নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গে আজ দ্বিতীয় দফার ভোট চলছে। এরই মাঝে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন নেটিজেনদের তরফে দাবি করা হচ্ছে ভারতীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক (Ministry of Petroleum and Natural Gas) নাকি পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়াচ্ছে (Petrol Price hike)। এই পোস্ট সোশ্যালে ছড়িয়ে পড়তেই স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ জনগণের মধ্যে উদ্বেগ, চিন্তা বাড়ছে। সত্যিই কি পেট্রোল, ডিজেলের দাম বেড়েছে?
সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফা ভোট শেষের পরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রক তেলের দাম বৃদ্ধি করছে। দাবি করা হচ্ছে পেট্রোলের দাম নাকি লিটার প্রতি ১০ টাকা এবং ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ১২.৫০ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে। ইরানের তরফে অবশেষে সকলের জন্য হরমুজ প্রণালী খোলা হলেও, এখনও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দামে অস্থিরতা থাকায় জ্বালানীর দাম বাড়তে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন।

এরই মাঝে এই খবর সামনে আসায় তা অনেক মানুষেরই ঘুম উড়িয়েছে। অনেকেই এই খবরটিকে সত্যি বলে মেনেও নিচ্ছেন। অন্ধ্রপ্রদেশে তো রীতিমতো পেট্রোল, ডিজেল কেনার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে। এই আবহেই রবিবার চারশোরও বেশি পেট্রোল পাম্প বন্ধ করে দিয়েছে চন্দ্রবাবু নাইডুর সরকার।
তবে পিআইবির তরফে ফ্যাক্ট চেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে এটি সম্পূর্ণ ভুল তথ্য। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে এমন কোনওরকম নোটিস জারি করা হয়নি। তাদের তরফে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্য়মেই সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে এইরকম কোনও তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস না করতে। পাশাপাশি অনুরোধ করা হয়েছে এমন ভুল তথ্য সাধারণ জনগণের মধ্যে না ছড়াতে।
🚨FAKE NEWS!
An order circulating on social media claims to be issued by the Ministry of Petroleum and Natural Gas, stating that petrol and diesel prices have been increased by ₹10 and ₹12.50, respectively.#PIBFactCheck:
❌ This order is #FAKE .
✅ The Government of India… pic.twitter.com/tMmJa0Y4qA
— PIB Fact Check (@PIBFactCheck) April 29, 2026
শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যেই পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানিয়ে দিয়েছেন বর্তমানে তেলের দাম বাড়ানোর কোনওরকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি জানান, ‘আমরা কিছু কিছু জায়গায় আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটার ঘটনা লক্ষ্য করেছি। আমরা রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে এই বিষয়ে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছি। সব খুচরো বিক্রয় কেন্দ্রগুলির ওপর নজরদারি চালাচ্ছে সরকার। এই সময়ে পেট্রোল পাম্পে সরবরাহের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে পর্যাপ্ত মজুদের বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়। কোনও কেন্দ্রেই যাতে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেই বিষয়টি দেখা হচ্ছে।
