সন্দীপ সরকার, কলকাতা: বছর আসে, বছর যায়। বারবার আশার আলো জ্বলে। কিন্তু স্ফূলিঙ্গ হয়েই মিলিয়ে যায়, আশার প্রদীপ খুশির দাবানলে পরিণত হয় না।
প্রসঙ্গ, রঞ্জি ট্রফি আর বাংলার ক্রিকেট। ১৯৮৯-৯০ সালের পর থেকে দেশের সেরা টুর্নামেন্টে ট্রফিহীন বাংলা। হাল ফেরাতে এবার কি নতুন কাউকে কোচ করা হবে বাংলার সিনিয়র দলের?
বাংলার সমস্ত বয়সভিত্তিক দলের কোচ ও সাপোর্ট স্টাফদের পদে আবেদন চেয়ে শুক্রবার বিজ্ঞপ্তি জারি করল বঙ্গ ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা সিএবি। গত ২২ এপ্রিল যে খবর প্রথম লিখেছিল এবিপি লাইভ বাংলা। সিনিয়র দলের কোচ হিসাবে লক্ষ্মীরতন শুক্লর চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এবার কি নতুন কাউকে দেখা যাবে দায়িত্বে? জল্পনা তুঙ্গে।

২০২২ সালে বাংলা দলের কোচ হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন লক্ষ্মীরতন শুক্ল। অরুণ লালের পর তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছিল সিএবি। লক্ষ্মীর প্রশিক্ষণে বাংলা দল রঞ্জি ট্রফির ফাইনাল খেলেছে। তবে শেষরক্ষা হয়নি। ট্রফি অধরাই থেকেছে।
শুক্রবার সিএবি-র জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলার সিনিয়র দল, অনূর্ধ্ব ২৩, অনূর্ধ্ব ১৯ ও অনূর্ধ্ব ১৬ দলের কোচ ও সাপোর্ট স্টাফ নিয়োগ করা হবে। সঙ্গে মহিলা দলের কোচও নিয়োগ করা হবে। কোচ হতে আগ্রহীদের আবেদন করতে বলা হয়েছে ১ মে-র মধ্যে।
তবে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে সিএবি নির্ধারিত যোগ্যতামান নিয়ে। বলা হয়েছে, আবেদন করতে হলে তাঁকে ৩০টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ, বা একটি টেস্ট, বা ৩০টি ওয়ান ডে কিংবা ৪৫টি আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচ খেলে থাকতে হবে। যা দেখে ময়দানের কারও কারও মনে প্রশ্ন, সিনিয়র দল ও বাকি বয়সভিত্তিক দলের জন্য একই যোগ্যতামান রাখা হল কেন?
তবে সিএবি থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে সাফ বলা হয়েছে যে, কোচ নিয়োগের সময় বাংলার ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ওপর, ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলিতে ভাল খেলা, বাংলা থেকে জাতীয় দলে আরও বেশি ক্রিকেটারদের সুযোগ করে দেওয়ার ওপর বাড়তি জোর দেওয়া হবে।
বাংলার কোচ হিসাবে কারও নাম কি পছন্দের তালিকায় রয়েছে? সিএবি সূত্রে খবর, এখনও কিছুই চূড়ান্ত নয়। কারা আবেদন করছেন, তার ওপর নির্ভর করে, সাক্ষাৎকার পর্ব মিটিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
তবে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে দুই নাম নিয়ে। একজন, ঋদ্ধিমান সাহা। ভারতীয় দলের প্রাক্তন উইকেটকিপার গত মরশুমে বাংলার অনূর্ধ্ব ২৩ দলের দায়িত্বে ছিলেন। শোনা যাচ্ছে, সিনিয়র দলেরও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে পাপালিকে। সিএবি সূত্রে খবর, বাংলা দলের প্রাক্তন অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারিও নাকি দায়িত্ব নিতে আগ্রহী। বিদায়ী মন্ত্রিসভায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ছিলেন মনোজ। তবে এবারের বিধানসভা ভোটে টিকিট পাননি। আপাতত রাজনীতির ময়দানে নেই মনোজ। ক্রিকেটে আরও বেশি করে থাকতে চান তিনি। ভিন রাজ্যের কয়েকজনের নামও শোনা যাচ্ছে।
লক্ষ্মীরতন, তিনি কি ফের আবেদন করবেন? বাংলা দলের কোচ হিসাবে কি ফের দেখা যাবে প্রাক্তন অলরাউন্ডারকে? সদ্য পিতৃহারা হয়েছেন লক্ষ্মীরতন। বললেন, ‘এখনও সিদ্ধান্ত নিইনি। কয়েকদিনের মধ্যেই দাদির (সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়) সঙ্গে বসব। আলোচনার পর ঠিক করব। তবে যে কোনওভাবেই হোক বাংলা ক্রিকেটের সেবা করতে চাই।’
তাহলে কি নতুন কোনও ভূমিকায় বঙ্গ ক্রিকেটে দেখা যাবে লক্ষ্মীরতনকে? কৌতূহল ময়দানের সর্বত্র।
