নয়াদিল্লি: সরকার বিরোধী আন্দোলনে এখনও তপ্ত ইরান। এখনও পর্যন্ত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর মিলছে। বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি নিরাপত্তাবাহিনীর লোকজনও প্রাণ খুইয়েছেন। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন প্রায় ১২০০ বিক্ষোভকারী। তবে এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনও লক্ষণ নেই। এমতাবস্থায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হস্তক্ষেপ করবেন কি না, সেই প্রশ্ন জোরাল হয়ে উঠছে। আর সেই আবহেই দেশের সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-কে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য় সামনে আসছে। জানা যাচ্ছে, পরিস্থিতি না শোধরালে বিকল্প উপায় ভেবে রাখা হয়েছে। রাশিয়ায় আশ্রয় নিতে পারেন ৮৬ বছর বয়সি খামেনেই। (Iran Unrest)
সরকার বিরোধী আন্দোলন ঠেকাতে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে ইরানে। বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের খবরও সামনে আসছে। আর সেই আবহেই খামেনেই দেশ ছাড়তে পারেন বলে খবর সামনে এল। The Times জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হলে অথবা বিদ্রোহ ঘোষণা করলে ‘প্ল্যান বি’ ভেবে রাখা হয়েছে। নিজের ঘনিষ্ঠদের নিয়ে বিমানে উঠে পড়বেন খামেনেই। পরিবার ও ঘনিষ্ঠ মিলিয়ে ২০ জনকে নিয়ে দেশ ছাড়তে পারেন তিনি। খামেনেইয়ের উত্তরাধিকারী, তাঁর ছেলে মোজতবাও দেশ ছাড়তে পারেন। (Ayatollah Ali Khamenei)
এর আগে, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝতে পেরে সিরিয়া ছেড়েছিলেন দেশের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদও। পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে বিমানে চেপে সটান পৌঁছে গিয়েছিলেন মস্কো। খামেনেই-ও রাশিয়ায় আশ্রয় নিতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, কোন পথে তেহরান থেকে বেরোবেন খামেনেই, তাও ঠিক করে রাখা হয়েছে। সঙ্গী কী নিয়ে যাবেন, বিদেশে কত টাকা নিয়ে যাবেন, সেখানে কোন কোন সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারবেন ঠিক করে রাখা হয়েছে সবকিছুই।
বিগত কয়েক বছরে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের প্রভূত উন্নতি হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশংসাও শোনা গিয়েছে খামেনেইয়ের মুখে। এমনকি ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীন রাশিয়াকে বেশ কিছু অস্ত্রশস্ত্রও সরবরাহ করেছে তেহরান। একটি ড্রোন কারখানা তৈরিতেও সহযোগিতা করেছে। ২০২৫ সালের গোড়ার দিকে দুই দেশের মধ্যে ২০ বছরের কৌশলগত চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। শত্রুপক্ষের আগ্রাসন ঠেকাতে এবং প্রতিরক্ষা খাতে পরস্পরকে সহযোগিতা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয় তারা। যদিও ইরানের সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করার ব্যাপারে ওই চুক্তিতে কিছু ছিল না বলে দাবি করে রাশিয়া।
আমেরিকার ডলারের তুলনায় ইরানের মুদ্রা ‘রিয়ালে’র পতন, মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাপনের খরচ সাধ্যের বাইরে চলে যাওয়া নিয়ে গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলছে ইরানে। শান্তিপূর্ণ ওই আন্দোলনে বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে জায়গায় জায়গায় সংঘর্ষ বেঁধেছে আন্দোলনকারীদের। ৩১টির মধ্যে ২৬টি অঙ্গরাজ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভের আঁচ। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে খামেনেইয়ের ছবি সম্বলিত পোস্টার, ব্যানার পোড়ানো হয়েছে জায়গায় জায়গায়। এমনকি ‘খামেনেইয়ের মরণ হোক’ এমন স্লোগানও শোনা গিয়েছে।
আমেরিকার Human Rights Activists News Agency জানিয়েছে, হিংসায় এখনও পর্যন্ত ৩৫ জন মারা গিয়েছেন ইরানে। মৃতদের মধ্যে চার শিশু এবং ইরানের নিরাপত্তাবাহিনীর দুই সদস্যও রয়েছেন। অশান্তি থামার কোনও লক্ষণ নেই এখনও পর্যন্ত। এমতাবস্থায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি বলেন, “অতীতে যেভাবে লোকজনকে হত্যা করেছে ওরা, আবার তেমন করলে আমেরিকার তরফে বড় আঘাত নেমে আসবে ওদের উপর।” ইরান যদিও সেই হুঁশিয়ারি কানে তুলতে নারাজ। খামেনেইয়ের দেশ ছাড়ার খবরও খারিজ করে দিয়েছে তারা। ভারতে ইরানের দূতাবাসের তরফে ওই খবরকে ‘মিথ্যা’ এবং ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করা হয়। তাদের দাবি, ইজ়রায়েলের সঙ্গে ১২ দিন ব্যাপী যুদ্ধেও খামেনেই দেশ ছেড়ে বেরোননি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই এমন মিথ্যা খবর ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে তারা।
