কলকাতা: সব মানুষই চায় তার নিজের একটা বাড়ি হোক। কিন্তু দিনে দিনে যে হারে দাম বাড়ছে সব কিছুর, সেই কারণেই সাধারণ মানুষের বড় ভরসার জায়গা হল হোম লোন। আর একটা ঠিকঠাক বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনতে গেলে যে পরিমাণ টাকা প্রয়োজন, সেই টাকা ঋণ নিতে গেলে কোনও ব্যক্তির কত টাকা বেতন হওয়া প্রয়োজন জানেন কি?
আরও পড়ুন: বারুইপুরে শুরু হয়ে গেল পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির কাজ, উদ্বোধন করতে পারেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী
যে কোনও ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ দেওয়ার আগে বেশ কয়েকটি জিনিস হিসাব করে। তারপর ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করে তারা। হোম লোন অনুমোদনের ক্ষেত্রে ঋণদাতারা সাধারণত ফিক্সড অবলিগেশন টু ইনকাম রেশিও (FOIR) ব্যবহার করেন। এই সূচক জানায়, একজন ব্যক্তির মাসিক আয়ের কতটা অংশ EMI হিসেবে পরিশোধ করা নিরাপদ। সাধারণভাবে মোট EMI যেন মাসিক আয়ের ৫০ শতাংশের বেশি না হয়, সেই বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বর্তমান সুদের হার ৯ শতাংশ এবং ৩০ বছরের ঋণের মেয়াদ ধরে হিসাব করলে, ৫০ লক্ষ টাকার হোম লোনের ইএমআই হয় প্রায় ৪০ হাজার ২৩১ টাকা। অন্যদিকে ৮ শতাংশ হারে লোন মিললে ইএমআই হয় ৩৬ হাজার ৬৮৮ টাকা।
আরও পড়ুন: বর্তমান সরকারের আমলে ‘বরুণ বিশ্বাস মার্ডার ফাইলস’ খোলা শুধুই সময়ের অপেক্ষা?
কেউ যদি ৩৫ বছরের জন্য হোম লোন নিয়ে থাকে, তাহলে ৯ শতাংশ সুদের হারে ৫০ লক্ষ টাকার মাসিক কিস্তি হয় ৩৯ হাজার ২০০ টাকা। অন্যদিকে, ৮ শতাংশ সুদের হারে এই লোন মিললে মাসিক কিস্তি হবে ৩৫ হাজার ৫১৪ টাকার মতো।
হিসাব বলছে, যদি কোনও ব্যক্তির মাসিক উপার্জন ৭০ হাজার টাকার মতো হয়, তাহলে সে ৫০ লক্ষ টাকার লোন পেলেও পেতে পারে। সেই ক্ষেত্রে ৩৫ বছরের জন্য ৮ শতাংশ সুদের হারে সেই লোন পেতে হবে ওই ব্যক্তিকে। আবার যদি তিনি ৩০ বছরে জন্য ৯ শতাংশ সুদের হারে লোন পান, তাহলে তাঁর মাসিক বেতন হওয়া উচিত প্রায় ৮১ হাজার টাকা।
তবে চূড়ান্ত ঋণের পরিমাণ নির্ভর করে আবেদনকারীর ক্রেডিট স্কোর, চলতি ঋণের বোঝা, বয়স, চাকরির স্থায়িত্ব এবং ঋণের মেয়াদের উপর। ভালো ক্রেডিট স্কোর থাকলে সহজে ঋণ অনুমোদন এবং তুলনামূলক কম সুদের হারে ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।
হোম লোনের আবেদন করার আগে অনলাইন এলিজিবিলিটি বা EMI ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে সম্ভাব্য ঋণের পরিমাণ যাচাই করে নেওয়া উচিত। এতে ভবিষ্যতের আর্থিক পরিকল্পনা আরও সহজ হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাসিক আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে EMI নির্ধারণ করলে ঋণ পরিশোধের চাপ কম থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতাও বজায় রাখা সম্ভব।
