নয়াদিল্লি: এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী শ্যুটার ও কোচ যশপাল রানা (Jaspal Rana) প্রয়াত। দিল্লি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। যশপালের বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৯ বছর।
জার্মানির মিউনিখ থেকে শ্যুটিং বিশ্বকাপ থেকে ফেরার সময় হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাঁকে দিল্লি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। তবে শেষমেশ ৪৯ বছর বয়সেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন যশপাল। এই যশপাল রানার কোচিংয়েই কিন্তু অলিম্পিক্সে জোড়া পদক জেতেন মনু ভাকের। তাঁর প্রয়ানে শোকস্তব্ধ ক্রীড়াজগত। শোকজ্ঞাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও (Narendra Modi)।
যশপালকে সম্মান জানিয়ে নরেন্দ্র মোদি লেখেন, ‘যশপাল রানার প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। ভারতীয় ক্রীড়াজগতের জন্য় এটা বড় ক্ষতি। শ্যুটিংয়ে ওঁ ভারতের মুখ উজ্জ্বল করেছে। মেন্টর হিসাবে সম্পূর্ণভাবে নিজেকে নিয়োজিত করে তরুণদের তৈরি করার ক্ষেত্রেও ওঁর অবদান অনস্বীকার্য। এই দক্ষতা, নিয়মানুবর্তিতা এবং সার্ভিসই ওঁকে ক্রীড়াজগতে এত সম্মানীয় করে তুলেছিল। এই মুহূর্তে ওঁর পরিবার, পরিজন এবং বন্ধুবান্ধের প্রতি আমি সমব্যথী।’
Deeply saddened by the passing of Shri Jaspal Rana Ji. His passing is a profound loss to the world of Indian sports.
He brought immense glory to the nation through his extraordinary achievements in shooting. Equally remarkable was his contribution as a mentor, shaping and guiding young athletes with great dedication. His unwavering commitment to excellence, discipline and service to the sporting world earned him immense admiration.
My thoughts are with his family, friends and the entire sporting fraternity in this hour of grief. Om Shanti.…
— Narendra Modi (@narendramodi) June 12, 2026
ভারতীয় শ্যুটিং জগতের নক্ষত্র যশপাল বিগত তিন দশক ধরে খেলোয়াড় হোক বা কোচ, বিভিন্নভাবে দেশের সেবা করেছেন। তিনিই কমনওয়েলথ গেমসের ভারতের সফলতম অ্যাথলিট। যশপাল নয়টি সোনা, চারটি রুপো এবং দুই ব্রোঞ্জ, মোট ১৫টি খেতাব জিতেছিলেন কমনওয়েলথ গেমসে। এশিয়ান গেমসেও তিনি চারটি সোনা এবং একটি রুপোর পদক জিতেছিলেন।
আরও পড়ুন:- শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টানটান লড়াই, চেকিয়াকে হারিয়ে দুরন্তভাবে বিশ্বকাপ শুরু সনদের
খেলোয়াড় হিসাবে অবসর নেওয়ার পরে যশপাল নিজেকে পরবর্তী প্রজন্মের তারকাদের খুঁজে বের করা এবং তাঁদের তৈরি করার জন্য নিজেকে নিয়োজিত করেন। মানু ভাকের থেকে সৌরভ চৌধুরীর মতো তারকাদের তিনিই অল্প বয়সে খুঁজে বের করে তাঁদের ঘষামাজা করে বিশ্বমানের অ্যাথলিট তৈরি করেন। তাঁর তত্ত্বাবধানেই তো মানু ভাকের প্রথম ভারতীয় হিসাবে এক অলিম্পিক্সে একাধিক পদক জিতেছিলেন।
মনু ভাকেরের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব এবং ঝামেলার বিষয়টা টোকিও অলিম্পিক্সের আগেই সর্বসমক্ষে উঠে আসে। তবে সেই দূরত্ব মিটিয়ে ও বিতর্ক পিছনে ফেলে তিনি প্যারিসে মনুকে ইতিহাস তৈরি করতে সাহায্য করেন। বর্তমানে তিনি পিস্তল বিভাগে ভারতের হাই পারফরম্যান্স কোচের দায়িত্বে ছিলেন। তবে ৫০-র গণ্ডি পার করার আগেই তাঁর জীবনের সফর থামল।
Chess Grandmaster | পশ্চিমবঙ্গের দাবার মুকুটে যোগ হল নতুন পালক, দেশের ৯৫তম গ্র্যান্ডমাস্টার হলেন কলকাতার আরণ্যক ঘোষ
