RBI MPC Meeting : অবশেষে জল্পনার অবসান। এবার প্লাস্টিকের নোট (Plastic Notes in India) বা পলিমার কারেন্সি (Polimer Currency Notes) নিয়ে মুখ খুলল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মানিটারি পলিসি মিটিয়ের (RBI MPC Meeting) পরই এই বিষয়ে খোলসা করেছেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা (Sanjay Malhotra)। কী বলেছেন তিনি ?
ভারতে কাগজের নোটের দিন কি এবার শেষ হতে চলেছে ?
কদিন ধরেই দেশে এই নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকেই এই খবরকে কেবল গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে কিছু সংবাদ মাধ্যমে দেখানো হয়েছে এই খবর। যার ফলে খবরের সত্যতা নিয়ে শুরু হয়েছিল দ্বন্দ্ব। এবার যা নিয়ে প্রকাশ্যে এল তথ্য।
কী বলছেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর
জানা গেছে, দেশে পলিমার বা প্লাস্টিকের নোট চালু করার একটি প্রস্তাব বর্তমানে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। শুক্রবার রেপো রেট সংক্রান্ত দ্বিমাসিক মুদ্রানীতি ঘোষণার পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই ইঙ্গিত দিয়েছেন আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। গভর্নর জানান, প্রস্তাবটি একেবারেই প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এর ভালো ও মন্দ দুটি দিকই খতিয়ে দেখছে।
সাংবাদিক বৈঠকে সঞ্জয় মালহোত্রা বলেন, “পলিমার নোট চালু করার একটি প্রস্তাব আমাদের বিবেচনাধীন রয়েছে। এর সুবিধা ও অসুবিধাগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। এটি বাস্তবে রূপ দেওয়া কতটা লাভজনক হবে, তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।”
কেন এখন প্লাস্টিক নোটের কথা ভাবছে RBI ?
ডিজিটাল পেমেন্ট বা ইউপিআই (UPI) লেনদেন রেকর্ড হারে বাড়লেও, দেশে কাগজের নোটের চাহিদাও কিন্তু কমেনি। গত ১৫ মে পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, বাজারে প্রচলিত নগদ অর্থের পরিমাণ রেকর্ড ৪২.৮৬ ট্রিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে। এই বিপুল পরিমাণ নগদ বজায় রাখতে গিয়ে আরবিআই-এর খরচ ও সমস্যা দুই-ই বাড়ছে:
নোট ছাপানোর বিপুল খরচ: ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে কারেন্সি নোট ছাপানোর খরচ এক ধাক্কায় বেড়ে হয়েছে ৬,৩৭২.৮ কোটি টাকা, যা তার আগের বছরে ছিল ৫,১০১.৪ কোটি টাকা।
নষ্ট হওয়া নোটের পাহাড়: ২০২৫ অর্থবর্ষে প্রায় ২৩.৮ বিলিয়ন পিস ময়লা ও ছেঁড়া নোট বাজার থেকে তুলে নিতে হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১২.৩ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ৫০০ টাকার নোটের সংখ্যাই ছিল সবচেয়ে বেশি, তারপরেই ছিল ১০০ টাকার নোট। দীর্ঘদিন স্থায়ী হওয়ার কারণে প্লাস্টিক নোট ব্যবহারে সরকারের এই বিপুল পরিমাণ পুনঃমুদ্রণ ও ব্যবস্থাপনার খরচ অনেকটাই বেঁচে যাবে।
এক দশক আগেও হয়েছিল উদ্যোগ
ভারতে প্লাস্টিকের নোট চালুর ভাবনা অবশ্য নতুন নয়। প্রায় এক দশক আগে, ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে সংসদে জানানো হয়েছিল যে, দেশের ভৌগোলিক ও জলবায়ুর বৈচিত্র্য মাথায় রেখে পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচটি শহরে (কোচি, মহীশূর, জয়পুর, শিমলা এবং ভুবনেশ্বর) মোট ১০০ কোটি পিসের ১০ টাকার পলিমার নোট চালু করা হবে।
তবে সেই সময়ে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত জটিলতা ও পরিকাঠামো বা পরিচালনার সমস্যার কারণে ওই পাইলট প্রজেক্টটি স্থগিত করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত আবহে কাগজের নোটের খরচ ও বর্জ্য কমাতে ফের সেই পুরনো পরিকল্পনা নতুনভাবে খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
আরও পড়ুন : জলে ভিজবে না, ছেঁড়া যাবে না ! কাগজের বদলে এবার ‘প্লাস্টিক নোট ‘ চালু হবে বাজারে ?
