সন্দীপ সরকার, কলকাতা: কলকাতা নাইট রাইডার্স ছেড়ে দেবে, লুফে নেবে অন্য কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি। তারপর সেই নতুন দলের জার্সি গায়ে আইপিএলে তাণ্ডব চালাবেন ওই ক্রিকেটার। আর কপাল চাপড়াবেন নাইট ভক্ত-সমর্থকেরা। আইপিএলে কেকেআরের সঙ্গে যেন এরকম ঘটনা সমার্থক হয়ে গিয়েছে। মহম্মদ শামি, ঋদ্ধিমান সাহা হোক, বা হালের শুভমন গিল, সূর্যকুমার যাদব, ফিল সল্ট। তালিকাটা লম্বা।
সেই তালিকায় কি এবার নবতম সংযোজন বিহারের ফাস্টবোলার সাকিব হুসেন? যিনি কেকেআর শিবিরে ছিলেন। তাঁকে কোও ম্যাচ খেলায়নি নাইট শিবির। ২০২৪ সালে কেকেআরের আইপিএল চ্যাম্পিয়নজয়ী দলের সদস্য। অথচ সাকিবকে ছেড়ে দিয়েছিল শাহরুখ খানের দল। নিলাম থেকে তাঁকে কিনে নেয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।
সোমবার নিজামের শহরে স্বপ্নের অভিষেক হল সাকিবের। ৪ ওভারে মাত্র ২৪ রান খরচ করে তুলে নিলেন ৪ উইকেট। অভিষেক ম্যাচেই নায়ক। তিনি ও প্রফুল্ল হিঞ্জ মিলে ছারখার করে দিলেন আইপিএলে অপরাজিত রাজস্থান রয়্যালসকে।
ম্যাচের পর সাকিবও উচ্ছ্বসিত। বলছেন, ‘সব ক্রিকেটারই এরকম অভিষেকের স্বপ্ন দেখে। দারুণ লাগছে। আমি ভীষণ খুশি। বোলিং কোচ আমাকে ম্যাচের একদিন আগে জানিয়েছিলেন যে, আমি এই ম্যাচে খেলব। সেই থেকে আমি ভাল পারফর্ম করায় মন দিয়েছিলাম। নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।’
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বোলিং কোচ বরুণ অ্যারনকে কৃতিত্ব দিয়েছেন সাকিব। বলেছেন, ‘বরুণ ভাই আমার সঙ্গে গত চার বছর ধরে কাজ করেছে। আমার বোলিংয়ে যা উন্নতি হয়েছে, সবটাই বরুণ ভাইয়ের জন্য। পুরোটা ওর কৃতিত্ব। অভিষেক ম্যাচে এরকম পারফরম্যান্স খুবই স্পেশ্যাল।’
সাকিব হুসেনের (Sakib Hussain) জীবন কাহিনিও রোমাঞ্চকর। সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো। বিহারের ১৯ বছর বয়সী তরুণ বোলিং শুরু করেছিলেন ব্যাট ও অন্যান্য কিট কেনার অর্থ ছিল না বলে। সেই বোলিংই এখন তাঁকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে জাতীয় দলে খেলার। তরুণ পেসারের প্রতিভা দেখে তাঁকে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। তাঁকে ছেড়েও দেয় নাইট শিবির।
টেনিস বলে ক্রিকেট খেলা শুরু করেছিলেন। বিহারের গোপালগঞ্জ জেলায় খেলতেন। এবিপি লাইভ বাংলাকে দেওয়া সাক্ষৎকারে সাকিব একবার বলেছিলেন, ‘পেশাদার ক্রিকেটার হব কোনওদিন ভাবিনি। শখেই ক্রিকেট খেলা শুরু। প্রথমে টেনিস বলে খেলতাম। গোপালগঞ্জের টুনাগিরি ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হয়েছিলাম। সেখান থেকে সকলের উৎসাহ পাই। তারপরই এগিয়ে যাওয়া।’
শুরু থেকেই কি পেস বোলিং করবেন ঠিক করে নিয়েছিলেন? ‘না ভাবিনি। আসলে অভাবের সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছি। ব্যাটিংয়ের সরঞ্জাম খুব দামি। ব্যাট, প্যাড, গ্লাভস, হেলমেট মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার টাকা পড়ত। সেই সময় অত টাকা কোথায় পাব? খাব, না কিটব্যাগ কিনব? বল করতে গেলে সেসব কিছুই লাগে না। বল হাতে নাও আর বোলিং করে যাও। জুতোও কিনতে পারতাম না। অন্য কারও জুতো পরেই বল করতাম। সেই থেকেই জোরে বোলিং শুরু,’ বলেছিলেন সাকিব।
গোপালগঞ্জ জেলার ক্রিকেট সচিব ও অন্য কর্তারাও পাশে ছিলেন সাকিবের। বাড়ি থেকে কেউ বারণ করেননি। টুনাগিরি ক্রিকেট ক্লাবের সচিব, আমার কোচ রবিন সিংহ, মুকেশ ভাইয়া (ভারতীয় দলের ক্রিকেটার মুকেশ কুমার, যিনি বাংলার হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেন, আইপিএলে খেলছেন দিল্লি ক্যাপিটালসে) সবাই উৎসাহ দিয়েছেন। সকলের সমর্থনেই এই জায়গায় পৌঁছেছি।’
কেকেআরের হতাশা আরও বাড়ল বলে…
