গ্লাসগো: কমনওয়েলথ গেমসে(Commonwealth Games 2026) অংশ নিতে আসার ঠিক সাত মাস আগেই পরিবারে নেমে এসেছিল দুর্যোগ। স্ট্রোক হয়ে প্রয়াত হয়েছিলেন বাবা। মানসিক কষ্ট ও আর্থিক অনটনে ভুগছিল গোটা পরিবার। কিন্তু বাবাকে হারানোর যন্ত্রণা বুকে নিয়ে কমনওয়েলথ গেমসে(Commonwealth Games 2026) খেলতে নেমেছিলেন অস্মিতা দে। ২৩ বছরের তরুণীর হাত ধরেই জুডোয় প্রথমবার ভারতের ঝুলিতে এল সােনা। ইতিহাস গড়লেন অস্মিতা।
মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে ফাইনালে কানাডার হেইডি কোয়াচকে হারিয়ে সোনা জিতলেন অস্মিতা। গোল্ডেন স্কোর পর্বে কানাডার প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে দিয়েছিলেন অস্মিতা। কোয়ার্টার ফাইনালে এর আগে স্কটল্যান্ডের ইভা ইউয়িংকে হারিয়ে দিয়েছিলেন। আরও এক স্কটিশ প্রতিযোগীকে হারিয়েই সেমিতেও ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিলেন অস্মিতা।
দক্ষিণ ত্রিপুরার একটি ছোট্ট শহর বেলোনিয়াতে ভাড়া থাকেন অস্মিতারা। বাবাকে হারিয়েছিলেন সাত মাস আগে। বাড়িতে রয়েছে মা মুন্না পাত্রী দে ও ভাই দেববব্রত দে। মেয়ের সাফল্যের বেজায় খুশি অস্মিতার মা বলেছেন, ‘ওর বাবা চলে যাওয়ার পর আমাদের কাছে সময়টা খুবই কঠিন ছিল। গ্রামে সাইকেল মেরামতির একটি দোকান ছিল অস্মিতার বাবার। নিত্য নৈমিত্যিক অনেক কিছুই আমাদের কাছে পৌঁছত না। কিন্তু ওর বাবা সবসময় চাইতেন যে মেয়ে যাতে জুডোতে সবরকম সুবিধে পায় অনুশীলনের জন্য। এক লক্ষ টাকার লোনও নিয়েছিল অস্মিতার বাবা। যদি আজ ওর বাবা থাকত, তাহলে মেয়ের এই সাফল্য নিজের চোখে দেখতে পারত, এটাই আমাদের আক্ষেপ।’
