নয়াদিল্লি: ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরই বড় পদক্ষেপ আমেরিকা। পাকিস্তান দ্বারা অধিকৃত কাশ্মীরকে ভারতের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিল তারা। আমেরিকার ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ দফতর থেকে ভারতের যে মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং আকসাই চিনকে ভারতের অংশ বলে দেখানো হয়েছে। (US India Relations)
আমেরিকা ভারতের যে মানচিত্র প্রকাশ করেছে, তাতে বাণিজ্যচুক্তির যে কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে, তাতে সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীর, পাক অধিকৃত কাশ্মীরকেও ভারতের অংশ বলে দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি, যে আকসাই চিনকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে চিন, সেটিকেও ভারতীয় ভূখণ্ড বলেই দেখিয়েছে আমেরিকা। (Pakistan Occupied Kashmir)
আমেরিকার এমন পদক্ষেপে ভারতের অবস্থান আরও দৃঢ় হল বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ আমেরিকার সরকার বা তাদের বিদেশ দফতরের তরফে এমন মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে অতীতে, যাতে পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে পৃথকই দেখানো হতো। অর্থাৎ পাক অধিকৃত কাশ্মীর তাদের বলে যে দাবি করত পাকিস্তান, তাদের পক্ষেই বার্তা যেত। কিন্তু এবারে যে মানচিত্র প্রকাশ করেছে তারা, তাতে ভারত আরও বল পেল।
সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে বরাবর দাবি করে আসছে ভারত। বাইরের কোনও দেশের স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই বলেও বরাবরের অবস্থান দিল্লির। তবে আমেরিকার পদক্ষেপ কৌশলগত দিক থেকে ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকার এই অবস্থানে পাকিস্তানও জোর ধাক্কা খেল বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। অন্য দিকে, আকসাই চিন নিয়ে চিনের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাত ভারতের। সেই আকসাই চিনকে ভারতের অংশ দেখিয়েছে আমেরিকা।
যে সময় আমেরিকা এই মানচিত্র প্রকাশ করল, তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেশ কয়েক মাস ধরে টানাপোড়েন চলছি ভারত ও আমেরিকার মধ্যে। রাশিয়ার থেকে তেল কেনার দরুণ ভারতের উপর শুল্কশাস্তিও চাপিয়েছিল আমেরিকা। সেই আবহে আমেরিকার সঙ্গে সখ্য বাড়ানোর চেষ্টা করে পাকিস্তান। আমেরিকাকে বিরল খনিজ সরবরাহের প্রস্তাবও দেয় তারা। এমনতি পাকিস্তানের খনিতে বিনিয়োগের ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তবে সম্প্রতি ভারত ও আমেরিকার মধ্যে যে বাণিজ্যচুক্তি হয়েছে, তাতে ভারত বেশ সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। একধাক্কায় শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নিয়ে গিয়েছে আমেরিকা। ভেনিজুয়েলা থেকে ভারত তেল কিনতে পারে বলেও জানিয়েছে তারা।
তবে ভারতের উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি এখনও। এখনও পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধপরিস্থিতিতে মধ্যস্থতা করার কৃতিত্ব দাবি করে চলেছেন ট্রাম্প।
