কী অবস্থায় আছেন ইমরান খান ? তা নিয়েই এখন যাবতীয় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে দিন দু’য়েক আগই সোশাল মিডিয়ায় খবর ছড়িয়ে পড়ে (যার সত্যতা বিচার করা হয়নি)। রাওয়ালপিণ্ডির জেলের সামনে বসে প্রতিবাদ জানাতে দেখা গেছে ইমরানের বোনদের। সোশাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন পুত্রও। এই আবহে একবছর আগে একটি op-ed-এ লেখা ইমরানের কথা এখন নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রতিষ্ঠাতা ২০২৩ সালের অগাস্ট মাস থেকে জেলে রয়েছেন। একাধিক মামলায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। যদিও সেগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি দাবি করেছেন। তখন থেকেই রাওয়ালপিণ্ডির আদিয়ালা জেলে রয়েছেন তিনি। ইমরানের পরিবার অভিযোগ করছে, তাঁর সঙ্গে একমাসের বেশি সময় ধরে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। যদিও জেল কর্তৃপক্ষ দাবি করছেন, সুস্থ আছেন প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী।
২০২৪-এর ২ মে একটি ব্রিটিশ দৈনিকে op-ed লেখেন ইমরান। খান পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে সামরিক প্রতিষ্ঠানকে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিবেশ থেকে তাঁর দলের উপস্থিতি হ্রাস করার জন্য ব্যবহারের অভিযোগ করেন। এরপরই তিনি দাবি করেন, তাঁর কিছু হলে মুনির দায়ী থাকবেন। এমনকী তিনি এও বলেন, “দাসত্বের থেকে তিনি মৃত্যু বেছে নেবেন।” ইমরান লেখেন, সামরিক বাহিনী আমার বিরুদ্ধে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে। এখন তাদের শুধু আমাকে হত্যা করা বাকি আছে। আমি প্রকাশ্যে বলেছি যে আমার বা আমার স্ত্রীর কিছু হলে, জেনারেল আসিম মুনির দায়ী থাকবেন। কিন্তু আমি ভীত নই, কারণ আমার বিশ্বাস দৃঢ়। আমি দাসত্বের চেয়ে মৃত্যুকে বেশি প্রাধান্য দেব।”
এদিকে ‘জেলে ইমরানের মৃত্যু হয়েছে’, এমন খবর সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই আদিয়ালা জেলের বাইরে অবস্থানে বসে পড়েন তাঁর সমর্থকরা। তাঁরা ইমরানের সঙ্গে দেখা করার দাবি জানিয়েছেন। পুত্র কাসিম খানও তাঁর মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “গত ছয় সপ্তাহ ধরে, তাঁকে মৃত্যু-কারাগারে রাখা হয়েছে। যেখানকার পরিবেশ সম্পূর্ণ নির্জন। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও, তাঁর (ইমরান খানের) বোনদের তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। কোনও ফোন কল করা যাচ্ছে না, কোনও মিটিং নেই এবং এমনকী তাঁর সুস্থতার কোনও খবর নেই। কোনওভাবেই আমি বা আমার ভাই বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না।”
