নয়া দিল্লি: আমেরিকা ও ইরানের এই সংঘাতের কারণে ইতিমধ্যে বন্ধ রয়েছে হরমুজ প্রণালী। ফলে ঘাটতি দেখা দিয়েছে জ্বালানি সরবরাহে। তবে, শুধুমাত্র সাধারণ জ্বালানি নয়, বিশ্ব জুড়ে এর বিরাট প্রভাব পড়েছে জেট ফুয়েলেও। আর তার প্রভাব এবার পড়তে চলেছে বিমান পরিষেবায়। ইতিমধ্যেই খবর এসেছে একটি বিমান সংস্থা তাদের প্রায় ২০ হাজার উড়ান বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জার্মানির অন্যতম বৃহৎ বিমান সংস্থা লুফথানসা বর্তমান সময় থেকে আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার উড়ান বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে মূলত ফ্রাঙ্কফুর্ট (Frankfurt) ও মিউনিখ (Munich) থেকে স্বল্প দূরত্বের উড়নগুলোই বাতিল করেছে তারা। তাদের এই পদক্ষেপের ফলে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল কম খরচ হবে বলেই জানা গিয়েছে।
বর্তমানে ইরানের এই উত্তেজনার পরিস্থিতির কারণে জেট ফুয়েলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। এর ফলে, এই বিমানগুলোর অপোরেশনাল কস্ট বেড়ে গিয়েছে অনেকটাই। আর সেই কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে লুফথানসা। তবে শুধুমাত্র বিমান বাতিলই নয়, তাদের সহযোগী সংস্থা সিটি লাইনের অন্তত ২৭টি বিমানকে আপাতত গ্রাউন্ড করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে তারা।
এই বিমান বাতিলের ফলে ফ্রাঙ্কফুর্ট (Frankfurt) ও মিউনিখ (Munich) ছাড়াও জুরিখ, বিএনব ব্রাসেলসের মতো বড় শহরগুলোতেও প্রভাব পড়বে। ফলে, যাত্রীদের যাতায়াতে অসুবিধার সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। স্টুটগার্ট, কর্ক, লুব্লজানা, গডানস্ক এবং টিভাত শহরের সঙ্গে জার্মানির বড় শহরগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়বেই।
তবে শুধুমাত্র লুফথানসা নয়, জ্বালানির চাপ যে হারে বাড়ছে তাতে অন্যান্য বিমান সংস্থাগুলোও এই একই পথ হাঁটা বা হাঁটার চিন্তা ভাবনা শুরু করে দিয়েছে। আর এর ফলে আগামীতে বিমান ভাড়া আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর সেই কারণেই বিমানে করে কোথাও যাওয়ার থাকলে সবার আগে সেই বিমানের ফ্লাইট স্টেটাস যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই এই সংস্থা দৈনিক প্রায় ১২০টি বিমান বাতিল করা শুরু করে দিয়েছে। মে মাসের শেষে পর্যন্ত এই উড়নগুলো বাতিল থাকবে বলেই জানানও হয়েছে। যদিও এই বাতিল সংস্থার মোট ক্ষমতার ১ শতাংশও নয়। অন্যদিকে KLM, SAS বা ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের মতো উড়ান সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই তাদের একাধিক উড়ান বাতিল করেছে।
