মুম্বই: পঞ্জাব ব্যাঙ্কের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে দেশ ছেড়েছেন নীরব মোদি। এখনও দেশে ফেরানো সম্ভব হয়নি তাঁকে। সেই মামলায় পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্য়াঙ্ক আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনও প্রমাণ পেল না কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। জালিয়াতির মামলাটি ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে পাঠিয়ে দিল তারা। (Nirav Modi)
পলাতক শিল্পপতি, হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদির বিরুদ্ধে থাকা জালিয়াতির অভিযোগ সংক্রান্ত মামলাগুলি ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে স্থানান্তরিত করে দিল মুম্বইয়ের CBI কোর্ট। পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনও প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। (PNB Scam)
মুম্বইয়ে পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের জোনাল অফিসের অভিযোগের ভিত্তিতে নীরব মোদি,তাঁর সঙ্গে সংযুক্ত সংস্থার ডিরেক্টর এবং পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্য়াঙ্কের অজ্ঞাত পরিচয় আধিকারিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল CBI. অভিযোগে বলা হয়েছিল, নীরব মোদির সংস্থাগুলিকে প্রদত্ত ঋণ পরিষেবার অপব্যবহার করে, প্রতারণা করে ৩২১.৮৮ কোটি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পঞ্জাব ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ তদন্তে দেখা যায়, নীরব মোদির অংশীদারিত্ব থাকা সংস্থা, সোলার এক্সপোর্টস, স্টেলার ডায়মন্ডস অ্যান্ড ডায়মন্ড আর ইউএস, নীরব মোদিরই প্রতিষ্ঠিত ফায়ারস্টার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, ফায়ারস্টার ডায়মন্ডস ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে নীরব মোদির ‘সার্কুলার’ লেনদেন হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক ভাবে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০-বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র), ৪২০ (প্রতারণা), সেই সঙ্গে ১৯৮৮ সালের দুর্নীতি বিরোধী আইনের ১৩ (২) ধারায় মামলা দায়ের হয়।
আরও পড়ুন: ফের পথে নামছেন রাহুল গাঁধী, প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষায় অনিয়ম, বেকারত্ব বৃদ্ধি নিয়ে দেশব্য়াপী কর্মসূচি
কিন্তু বৃহস্পতিবার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টকে CBI জানায়, পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরও পঞ্জাবন ন্যাশনাল ব্য়াঙ্কের কর্মকর্তা বা অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে অপরাধমূলক কাজের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সরকারি কৌঁসুলি বিক্রম সিংহ CBI-এর হয়ে আদালতে জানান, কিছু ব্য়ক্তির বিরুদ্ধেই শুধুমাত্র চার্জশিট জমা করা হবে। সেক্ষেত্রে CBI-এর বিশেষ আদালতের আর এক্তিয়ার থাকে না। ম্যাজিস্ট্রেটই শুনানি করতে পারেন। CBI-এর আবেদনে সায় দেন বিশেষ আদালতের বিচারক জেপি দারেকর।
নীরব মোদি এবং তাঁর মামা মেহুল চোকসি পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক দুর্নীতির মূল অভিযুক্ত। প্রায় ১৪০০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ। লেটার্স অফ আন্ডারটেকিং জাল করে, ব্যাঙ্কের অফিসারদের ঘুষ দিয়ে তাঁরা সাধারণ মানুষের টাকা লুঠ করেন বলে জানা যায়। এই মুহুর্তে লন্ডনের জেলে রয়েছেন নীরব মোদি। মেহুল চোকসিকে বেলজিয়ামের কোর্ট থেকে প্রত্যর্পণের চেষ্টা চলছে।
Swapan Samaddar : ধৃত স্বপন সমাদ্দার, আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ঘিরে ‘চোর চোর’ স্লোগান
