কলকাতা: রাত পোহালেই মুখ্যমন্ত্রীর শপথ (Chief Minister of West Bengal) গ্রহণ। বঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। অমিত শাহ শুক্রবার শহরে এসে বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক সারেন। পরিষদীয় দলনেতাও ঘোষণা করেন। সেখানেই জানানো হয় বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। ‘শুভেন্দু অধিকারী ছাড়া দ্বিতীয় নামের প্রস্তাব আসেনি। পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে তাই শুভেন্দু অধিকারীই নির্বাচিত’, জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আর শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হতেই উচ্ছ্বসিত অশোক ডিন্ডা (Ashok Dinda)। ময়নার জয়ী বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান, ‘যে মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন, তিনি প্রত্যেকদিন কেবল ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা গাড়িতে গাড়িতে বিভিন্ন জেলা, বিভিন্ন জায়গা, বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে যাতায়াত করে। বিগত পাঁচ বছর ধরে যেভাবে বিজেপিকে তুলে ধরে এনেছেন, যেভাবে কার্যকর্তাদের সাহস জুগিয়েছেন, ওঁর প্রশংসা করতেই হবে। ওঁ যোগ্য ব্যক্তি হিসাবেই মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন এবং তাতে আমাদের সবার সমর্থন রয়েছে। তাই আমরা আজ সবাই খুশি।’
২০২০-র ১৯ ডিসেম্বরে অমিত শাহের হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান করেন হবু মুখ্যমন্ত্রী। সেই অমিত শাহই আজ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তাঁর নাম ঘোষণা করেন। আর মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তাঁর নাম ঘোষণা হতেই দল ও সারা বাংলার মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দুর কথায়, ‘প্রধানমন্ত্রী যে যে গ্যারান্টি দিয়েছেন, তা পালন করবে বিজেপি। আর জি কর মেডিক্যাল, সন্দেশখালিকাণ্ডে কমিশন তৈরি হবে। আমি নয়, রাজ্যে আমাদের সরকার হবে। যারা সরকারি টাকা নয়ছয় করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সংকল্পপত্র পূরণের আশ্বাস দেন শুভেন্দু অধিকারী।
আরও পড়ুন:- কাঁথির কাউন্সিলার থেকে মুখ্যমন্ত্রীর মসনদে, এক নজরে হবু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক সফর
রাইটার্স থেকেই চলবে নতুন বিজেপি সরকার। প্রায় দেড় দশক পর ফের পুরনো চেহারায় ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে রাইটার্স বিল্ডিং। তবে আপাতত বিধানসভাতেই নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় হচ্ছে। সেজে উঠছে বিধানসভা।
বিধানসভায় এখন সাজসাজ রব। রাত পোহালেই নতুন সরকার শপথ নেবে। নতুন মন্ত্রীরা শপথ নেবেন। তারপরে তাঁদের গন্তব্য হবে বিধানসভায়। বিধানসভায় সমস্ত মন্ত্রীর রুম আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে যেখানে বসতেন, ঠিক তার পাশেই ছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের রুম। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তা বন্ধ ছিল তাঁর গ্রেফতারির পর থেকে। সেই রুম আজ খোলা হয়েছে। এর পাশাপাশি পুরনো মন্ত্রীদের নেমপ্লেট ভাঙা শুরু হয়ে গিয়েছে। ফিরহাদ হাকিম, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য… একে একে মন্ত্রীদের নেমপ্লেট ভাঙার কাজ শুরু হয়ে গেছে।
বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিং, যেটাকে প্ল্যাটিনাম মেমোরিয়াল বিল্ডিং বলা হয়, সেটাই আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় হবে, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, বিজেপি সরকার নবান্ন থেকে পরিচালিত হবে না। কিন্তু, মহাকরণের কাজ যতদিন না সম্পন্ন হয়, ততদিন এই অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় হবে। তিনতলায় মুখ্যমন্ত্রী বসবেন এবং মুখ্যমন্ত্রী সচিবালয় হবে।
