নয়াদিল্লি: তিরন্দাজিতে ইতিহাস তৈরি করল ভারতের মহিলা রিকার্ভ দল। ২০২৬ তিরন্দাজি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্যায়ে সাংহাইয়ে আয়োজক দেশ চিনকে এক হাড্ডাহাড্ডি ফাইনালে হারিয়ে সোনা জিতেছে। দলে ছিলেন দীপিকা কুমারী, অঙ্কিতা ভাকাত ও ১৭ বছর বয়সি কুমকুম মোহ। এই জয় ভারতীয় রিকার্ভ আর্চারির ক্ষেত্রে এক নবজাগরণ গড়েছে। গোটা প্রতিযোগিতায় ভারতীয় মহিলা দল দুর্দান্ত পারফরম্য়ান্স করেছে। সেমিতে তারা ১০ বারের অলিম্পিক্স চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে দিয়েছিল।
এই দলে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ছিলেন নিঃসন্দেহে দীপিকা কুমারি। এবারও ভারতীয় দলকে তিনিই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। অঙ্কিতা ভাকাত ধারাবাহিকভাবে ভাল পারফরম্য়ান্স করেছেন গোটা টুর্নামেন্টে। ১৭ বছর বয়সি কুমকুম মোহদ তার বয়সের তুলনায় অনেকটাই কঠিন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করেছিল। নির্ণায়ক মুহূর্তটি আসে শেষ রাউন্ডে, যেখানে ভারত আরও নিখুঁত গ্রুপিং এবং কম পয়েন্ট হারিয়ে এগিয়ে যায়।
এই টুর্নামেন্টে ভারতের সফরের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, রাউন্ড অব ১৬-তে উজবেকিস্তানকে ৬-২ ব্যবধানে হারিয়ে ভারতীয় দল দুর্দান্ত শুরু করেছিল। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে তারা মুখোমুখি হয় ভিয়েতনামের। যেখানে ম্যাচটি ৫-৪ টাইয়ে শেষ হয় এবং শ্যুট অফের মাধ্যমে ফল নির্ধারিত হয়। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভারত স্নায়ু ধরে রেখে ২৮-২৫ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে পৌঁছে যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি আসে সেমিফাইনালে, যেখানে তারা শীর্ষ বাছাই দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়ে দেয়। বিশ্ব রিকার্ভ আর্চারিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু ভারতীয় দল নিখুঁত শুটিং এবং শক্ত কৌশলের মাধ্যমে তাদের ছাপিয়ে যায়। উদ্বোধনী ও শেষ সেটে স্কোর ছিল ৫৮-৫৫ ও ৫৮-৫৬।
অলিম্পিক্সই পাখির চোখ দীপিকার
দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় তিরন্দাজিতে উজ্জল মুখ দীপিকা কুমারি। বিশ্বকাপে একাধিক পদকজয়, পর পর সাফল্য সত্ত্বেও অলিম্পিক্স বরাবরই দীপিকার শক্ত গাঁট হয়েই রয়ে গিয়েছে। এই নিয়ে নিজের চতুর্থ অলিম্পিক্সে অংশগ্রহণ করলেও, নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি বাংলার বধূ। তবে হতাশ হয়ে ভেঙে পড়ার মেয়ে তিনি নন। বরং নতুন অঙ্গীকার তাঁর। নব উদ্যমে পুনরায় অলিম্পিক্সে ফেরার কথা আগেভাগেই জানিয়ে দিলেন বছর ৩০-র এই তিরন্দাজ। তিনি পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি তো ভবিষ্যতে আরও খেলতে চাই এবং খেলা চালিয়ে যাব। আমি যেভাবেই হোক একটা অলিম্পিক্স পদক জিততে চাই। ওটা না জেতা পর্যন্ত থামব না। আমি আরও কড়া পরিশ্রম করে, আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসব।’
সেমিফাইনালের ফলাফল সত্যিই ফাইনালের আগে পরিবেশ বদলে দিয়েছিল। সেই জয়ের পর ভারত শিরোপার সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে উঠে আসে, এবং শেষ পর্যন্ত দলটি স্বর্ণপদক জিতে তা প্রমাণ করে।
