দুবাই: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর সাতদিনও বাকি নেই। কিন্তু তার মধ্যেই আচমকাই নতুন নাটক শুরু করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে ম্য়াচে নামার কথা ছিল তাদের। কিন্তু সে দেশের সরকার আচমকাই যেই ম্যাচ বয়কট করে দিয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিজেদের পায়েই নিজেরা কুড়োল মারল পাকিস্তান ক্রিকেট। কারণ এবার আইসিসির তরফেও বিবৃতি দেওয়া হয়ে গিয়েছে। কঠিন সিদ্ধান্তের পথেই হয়ত হাঁটতে চলেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা।
আইসিসির তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মত বড় টুর্নামেন্টে যে দলগুলো অংশ নেবে তারা সবাই আইসিসির নিয়ম মেনেই সব ম্য়াচে অংশ নেবে। কিন্তু পাকিস্তান যদি ধরে ধরে কিছু নির্দিষ্ট ম্য়াচেই খেলতে চায়, তাহলে তো টুর্নামেন্টের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। সে দেশের সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলেও এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য ও বিশ্ব ক্রিকেটের অগনিত সমর্থকদের জন্য একেবারেই ভাল খবর নয়।
ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড-এর জন্য সম্ভাব্য পরিণতি হিসেবে আইসিসি যেই বিষয়গুলোর ওপর নজর দিয়েছে, তা হল আইসিসির বার্ষিক রাজস্বর যে অংশ সেই ভাগ পাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের। রাজস্ব ক্ষতির জন্য জিও-স্টার-কে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এছাড়া আইসিসির অন্য় দুটো বড় ইভেন্ট টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। এমনকী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দেওয়া হতে পারে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে।
এই বিষয়ে আইসিসি আশাবাদী যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও সে দেশের সরকার আইসিসির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে ও সমঝোতার সূত্র বের করে আনবে। আবার আইসিসির এক সূত্র সংবাদ সংস্থা PTI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছে, সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি একটি বোর্ড মিটিং করা হবে ভার্চুয়ালি, সেখানেই হয়ত পাকিস্তানকে আদৌ টুর্নামেন্টে খেলার ছাড়পত্র দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি সলমন, বাবরদের সুযোগ দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রেও কঠিন শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে পিসিবিকে।
উল্লেখ্য,পাকিস্তানের দাবি মেনেই এর আগে হাইব্রিড মডেলে এই টুর্নামেন্টের সূচি তৈরি করা হয়েছিল। সেক্ষেত্রে ভারতের বিরুদ্ধে ম্য়াচ নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু এখন পাকিস্তান ম্য়াচই বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
