
ভগবান শিবকে দেবাদিদেব বলা হয়। ভক্তরা বিশ্বাস করে, তিনি ভক্তদের সব ধরনের সংকট, দুঃখ ও বিপদ থেকে রক্ষা করেন। আন্তরিক ভক্তিতেই সন্তুষ্ট হন তিনি। বিশ্বাস, ভক্তদের প্রতি তাঁর আশীর্বাদ থাকলে জীবনের কঠিন পরিস্থিতিও সহজ হয়ে যায়

সোমবার ভগবান শিবের প্রিয় দিন হিসেবে পরিচিত। এই দিনে মহাদেবের পুজো, জপ বা ব্রত পালন করলে বিশেষ আশীর্বাদ লাভ হয় বলে মনে করেন ভক্তরা। জ্যোতিষশাস্ত্রেও এমন কয়েকটি রাশির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের উপর ভগবান শিবের বিশেষ কৃপা রয়েছে বলে প্রচলিত বিশ্বাস। তবে মনে রাখতে হবে তিনি সকলের নাথ !

কর্কট (Cancer): জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, কর্কট রাশির অধিপতি গ্রহ হল চন্দ্র। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, ভগবান শিব তাঁর জটায় চন্দ্রকে ধারণ করে থাকেন। এই কারণেই কর্কট রাশির জাতক-জাতিকারা মহাদেবের বিশেষ আশীর্বাদ লাভ করেন বলে বিশ্বাস করা হয়। জীবনের নানা সংকট থেকে তাঁরা রক্ষা পান । তাই এই রাশির জাতকদের বিশেষ সৌভাগ্যবান বলে মনে করা হয়।

তুলা (Libra): তুলা রাশির অধিপতি গ্রহ শুক্র। জ্যোতিষ মতে, এই রাশির জাতক-জাতিকারা সৌন্দর্য, ভারসাম্য ও আধ্যাত্মিকতার প্রতি আকৃষ্ট হন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই গুণগুলির জন্যই এই রাশির জাতক হলে ভগবান শিবের কৃপা লাভ করা সহজ হয়। তাঁদের ব্যক্তিত্ব আকর্ষণীয় হয় এবং সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবনযাপন করতে পছন্দ করেন।

মকর (Capricorn): মকর রাশির অধিপতি হলেন শনি। পৌরাণিক বিশ্বাসে, শনি ভগবান শিবের একনিষ্ঠ ভক্ত। তাই মকর রাশির জাতক-জাতিকাদের ওপরও মহাদেবের বিশেষ আশীর্বাদ বর্ষিত হয়। এঁরা ভাগ্যের চেয়ে পরিশ্রমে বেশি বিশ্বাস করেন এবং নিজের লক্ষ্য পূরণে অবিচল থাকেন।

কুম্ভ (Aquarius): কুম্ভ রাশির মানুষেরা সাধারণত পরিশ্রমী, আত্মবিশ্বাসী এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলায় দক্ষ হন। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, কুম্ভ রাশিও ভগবান শিবের প্রিয় রাশিগুলির একটি। ধর্মীয় বিশ্বাসে বলা হয়, মহাদেব এই রাশির জাতক-জাতিকাদের নানা বিপদ থেকে রক্ষা করেন এবং তাঁদের জীবনে সুখ-সমৃদ্ধির আশীর্বাদ বজায় রাখেন।

কর্কট রাশির মানুষেরা সাধারণত আবেগপ্রবণ ও সংবেদনশীল স্বভাবের হন। সম্পর্ককে তাঁরা অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। কেউ তাঁদের কষ্ট দিলে তা সহজে ভুলতে পারেন না। তবে ধৈর্য ও আন্তরিকতার মাধ্যমে জীবনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আর এঁরা ভগবান শিবের বিশেষ প্রিয়।

তবে মনে রাখা জরুরি, জ্যোতিষশাস্ত্র ও ধর্মীয় বিশ্বাস ব্যক্তিগত আস্থা ও প্রাচীন মতের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এগুলির বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই রাশিফলকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে নয়, বরং প্রচলিত বিশ্বাস হিসেবে দেখাই শ্রেয়।
Published at : 04 Aug 2026 05:03 PM (IST)