May 16, 2026
448371c64c33e6736fc9c006122826201778945073147338_original.jpg
Spread the love


নয়াদিল্লি: বাণিজ্যচুক্তি করতে সটান বেজিং পৌঁছে গিয়েছিলেন। বাণিজ্যচুক্তিতে সাফল্যের কথাও প্রচার করা হয় ঢাকঢোল পিটিয়ে। কিন্তু চিন সরকারের দেওয়া উপহার সেদেশেই ফেলে দিয়ে গেলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর সহযোগীরা। হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধিরা তো বটেই, আমেরিকা থেকে আসা সাংবাদিকরা পর্যন্ত কিচ্ছুটি সঙ্গে নিয়ে যাননি কিছু। বিমানে ওঠার আগে সব কিছু ডাস্টবিনে ফেলে দেন। কিন্তু কেন সব উপহার ফেলে দেওয়া হল? এর নেপথ্যেও রয়েছে নির্দিষ্ট কার্যকারণ। (Donald Trump China Gifts)

দু’দিনের চিন সফর সেরে সবে ফিরে গিয়েছেন ট্রাম্প। ক্য়ামেরার সামনে হাসিমুখে ধরা দিলেও, গোটা সফর ঘিরে চাপা উত্তেজনা ছিল। আমেরিকার সিক্রেট সার্ভিস এবং চিনা আধিকারিকদের মধ্যে বচসা এমনকি ধস্তাধস্তিও বাধে বলে খবর সামনে আসে। বেজিংয়ের টেম্পল অফ হেভেনে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় আমেরিকার সিক্রেট সার্ভিসকে। প্রোটোকল স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। সেই নিয়ে যেমন টানাপোড়েন দেখা দেয়, তেমনই ট্রাম্প এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক চলাকালীনও মারামারি হয়, যাতে চোট পান অনেকেই। (US-China Relations)

আরও পড়ুন: সন্তানকে ডাক্তার করতেই হবে, ১০ লক্ষ দিয়ে প্রশ্নপত্র কিনেছিল বাবা, ৭২০-র মধ্যে সাকুল্যে ১০৭ তুলতে পারল ছেলে

তবে সফর সেরে আমেরিকা ফিরে যাওয়ার সময় ট্রাম্প এবং তাঁর সঙ্গে আসা প্রতিনিধিরা যে আচরণ করেন, তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে এই মুহূর্তে। জানা গিয়েছে, বিমানে ওঠার আগে সেখানে রাখা ডাস্টবিনে চিনের কাছ থেকে পাওয়া যাবতীয় উপহার ফেলে দেন ট্রাম্প এবং অন্যান্যরা। চিনের কোনও সামগ্রী নিয়ে বিমানে ওঠে যাবে না বলে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরই আইকার্ড থেকে বার্নার ফোন, ছোটখাটো উপহার–বিমানে ওঠার সিঁড়ির নীচে রাখা ডাস্টবিনে ফেলে দেন সকলে। নিউ ইয়র্ক পোস্টের হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্ট এমিলি গুডিন বিষয়টি খোলসা করেছেন। 

আরও পড়ুন: ২০০০ টাকার ঘরভাড়া, মেটাতে না পেরে বাড়িওয়ালার ‘ডিল’, স্ত্রী ও নাবালক মেয়েকে বারংবার ধর্ষণ করাল এক ব্যক্তি

কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত? নেপথ্যে রয়েছে পরস্পরের প্রতি গভীর অবিশ্বাসের ইতিহাস। উপহারের মধ্যে ক্যামেরা বা অডিও রেকর্ডার থাকতে পারে, উপহারের নামে চিন আসলে গতিবিধির উপর নজর রাখতে পারে বেল আশঙ্কা করেই এমন সিদ্ধান্ত। এমিলি লেখেন, ‘চিনা আধিকারিকদের কাছ থেকে পাওয়া সব কিছু নিয়ে নেন আমেরিকার আধিকারিকরা। এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সিঁড়ির নীচে রাখা ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়। চিন থেকে কিছু নিয়ে ওঠার অনুমতি ছিল না’। আমেরিকা এবং চিনের মধ্যে যে দীর্ঘ টানাপোড়েনের ইতিহাস, তার অন্যতম কারণ হল গোপন নজরদারি। এমনকি ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে তা স্বীকারও করে নেন ট্রাম্প। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘ওই আর কী…আমরা পরস্পরের উপর তীক্ষ্ণ নজরদারি চালাই’। একমাত্র চিনের দেওয়া কোনও উপহারই ট্রাম্প বাড়ি নিয়ে যান না বলে দাবি করেছেন ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ জার্গেন নডিটও। 

তবে এই প্রথম বার নয়। আমেরিকা এবং চিন বরাবরই পরস্পরকে সন্দেহ করে। ২০২৩ সালে বেজিংয়ে ব্রিটিশ আধিকারিকদের একটি টি-পট উপহার দেওয়া হয়েছিল। পরে তার মধ্যে থেকে একটি ডিভাইস উদ্ধার হয়, যার মাধ্যমে আড়ি পাতা যায়। এমনকি চিনে অবতরণের আগে ট্রাম্প এবং তাঁর সহযোগীরা সকলে নিজ নিজ ডিভাইসও রেখে গিয়েছিলেন হ্যাকিং এড়াতে। গোটা সফরে বার্নার ফোন ব্যবহার করেন তাঁরা। বার্নার ইমেলও ব্যবহার করা হয় কথোপকথনের মাধ্যম হিসেবে।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks