নয়াদিল্লি: রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটতেই স্বাস্থ্য সঙ্কটে বাংলাদেশ। সেখানে কার্যত মহামারির আকার নিচ্ছে হাম। মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭৫০০ রোগীর সন্ধান মিলেছে। সেই আবহে দেশের মহম্মদ ইউনূস এবং তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রাক্তন আধিকারিকদের দিকেই আঙুল উঠতে শুরু করল। এমনকি তাঁরা যাতে দেশের বাইরে যেতে না পারেন, সেই মর্মে নোটিসও ধরানো হল সরকারকে। (Bangladesh Measles Outbreak)
হামের বিরুদ্ধে সার্বিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গোড়া থেকেই টিকাকরণের উপর জোর দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। কিন্তু এই মুহূর্তে একেবারে সঙ্কটজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে সেখানে। ১৫ মার্চ থেকে এখনও পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন ৪৩ জন। ওই একই সময়ে আরও ২১৬ জনের মৃত্যু হয়। নির্দিষ্ট ভাবে জানা না গেলেও, হামে আক্রান্ত হয়েই এত মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে সন্দেহ। মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই আবার শিশু। (Bangladesh News)
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে উদ্ধৃত করে ‘দ্য ডেলি স্টার’ জানিয়েছে, ৯১ শতাংশ ক্ষেত্রেই ১ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশুরা আক্রান্ত। রবিবার থেকে জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকাকরণ শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। সব মিলিয়ে ৭৫০০ জন হাম আক্রান্তের হদিশ মিলেছে সেখানে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই হামের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। ৭৯ ক্ষেত্রে আক্রান্ত শিশদুদের বয়স ৫ বছরের নীচে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সর্দার শাখাওয়াত হোসেনের দাবি, আট বছর আগে শেষ বার হামের টিকা দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে ক্ষমতায় এসেছে BNP. তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই সরকারে শামিল শাখাওয়াত। তার আগের ১৫ মাস মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেখানে ক্ষমতায় ছিল। ২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে পর্যন্ত ২০০৯ সাল থেকে একটানা ক্ষমতায় ছিলেন শেখ হাসিনা। বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ইউনূস এবং হাসিনা সরকারকেই দায়ী করেছে তারেক সরকার।
শাখাওয়াতের বক্তব্য, “অতীতের সরকারের অব্যবস্থা এবং ব্যর্থতাই এর জন্য দায়ী, বিশেষ করে ফ্যাসিবাদী সরকার এবং সাম্প্রতিক অতীতের অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের দুর্বল সিদ্ধান্তের জেরেই টিকায় ঘাটতি দেখা দেয়, যার দরুণ হাম এবং আরও ছয়টি রোগের টিকার উপরও প্রভাব পড়ে।” প্রতি চার বছর অন্তর বাংলাদেশে হামের টিকাকরণ কর্মসূচি হয়। ২০২০ সালে শেষবার টিকাকরণ হয়েছিল। কোভিডের জেরে উদ্ভুত অতিমারি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার দরুণই টিকাকরণ ব্যাহত হয়েছে বলে দাবি উঠছে।
‘প্রথম আলো’ জানিয়েছে, ২০২৫ সলে এক বছর বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে টিকাকরণের হার কমে হয় ৫৯.৬ শতাংশ। ওই সময় ক্ষমতায় ছিলেন ইউনূস। এমন পরিস্থিতিতে গত ৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম আশরাফুল ইসলাম সরকারকে নোটিস ধরিয়েছেন, যাতে ইউনূস এবং তাঁর সরকারের তদানীন্তন আধিকারিকদের দেশের বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ করতে বলা হয়েছে। অভিযোগ, বেআইনি ভাবে, দেশের ক্ষতি করে টিকাকরণ প্রকল্পকে বেসরকারি ক্ষেত্রে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। সেই নিয়ে উঠছে তদন্তের দাবিও।
ইউনূস, তাঁর উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, নুরজাহান বেগম, প্রাক্তন বিদেশ সচিব শফিকুল আলম এবং তদানীন্তন অন্য আধিকারিকরাও যাতে দেশের বাইরে যেতে না পারেন, আবেদন জানানো হয়েছে। হাইকোর্টের তরফে সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন হাম সংক্রমণ সামাল দেওয়া গেল না? চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
