কলকাতা: বর্তমানে আমাদের দেশে পাওয়া যাচ্ছে E85 পেট্রোলও। অর্থাৎ, যে পেট্রোলের ৮৫ শতাংশ হল ইথানল। আর এই পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটারে ৮২ টাকা ১২ পয়সায়। সাধারণ, E20 পেট্রোলের থেকে প্রায় ৩০ টাকা কম। ফলে, স্বাভাবিক ভাবেই এই প্রশ্ন সামনে আসছে যে নতুন এই জ্বালানি কি সত্যিই সাশ্রয় করছে?
আরও পড়ুন: E85 ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির দাম কি বাড়বে? নতুন প্রযুক্তির জন্য কত বেশি খরচ হতে পারে ক্রেতাদের?
E85 হল এমন একটি জ্বালানি যাতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ ইথানল এবং বাকি অংশ পেট্রোল থাকে। অন্যদিকে E20-তে ইথানলের পরিমাণ মাত্র ২০ শতাংশ। বেশি ইথানল ব্যবহারের ফলে E85 পরিবেশবান্ধব এবং আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের উপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করে।
তবে শুধুমাত্র জ্বালানির দাম কম হলেই যে ব্যবহারকারীর খরচ কমবে, তা নয়। কারণ E85-এ চলা গাড়ির জ্বালানি দক্ষতা বা মাইলেজ সাধারণ E20 পেট্রোল গাড়ির তুলনায় কিছুটা কম হতে পারে। এছাড়া E85 ব্যবহারের জন্য বিশেষ ধরনের ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির প্রয়োজন, যেখানে ফুয়েল ট্যাঙ্ক, ECU, ইনজেক্টর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশে পরিবর্তন আনা হয়। ফলে এই ধরনের গাড়ির দামও সাধারণ পেট্রোল মডেলের তুলনায় বেশি হতে পারে।
আরও পড়ুন: কোন আয়কর রিটার্ন ফর্ম ফিলআপ করবেন আপনি? ভুল ফর্ম ভরলেই আসতে পারে IT নোটিস
বর্তমানে বাজারে E85 সমর্থিত গাড়ি প্রায় নেই বললেই চলে। মারুতি সুজুকি সম্প্রতি ফ্লেক্স-ফুয়েল ওয়াগন আর উন্মোচন করলেও সেটি আপাতত বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য। ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত ক্রেতাদের জন্যও এই ধরনের গাড়ি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই ৫০ থেকে ১০০টি E85 ফিলিং স্টেশন চালু হবে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই সংখ্যা ৫০০ এবং ২০২৭ সালের শেষে ৫ হাজারে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, E85 বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হিসেবে বেশি অর্থবহ। জ্বালানির কম দাম, কম দূষণ এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি গাড়ির বিকল্প পাওয়া গেলে এটি অনেক ক্রেতার কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। ব্রাজিলের মতো দেশে এই প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই সফল হয়েছে, আর ভারতও সেই পথেই এগোতে চাইছে।
Budget 2026: অপারেশন সিঁদুরের পর বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি
