কলকাতা: চোটআঘাতের জেরে জর্জরিত দল। ব্যাটিং, বোলিং থেকে একাদশে পরিবর্তন, কিছুতেই যেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের (Kolkata Knight Riders) কোনও লাভ হচ্ছিল। এমনকী রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে তুলনামূলক সহজ রান তাড়া করেও জয় একসময় অধরাই রয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছিল। তবে রিঙ্কু সিংহ এবং অনুকূল রায়ের দুরন্ত পার্টনারশিপে অবশেষে এ বারের আইপিএল মরশুমের (IPL 2026) প্রথম জয় এল নাইট শিবিরে। আর তারপরেই এক সমর্থকের যা কাণ্ডটা করলেন, তাতে চারিদিকে বিস্ময় এবং হাসির রোল।
সপ্তাহান্তে ইডেনে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধেই কেকেআরের ‘শাপমোচন’ ঘটে। দলের প্রথম জয়ে স্বাভাবিকভাবে সকল নাইট সমর্থকরা একদিকে যেমন স্বস্তি পান, তেমনই আনন্দে, উচ্ছ্বাসে ভাসেন। তবে এক সমর্থক নিজের উচ্ছ্বাসের বহিঃপ্রকাশ এমনভাবে ঘটালেন! ম্যাচ শেষে ইডেন থেকে বহু সমর্থক বাড়ি ফিরছিলেন মেট্রো ধরে। সেই মেট্রো স্টেশনেই ঘটনাটি ঘটল। মেট্রো আসতে তখনও দেরি। স্টেশনেই দাঁড়িয়ে বহু সাধারণ যাত্রী থেকে মাঠফিরতি দর্শকরা। সেখানে ছিলেন ওই নাইট সমর্থকও। তাঁর মাথায় কেকেআরের হেডব্যান্ড, হাতে দলের পতাকা। স্পষ্টতই দলের জয়ের খুশি তিনি। তবে হঠাৎই যেন আবেগের বিস্ফোরণ ঘটল।
একেবারে সটান মেট্রো স্টেশনের মেঝেতে শুয়ে পড়ে, রীতিমতো হাত পা ছুড়ে কয়েক সেকেন্ডের জন্য তিনি একেবারে শিশুসুলভ ভঙ্গিমায় নিজের দলের জয় উদযাপন করল। তাঁর এই কাণ্ডকারখানা আশেপাশের বেশ কয়েকজন ফ্রেমবন্দি করেন এবং পরে এই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ভাইরালও হয়। এই ঘটনায় যেমন একদিকে হাসির রোল উঠেছে, তেমনই আবার অনেকে মনে করছেন ওই সমর্থকের উচ্ছ্বাসের বহিঃপ্রকাশই রবিবার রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে কেকেআরের জয়ের মাহাত্ম্য এবং কেকেআর সমর্থকদের আবেগকে সঠিকভাবে তুলে ধরছে।
ম্যাচের কথা বলতে হলে ওইদিন বৈভব সূর্যবংশী এবং যশস্বী জয়সওয়াল দুরন্তভাবে রাজস্থান রয়্যালসের ইনিংস শুরু করেছিল। তবে কেকেআর স্পিনাররা আসতেই তাঁদের ইনিংস তাসের ঘরের মতো ভাঙতে থাকে। মরশুমে প্রথমবার বরুণ চক্রবর্তী উইকেট নেন, তাও এক নয়, তিন তিনটি। সুনীল নারাইন দুইটি উইকেট নেন। কার্তিক ত্যাগীও তিন সাফল্য পান। এই দুরন্ত বোলিংয়ে রাজস্থানকে মাত্র ১৫৫ রানে বেঁধে রাখার পরেও, কেকেআর একসময় ৮৫ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে আরও এক পরাজয়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ছিল। খানিক পরেই রিঙ্কু সিংহ আট রানে ক্যাচও তোলেন। তবে নান্দ্রে বার্গার সেই সহজ ক্যাচ মিস করেন। তারপরেই ঘুরে যায় ম্যাচের মোড়। রিঙ্কু শেষ পর্যন্ত ৫৩ রানে অপরাজিত থাকেন, অনুকূল ২৯ রানের ইনিংস খেলে কেকেআরকে চার উইকেটে ম্য়াচ জিতিয়ে দেন।
