সন্দীপ সরকার, কলকাতা: বাংলার কোচ হতে আগ্রহীদের আবেদন করার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল সিএবি (CAB)। ছক ভেঙে। সংস্থার ইতিহাসে কখনও এভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করে কোচের পদপ্রার্থীদের আবেদন করতে বলেনি বঙ্গ ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা। যে খবর সবার আগে লিখেছিল এবিপি লাইভ বাংলা।
১ মে, শুক্রবার ছিল আবেদন করার শেষ দিন। বাংলার সিনিয়র দলের পাশাপাশি অনূর্ধ্ব ২৩, অনূর্ধ্ব ১৯, অনূর্ধ্ব ১৬ ও মহিলাদের দলের কোচ ও সাপোর্ট স্টাফ, ফিজিও, ট্রেনার পদেও আবেদনপত্র চাওয়া হয়েছিল। শনিবার রাতের খবর, কারা আবেদন করেছেন, তা দেখে তালিকা তৈরি করেছে সিএবি। প্রায় ৮০ জন আবেদন করেছেন! এবং বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, সেই আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছে চমকে ওঠার মতো কিছু নাম। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিদেশি কোচেরাও!
এর আগে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Sourav Ganguly) উদ্যোগে ভিশন ২০২০ প্রকল্পে বাংলার পেস বোলিং পরামর্শদাতা হিসাবে ওয়াকার ইউনিস ও স্পিনারদের মেন্টর হিসাবে মুথাইয়া মুরলীধরনের মতো কিংবদন্তি কাজ করেছেন। ব্যাটিং পরামর্শদাতা ছিলেন ভি ভি এস লক্ষ্মণ। তবে সেটা ছিল একটা শিবির। বছরে নির্দিষ্ট কিছুদিন তা করা হতো। পূর্ণ সময়ের জন্য কোচ হিসাবে বিদেশি কোনও বড় নামকে দেখা যায়নি। সেদিক থেকে দেখতে গেলে বিদেশিদের আবেদন করা নিঃসন্দেহে চমকে ওঠার মতো খবর।
কারা আবেদন করেছেন? সিএবি থেকে এখনই প্রকাশ্যে কিছু বলা হচ্ছে না। তবে বিদেশি যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁরা যে উপমহাদেশের বাইরের, সেরকম ইঙ্গিত আছে। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার কেউ আবেদন করেছেন জানলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটের কিছু বড় নামও আবেদন করেছেন বলে খবর। সেই সঙ্গে কোচ হিসাবে চুক্তির পুনর্নবীকরণের জন্য নতুন করে আবেদন করেছেন গত চার বছর ধরে সিনিয়র বাংলা দলের দায়িত্ব সামলানো লক্ষ্মীরতন শুক্ল। এখনও পর্যন্ত যা খবর, তিনিই কোচ হওয়ার দৌড়ে ফেভারিট।
তবে সিএবি সূত্রে খবর, কোচ হতে চেয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে ঋদ্ধিমান সাহা, মনোজ তিওয়ারির মতো ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটারেরাও আছেন। আবেদন করেছেন রাজীব দত্তের মতো ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের আওতায় কাজ করা কোচও।
আরও একটি বড় পদক্ষেপ করেছে সিএবি। শনিবার সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, সচিব বাবলু কোলে, কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস-সহ পদাধিকারীদের উপস্থিতিতে একটি জরুরি বৈঠক হয়। সেখানে কোচ হতে চেয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। সেই কমিটির তিন সদস্য হলেন অরুণ লাল, দেবাঙ্গ গাঁধী ও কল্যাণ চৌধুরী। যিনি ময়দানে ভাইটুদা নামেই পরিচিত। কমিটিতে এমন প্রাক্তন ক্রিকেটারদের বাছা হয়েছে, যাঁরা নিরপেক্ষ থাকতে পারবেন বলেই সিএবি-র বিশ্বাস। এই কমিটি আবেদনকারীদের তালিকা থেকে বাছাইদের সাক্ষাৎকার নেবে। বাংলার ক্রিকেট কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, সেই ব্যাপারে প্রার্থীদের নীল নকশার কথা শুনবে। তারপর চূড়ান্ত হবে, বাংলার কোচ কে হবেন। অন্যান্য বয়সভিত্তিক দল ও মহিলাদের কোচও বেছে নেবে এই কমিটি।
৮ ও ৯ মে, শুক্র ও শনিবার সেই বাছাই তালিকা থেকে কোচ পদপ্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেবে তিন সদস্যের কমিটি। সম্ভবত অনলাইনেই হবে কথোপকথন। তারপর সেখান থেকে চূড়ান্ত হবে, কে পাবেন কোন দলের দায়িত্ব পেতে পারেন।
শোনা গেল, গত মরশুমে লক্ষ্মীরতনের যাঁরা সহকারী কোচ ছিলেন, যাঁরা ফিজিও ও ট্রেনার ছিলেন, যেমন শিবশঙ্কর পাল, অরূপ ভট্টাচার্য, চরণজিৎ সিংহরাও আবেদন করেছেন। সিএবি থেকে বলা হচ্ছে, কোচ নিয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে। যা বাংলা ক্রিকেটে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
আরও পড়ুন: করমর্দন বিতর্ক নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি পাক অধিনায়কের, ভারতীয় ড্রেসিংরুমে গিয়ে দেখেছিলেন…
