লখনউ: বহুদিনই ভারতীয় দলের বাইরে রয়েছেন। চলতি বছরে বিসিসিআইয়ের বার্ষিক চুক্তি থেকেও বাদ পড়েছেন। তবে মহম্মদ শামি বারংবার প্রমাণ করছেন তিনি ফুরিয়ে যাননি। রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে (LSG vs RR) ম্যাচে ফের একবার নিজের দক্ষতা প্রমাণ করলেন মহম্মদ শামি (Mohammed Shami)। লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে বল হাতে আগুন ঝরান শামি।
মরশুমের শুরুতেই লখনউ সুপার জায়ান্টসের প্রথম ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসের তারকা ওপেনার কেএল রাহুলকে প্রথম বলে সাজঘরে ফিরিয়েছিলেন শামি। সেই ম্যাচে তাঁর বোলিং দেখে শামির প্রাক্তন সতীর্থ চেতেশ্বর পূজারা দাবি করেছিলেন শামির কামব্যাক সফর সবে শুরু হয়েছে। শামি নিজের প্রাক্তন সতীর্থকে হতাশ করেননি। পরের ম্যাচেই তিনি সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে নয় রানের বিনিময়ে দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। শামির ধারাবাহিক পারফরম্যান্স অব্যাহত। লখনউয়ের সপ্তম ম্যাচেও দুরন্ত বোলিং করলেন তিনি।
এতদিনে মোটামুটি সবাই বুঝে গিয়েছে রাজস্থান রয়্যালসের টপ অর্ডারই দলের সবথেকে বড় ভরসা। গোটা টুর্নামেন্টেই বৈভব সূর্যবংশী ও যশস্বী জয়সওয়ালের আগ্রাসী ওপেনিং জুটি প্রতিপক্ষদের বিপাকে ফেলেছে। শামি এদিন সেই ওপেনিং জুটিই ভাঙেন। তিনি নিজের দ্বিতীয় ওভারে ছন্দে দেখানো যশস্বীকে ২২ রানে ফেরান। ঠিক তারপরেই আরও এক দুরন্ত বল। আরও এক উইকেট। এবার তাঁর শিকার হন আরেক ইনফর্ম ব্যাটার ধ্রুব জুড়েল। খাতা খোলার আগেই তাঁকে সাজঘরে ফিরতে হয়।
এই দুই উইকেট নিয়ে শামি শুরুতেই রাজস্থানকে চাপে ফেলে দেন। সেই চাপ কাটিয়ে গোটা ইনিংসে বড় রানের পথে এগোতে পারেনি রাজস্থান। তাদের ইনিংস থামে ছয় উইকেটে মাত্র ১৫৯ রানে। শামি চার ওভারে ৩০ রান খরচ করে দুই উইকেট নেন। তবে যে শামির টি-টোয়েন্টি বোলিং নিয়ে এত চর্চা, এত সমালোচনা শোনা গিয়েছিল, যাঁকে টি-টোয়েন্টির উপযুক্ত বোলার না হওয়ার তকমা দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই শামিই এদিন ম্যাচ সর্বোচ্চ ১৫টি ডট বল করেন। অর্থাৎ তিনি আবারও প্রমাণ করে দেন যে তিনি টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটেও কারুর থেকে কম নন। চলতি আইপিএলে সাত ম্যাচে সাত উইকেট নিয়ে ফেললেন তিনি।
তবে দুর্ভাগ্যবশত শামির এই দুরন্ত বোলিং সত্ত্বেও এদিন ব্যাটিং ব্যর্থতায় ম্যাচে পরাজিত হয় তাঁর দল লখনউ। ১৬০ রান তাড়া করতে নেমে ১১৯ রানেই গুটিয়ে যায় ঋষভ পন্থের দল। ৪০ রানে ম্যাচ জিতে নেয় রাজস্থান রয়্যালস।
