বেঙ্গালুরু: গত বার টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন হলেও চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের (Chinnaswamy Stadium) বাইরেই আরসিবির খেতাব জয় সেলিব্রেশনের সময় ১১ জন সমর্থক পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার জেরে বিরাট কোহলিদের নিজেদের ঘরের মাঠে আদৌ খেলা হবে কি না, সেই নিয়ে প্রবল প্রশ্নচিহ্ন ছিল। শেষমেশ কড়া নিরাপত্তার বিষয় সুনিশ্চিত করার পরেই চিন্নাস্বামীকে এ বারের আইপিএলের (IPL 2026) ম্যাচ আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু গত শুক্রবারের ঘটনার পরে ফের একবার প্রশ্নের মুখে সেই মাঠের নিরাপত্তা।
২৪ এপ্রিল গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে চিন্নাস্বামীতে মাঠে নেমেছিল আরসিবি। সেই ম্যাচের দিন সকালে হঠাৎই সব ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে দেখা যায় স্টেডিয়ামের অন্দরের প্রায় ২৪০টি ক্যামেরা অফলাইন। স্টেডিয়ামে ঢোকার গেট, কর্পারেট স্ট্যান্ডের মতো বিভিন্ন জায়গার ক্যামেরা হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায়। এই ক্যামেরা সেট আপ কিন্তু চিন্নাস্বামীতে আইপিএল ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি পাওয়ার অন্যতম বড় কারণ ছিল। কোনওরকম অপ্রিয় পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্যেই আরসিবির তরফেই চিন্নাস্বামীতে এই ক্যামেরাগুলি বসানো হয়। আর সেই ক্যামেরাই কি না অফলাইন! স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা মাঠের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেয়।
Staqu Technologies Pvt Ltd নামক গুরুগ্রামের এক ফার্মের কর্মচারী আদিত্য ভট্ট পরবর্তীতে ২৫ এপ্রিল কাবন পার্ক পুলিশ স্টেশনে একটি এফআইআর দায়ের করান। এই কোম্পানিই চিন্নাস্বামীতে সিসিটিভি ক্যামেরাজনিত নিরাপত্তা প্রদানের টেন্ডার পায়। তারা আরেক কোম্পানিকে টেন্ডার দেয়। এই ঘটনায় চিত্রদুর্গ জেলার হিরিউরের ৩৭ বছর বয়সি মঞ্জুনাথ ও সুলতানপুর, উত্তরপ্রদেশের ১৯ বছর বয়সি আব্দুল কালাম নামক দুই সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করে পাকড়াও করা হয়েছে। তাদের সিসিটিভি কন্ট্রোল রুমে এবং বিভিন্ন কানেকশন বক্সের দিকে যেতে দেখা যায়। সেই থেকেই সন্দেহ।
জেরায় মঞ্জুনাথরা জানান কোম্পানির ওপর ক্ষোভ থেকেই তাঁরা এমন ঘটনা ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেন। অভিযোগ তাঁদের প্রায় ১০ লক্ষ টাকা বকেয়া রয়েছে। তবে বারংবার মূল টেন্ডার প্রাপ্ত কোম্পানিকে বলেও কোনও লাভের লাভ হয়নি। এরপরেই তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নেন। এই ঘটনার জেরেই কিন্তু চিন্নাস্বামীতে আইপিএল ফাইনালের আয়োজন হবে কি না, সেই নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। যদিও কর্ণাটক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের দাবি ম্যাচের সময় নিরাপত্তায় কোনওরকম গাফিলতি হয়নি। গোটা বিষয়টি ম্যাচের আগেই ঘটে এবং স্টেডিয়ামে দর্শকদের প্রবেশের আগেই সেই সমস্যার সমাধানও করা হয়।
