বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনযাত্রায় এক আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। ভালোর পরিবর্তে খারাপ অভ্যেসে বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। নিজের প্রতি মন দিতেই ভুলে যাচ্ছে মানুষ। আর এই অগোছালো জীবনযাপনের কারণে দেখা দিচ্ছে নানাবিধ সমস্যা। এর মধ্যে পেট সংক্রান্ত সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। কারণ, দিনের পর দিন রাত জাগা, দীর্ঘ সময় খাবার না খাওয়া এবং কর্মক্ষেত্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা মানুষের দৈনন্দিন রুটিনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই কারণেই অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা, টক ঢেকুর, গ্যাস এবং বদহজমের মতো সমস্যা সব বয়সের মানুষের মধ্যে একটি সাধারণ রোগ ও সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালী বেয়ে উপরের দিকে উঠে আসতে শুরু করে, তখন তাকে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বলা হয়। এর ফলে বুকজ্বালা এবং পেটে ভারি ভাবের মতো সমস্যা হতে থাকে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ওষুধ ছাড়াও এমন কিছু প্রাকৃতিক উপায় রয়েছে যা আপনি ব্যবহার করে নিজেকে সুস্থ রাখতে পারবেন। ভারতীয় রান্নায় এমন অনেক মশলা ব্যবহার করা হয় যা হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। এগুলো বুকজ্বালা ও অ্যাসিডিটির সমস্যা সমাধানে ব্যবহার করতে পারেন।
১. মৌরি
মৌরি হজমের জন্য খুব উপকারী একটি মশলা বলে মনে করা হয়। মৌরিতে অ্যানিথোল (Anethole) নামক একটি প্রাকৃতিক যৌগ থাকে, যা পাকস্থলীর পেশীগুলোকে শিথিল করে। বহু গবেষণায় দেখা গেছে যে, এটি পেটের গ্যাস কমাতে সাহায্য করে। খাবারের পর মৌরি চিবানো হজমশক্তিকে উন্নত করতে সাহায্য করে। অনেকে মৌরি মেশানো জল পান করেন, যা পেটের ব্যথা কম করতে এবং বুকজ্বালা কমাতে সাহায্য করে।
২. জিরা
জিরা ভারতীয় রন্ধনশৈলীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এটি আয়ুর্বেদে দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুসারে, জিরার বীজে থাকা কিউমিনালডিহাইড (Cuminaldehyde) নামক একটি যৌগ পাচক এনজাইমকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে, যা খাবার দ্রুত হজমে সহায়তা করে। খাবার সঠিকভাবে হজম হলে পাকস্থলীর চাপ কমে যায়, ফলে অ্যাসিড-এর ঝুঁকি কমে যায়। গ্যাস ও পেট ভার কমানোর জন্য জিরা মেশানো জল পান করা একটি ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে আমরা ব্যবহার করে থাকি।
৩. আদা
আদাকেও একটি প্রাকৃতিক হজম সহায়ক ভেষজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে জিঞ্জেরল এবং শোয়াগোলের মতো যৌগ রয়েছে, যেগুলোতে মূলত প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য আছে। এই যৌগগুলো পাকস্থলীকে দ্রুত খালি হতে সাহায্য করে, ফলে খাবার পাকস্থলীতে দীর্ঘক্ষণ জমে থাকে না। কখনও কখনও, ধীর হজমের কারণে অ্যাসিডিটি এবং বুকজ্বালাও হতে পারে। এক্ষেত্রে আদা গরম জল, ভেষজ চা বা খাবারের সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে আদা খাওয়া যেতে পারে।
৪. এলাচ
এলাচকেও পেটের জন্য উপকারী একটি ভেষজ বলে মনে করা হয়। আয়ুর্বেদ অনুসারে, এলাচ শরীরের হজম প্রক্রিয়াকে ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য যৌগ পেটের প্রদাহ কমাতে সহায়ক বলে বিশ্বাস করা হয়। অনেকে খাবারের পর এলাচ চিবিয়ে খান, যা মুখের দুর্গন্ধ কমাতে এবং হজমে সহায়তা করে। চা বা দুধে এলাচ মিশিয়ে পান করলে তা কেবল স্বাদই বাড়ায় না, পেটকেও আরাম দেয়।
৫. তুলসী
ভারতীয় ঐতিহ্য অনুসারে তুলসী পাতাকে ঔষধি গুণসম্পন্ন বলে মনে করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে তুলসীতে ইউজেনল -এর মতো প্রাকৃতিক যৌগ রয়েছে, যা প্রদাহ কমাতে এবং পেটকে ঠিক রাখতে সাহায্য করতে পারে।
তথ্যসূত্র – IANS
Check out below Health Tools-
Calculate Your Body Mass Index ( BMI )
Calculate The Age Through Age Calculator
