
পৃথিবীতে পাসপোর্ট মানুষের পরিচয় হিসেবে বিবেচিত হয়, কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই ধারণা পাল্টে যায়। এখানে মানুষ নয়, পাখিও পাসপোর্ট নিয়ে ঘোরে। বিশেষ করে সেই পাখিগুলো, যাদের ধনী ব্যক্তিরা তাদের পরিবারের অংশ মনে করেন, বাজপাখি অর্থাৎ ঈগল।

এরাই সেই ঈগল, যাদের আরব দেশগুলোতে রাজকীয় মর্যাদার গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এবং তাদের ভ্রমণের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য, যা মানুষের জন্য প্রযোজ্য।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাজপাখি পোষা কেবল একটি শখ নয়, বরং এটি একটি ঐতিহ্য। অনেক শেখকে তাদের ছবিতে বাজপাখিকে কাঁধে বসিয়ে দেখা যায়। এদের জন্য ব্যয়বহুল প্রশিক্ষণ হয়, বিশেষ যত্ন নেওয়া হয় এবং দামও হয় লক্ষাধিক।

এখন যখন দাম এত বেশি, তখন ভ্রমণও সাধারণ হতে পারে না। এই কারণে, এই পাখিগুলির জন্য ফ্যালকন পাসপোর্ট জারি করা হয়, যা ছাড়া তারা আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভ্রমণ করতে পারে না।

এই পাসপোর্ট সাধারণ পাসপোর্টের মতোই দেখতে। এতে বাজপাখির নাম, বয়স, প্রজাতি, মালিকের বিবরণ এবং সনাক্তকরণ নম্বর নথিভুক্ত করা হয়। এর মেয়াদ তিন বছর।

তবে মনে রাখতে হবে, প্রতিটি ঈগলের জন্য আলাদা পাসপোর্ট তৈরি করা হয় এবং একটি পাসপোর্ট শুধুমাত্র একটি পাখির জন্য বৈধ।

এই পাসপোর্ট বানাতে প্রায় সাড়ে হাজার টাকা খরচ হয়, তবে আরব দেশগুলির ধনী ব্যক্তিদের জন্য এই পরিমাণ সামান্য। এয়ারলাইনগুলি এদের মধ্যে অনেক বাজপাখির জন্য ফ্লাইটে আলাদা আসন সংরক্ষণ করে। এই পাখিগুলি আসনেই বসে, এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদের সিটবেল্টও লাগানো হয়।

পৃথিবীর কিছু নির্বাচিত দেশেই এই পাসপোর্টটি বৈধ এবং ফ্যালকনকে বিশেষ সুরক্ষিত শ্রেণী হিসেবে গণ্য করা হয়।

ভারতে কোনো পোষা প্রাণী নিয়ে ভ্রমণের বেশ কিছু নিয়ম রয়েছে, তবে ইউএই-তে ঈগলদের জন্য একটি সম্পূর্ণ ব্যবস্থা রয়েছে। এদের জন্য বিশেষ মেডিকেল চেকআপ, সুরক্ষা নথি এবং ভ্রমণের অনুমোদনের নিয়মাবলী নির্ধারিত আছে।
Published at : 17 Nov 2025 01:24 AM (IST)
Tags :
আরও জানুন খুঁটিনাটি
আরও দেখুন
