জয়পুর: মহারাষ্ট্র ক্রিকেট তথা আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি চেন্নাই সুপার কিংসের অধিনায়ক তিনি। হালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজ়ে ভারতীয় দলে কামব্যাক ঘটিয়ে নিজের কেরিয়ারের প্রথম ওয়ান ডে আন্তর্জাতিক শতরানও হাঁকিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও নিউজ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজ় থেকে বাদ পড়েছেন রুতুরাজ গায়কোয়াড় (Ruturaj Gaikwad)। তবে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়লেও তাঁর ব্য়াট কিন্তু কথা বলছে।
বর্তমানে বিজয় হাজারে ট্রফিতে (Vijay Hazare Trophy 2025-26) মহারাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন ডান হাতি ব্যাটার। সেই টুর্নামেন্টেই গোয়ার বিরুদ্ধে তাঁর ব্যাট থেকে এল দুরন্ত শতরান। আর তার সঙ্গে সঙ্গেই ইতিহাসও গড়ে ফেললেন রুতু। এদিন পৃথ্বী শ, অর্শিন কুলকার্নিসহ গোটা মহারাষ্ট্র টপ অর্ডারই ব্যর্থ হয়। প্রথম ছয় ব্যাটারদের মধ্যে রুতু বাদে বাকি পাঁচজন মিলে ১০ রানও যোগ করতে পারেননি। ২৫ রানে আধা দল সাজঘরে ফিরে যাওয়ায় কার্যত ধুঁকছিল মহারাষ্ট্র। ঠিক এই সময়েই দলকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন প্রদান করেন রুতু। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ঝাঁ চকচকে সেঞ্চুরি।
গোটা ইনিংস যেখানে লোয়ার অর্ডারে ভিকি ওস্তওয়াল আর রাজ্যবর্ধন হাঙ্গারগেকর বাদে কেউ বলার মতো রানই পাননি, সেখানে কুম্ভ হয়ে একাই লড়লেন রুতু। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত টিকে থাকেন রুতুরাজ। মহারাষ্ট্রের ইনিংস শেষে তাদের অধিনায়কের নামের পাশে লেখা ছিল ১৩১ বলে অপরাজিত ১৩৪। রুতুর ইনিংস সাজানো ছিল আটটি চার ও ছয়টি ছক্কায়। এই ইনিংসই তাঁকে বিশ্বরেকর্ড গড়তে সাহায্য করল।
আজ রুতু নিজের লিস্ট এ কেরিয়ারের ৯৪তম ইনিংস খেলতে নেমেছিলেন। সেই ইনিংসেই এল তাঁর বিশতম শতরান। বিজয় হাজারেতে সতীর্থ অঙ্কিত বাওয়ানের সঙ্গে যুগ্মভাবে সর্বাধিক ১৫টি শতরান করে ফেললেন তিনি। এছাড়া ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে তিনটি, ‘বি’ দলের হয়ে একটি এবং ভারতীয় সিনিয়র দলের হয়ে একটি মোট ২০টি সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। রুতুই প্রথম ব্যাটার যিনি ১০০ লিস্ট এ ইনিংস খেলার আগেই ২০টি শতরান করার মাইলফলক স্পর্শ করলেন। ভারত কেন, গোটা বিশ্বে আর কোনও ব্যাটারের এই কৃতিত্ব নেই।
এর আগে পাকিস্তানের খুররাজ মনজুর দ্রুততম ১২৯টি লিস্ট এ ইনিংসে ২০টি শতরান করেছিলেন। আজই ময়ঙ্ক আগরওয়ালও সেই রেকর্ড স্পর্শ করেন। তবে রুতু তাঁদের থেকে অনেক কম ইনিংসেই সেই কৃতিত্ব গড়লেন। তুলনায় বিরাট কোহলির লিস্ট এ ক্রিকেটে ২০টি শতরান করতে সময় লেগেছিল ১৪৩টি ইনিংস, বাবর আজমের ১৩১টি ইনিংস, যা রুতুর এই কৃতিত্ব কত বড়, তা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট।
