কলকাতা: আইপিএল (IPL 2026) একেবারে ‘বিজনেস এন্ডে’ পৌঁছে গিয়েছে। চূড়ান্ত হতাশাজনক শুরুর পরে কলকাতা নাইট রাইডার্সের (Kolkata Knight Riders) জন্য সবকয়টি ম্যাচই মরণ-বাঁচন ম্যাচ। বরুণ চক্রবর্তী দলের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এমন পরিস্থিতিতে কিন্তু বরুণ দলের পরিকল্পনার একেবারে কেন্দ্রে থাকবেন সেটাই স্বাভাবিক। দলের প্রয়োজনে বরুণ কিন্তু ঠিক সেই কারণেই প্রচণ্ড ব্যথা নিয়েও শনিবার মাঠে নেমে পড়েছিলেন।
গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে বরুণ চার ওভারে বিনা উইকেটে ৪৭ রান খরচ করেন। তবে তাঁর বোলিংয়ের থেকেও এই ম্যাচশেষে অনেকবেশি করে তাঁর সাহসকিতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ বরুণের সতীর্থরা। পায়ের চোটের কারণে বরুণ কেকেআরের গত ম্যাচে খেলতে পারেননি। টাইটান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে অবশ্য তিনি ফিট হয়ে গিয়েছিলেন বলেই জানিয়েছিলেন রাহানে। তবে ম্যাচশেষে বরুণের সাহসিকতার প্রশংসা করেন রাহানে। একই সুর শোনা গেল ফিন অ্যালেনের গলাতেও।
ম্যাচের পর সাংবাদিক সম্মেলনে ফিন অ্যালেনকে বরুণ চক্রবর্তীর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কিউয়ি তারকাকে বলতে শোনা যায়, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমার কোনও ফিজিও ডিগ্রি নেই, তাই এই প্রশ্নটার জবাব আমি দিতে পারব না। তবে ও সহজে হাল ছাড়ে না এবং পা ফুলে থাকার পরেও ও যে এইভাবে বোলিং করেছে, সেটা ওর চরিত্রের পরিচয়বাহক। দলের জন্য কেউ যদি ব্যথাকে তুচ্ছ করে মাঠে নামতে পারে, তাহলে সেটা প্রশংসা পাওয়ারই যোগ্য।’
এর পাশাপাশি অ্যালেনকে পরের ম্যাচে বরুণের খেলার বিষয়েও বেশ আশাবাদী শোনায়। ‘আমাদের পরের ম্যাচের আগে খানিকটা সময় রয়েছে। তাই আমি নিশ্চিত যে ও ওই সময়ের মধ্যে নিজেকে ফিট করার জন্য সব প্রচেষ্টাই করবে। ও দলরে হয়ে দারুণ বোলিং করছে এবং আজকে ওর ওভারগুলি আমাদের জন্য অপরিহার্য ছিল’, জানান কেকেআর ক্রিকেটার।
আরও পড়ুন:- দু’শোতম আইপিএল ম্যাচে ম্যাচসেরা হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় আপডেট দিলেন সুনীল নারাইন
এদিন ম্যাচে অ্যালেনের ৯৩ এবং অঙ্গকৃষ রঘুবংশীর অপরাজিত ৮২ রানের ইনিংসের সুবাদে কেকেআর সুবিশাল ২৪৭ রান বোর্ডে তোলে। ক্যামেরন গ্রিনও নাইটদের হয়ে চলতি মরশুমের দ্বিতীয় অর্ধশতরান হাঁকান। ২৪৮ রানের বিরাট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে টাইটান্স ওপেনাররা ইনিংসের শুরুটা দুরন্তভাবে করেছিল। তবে চতুর্থ ওভারের শেষ বলে কার্তিক ত্যাগীর বল কনুুইয়ে লাগার পর মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন সুদর্শন। বাটলার ও গিল এরপর ইনিংসের হাল ধরেন।
অধিনায়ক শুভমন দলের হয়ে চেষ্টা করেন। তিনি ৮৫ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন। লড়লেন জস বাটলার। ৩৫ বলে ৫৭ করেন তিনি। তবে কেকেআরের উদ্বেগ তৈরি করে রাখলেন মাথিশা পাথিরানা। মাত্র ৮ বল করে চোট পেয়ে ফের মাঠ ছাড়লেন। কেকেআরের জার্সিতে অভিষেকের ম্যাচেই উৎকণ্ঠা। পরের ম্যাচে পাথিরানা খেলবেন কি না, সেইদিকেও কিন্তু সকলের নজর থাকবে।
