্থিক পরামর্শদাতার সাহায্য নেওয়াও বুদ্ধিমানের কাজ।
