সন্দীপ সরকার, কলকাতা: কলকাতায় শেষ ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে শুক্রবার দুপুরে। তবে শনিবার থেকে ফের বাড়ছে তাপমাত্রা। রোদের তেজও ফের ঊর্ধ্বমুখী। পারদ চড়ছে।
অথচ সোমবার সকালে সল্ট লেকের করুণাময়ীতে টোয়েন্টি টু ইয়ার্ডস মাঠে গিয়ে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান – ময়দানের দুই প্রধানের ক্রিকেটারেরা শুনলেন, পিচ ভিজে! ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে শুরু হবে না। সকাল ৯টায় যে ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা ছিল, শেষ পর্যন্ত সেই খেলা শুরু হল বেলা ১১টায়। তাও অন্তত তিন দফা মাঠ পর্যবেক্ষণ করার পরে। প্রথমে বলা হয়েছিল, সকাল সাড়ে দশটা থেকে শুরু হবে ম্যাচ। খেলা হবে ৪১ ওভার করে। পরে সেই ম্যাচ আরও আধঘণ্টা পিছোল। ৫০ ওভারের ম্যাচের ওভার সংখ্যা কমে দাঁড়াল ৩৮!
পি সেন মেমোরিয়াল টুর্নামেন্টের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে সুপার ওভারে মোহনবাগানকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল ইস্টবেঙ্গল। ফাইনালে টাউন ক্লাবের বিরুদ্ধে খেলবে এ মরশুমে এখনও পর্যন্ত ট্রফি-হীন লাল-হলুদ শিবির। তবে সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ভেজা পিচ ও ওভার সংখ্যা কমা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান – দুই ক্লাবেই।
পি সেন ট্রফির সেমিফাইনালে সোমবার ছিল স্থানীয় ক্রিকেটের ডার্বি। মুখোমুখি হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান ক্লাব। ম্যাচটি ছিল টোয়েন্টি টু ইয়ার্ডস মাঠে। যা ভিডিওকন মাঠ নামে পরিচিত। অন্য সেমিফাইনালে টাউন ক্লাব ও বড়িশা স্পোর্টিং ক্লাবের ম্যাচটি হয় সল্ট লেকের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে। ডার্বি ম্যাচটি পিছিয়ে যায় পিচ ভিজে থাকায়। ৩৮ ওভারের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৩৭.৩ ওভারে ২৯১ রানে অল আউট হয় ইস্টবেঙ্গল। জবাবে ৩৮ ওভারে ২৯১ রানেই আটকে যায় মোহনবাগান। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সুপার ওভারে প্রথমে ব্যাট করে মোহনবাগান তোলে ১৪ রান। জবাবে সুপার ওভারের দ্বিতীয় বলে একটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ইস্টবেঙ্গল। তবে রবি কুমারকে পরপর দু’বলে (যার একটি নো বলও ছিল) জোড়া ছক্কা মেরে ইস্টবেঙ্গলকে জেতান মনিশঙ্কর মুরা সিংহ।
কিন্তু বৃষ্টি না হলেও পিচ ভিজল কী করে? জানা গেল, এই মাঠেই রবিবার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ খেলেছে টাউন ক্লাব ও ভবানীপুর। সেই ম্যাচেও ওভারসংখ্যা কমাতে হয়েছিল। সেই ম্যাচের পর পিচে জল দেওয়া হয়। তাতেই বিপত্তি।
ইস্টবেঙ্গলের ক্রিকেট সচিব সঞ্জীব আচার্য এবিপি লাইভ বাংলাকে বললেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম ইডেন গার্ডেন্সে খেলতে। তবে ম্যাচটা ভিডিওকন মাঠে দেওয়া হয়। পিচ ভিজে থাকায় ম্যাচ শুরু হতে দেরি হয়। ওভার সংখ্যা কমিয়ে খেলা হয়।’ তিনি আরও জানালেন যে, সিএবি থেকে টুর্নামেন্ট মাঝপথে স্থগিত রেখে বেঙ্গল টি-২০ লিগের পর কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল করার কথা বলা হয়েছিল। তবে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব আপত্তি জানায়। সঞ্জীব বললেন, ‘পি সেন আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্ট। বাইরের প্লেয়াররাও খেলতে এসেছেন সব দলে। তাঁরা ফিরে গেলে ফের তাঁদের আনা খরচসাপেক্ষ হয়ে যেত। তাছাড়া এখন বৃষ্টির পূর্বাভাসও নেই। যে কারণে আমরা টুর্নামেন্ট শেষ করার জন্য সিএবি-কে বলি। তারা রাজি হয়। পরপর দুদিন করে ম্যাচ খেলতে হলেও তাতে টুর্নামেন্টটা শেষ হচ্ছে। না হলে সমস্যায় পড়ত সব দলই।’
