নয়াদিল্লি: চার ম্যাচে ১১টি উইকেট। ছোট্ট আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ইতিমধ্যেই শোরগোল ফেলে দিয়েছেন উসমান তারিক। পাকিস্তানের ‘মিস্ট্রি স্পিনার’-র বোলিং অ্যাকশন বৈধ না অবৈধ, সেই নিয়েও জোর চর্চা চলছে। ভারত ম্যাচে যে তারিক পাকিস্তানের (IND vs PAK) হয়ে বড় অস্ত্র হতে চলেছেন, তা মোটামুটি সকলেই মনে নিচ্ছেন। হরভজন সিংহ পর্যন্ত বলেছেন তারিককে খানিকটা দেখেই খেলতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে সামলানোর জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত? জানালেন ঈশান কিষাণ (Ishan Kishan)।
ভারতীয় দল এক সময় স্পিন খেলায় অদ্বিতীয় থাকলেও, হালে বারংবার ভারতীয় দলকে স্পিন আক্রমণের বিরুদ্ধে অসহায় দেখিয়েছে। অনেকেই বর্তমান ভারতীয় ব্যাটারদের স্পিন খেলার দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুই ম্যাচে স্পিনারদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দল যথাক্রমে আট ওভারে ৪২ রানে তিন উইকেট এবং আট ওভারে ৬১ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়েছে। নামিবিয়া ম্যাচেও অধিনায়ক জেরহার্ড ইরাসমাস ভারতকে কার্যত ঘোল খাইয়ে ছাড়েন। চার উইকেট নেন তিনি। তাঁর স্বাভাবিকের চেয়ে ভিন্ন বোলিং অ্যাকশন বেশ চাপেই ফেলে ভারতীয়দের।
উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশনও তথাকথিত ‘টেক্সট বুক’ নয়, খানিকটা ভিন্ন। ইরাসমাসের বিরুদ্ধে ব্যাটিং করে কি তারিকের বিরুদ্ধে ঠিকঠাক প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে ভারত? এ বিষয়ে দলের তারকা ক্রিকেটার ঈশান কিষাণ জানান, ‘না, না ইতিমধ্যেই আমরা প্রস্তুতিপর্বটা সেরে রেখেছি। এবার বিষয়টা খালি বল দেখে সেই অনুযায়ী শট খেলার। ব্যাটার হিসাবে বল যদি আমাদের নাগালে থাকে, তাহলে আমরা সেই বলে প্রহার করি, কারণ ফর্ম্যাটটা তো টি-টোয়েন্টি। আমরা ভাল রান করার লক্ষ্যে থাকি। তবে আমাদের নিজেদের শক্তিশালী দিকটাকেও ব্যাক করতে হবে।’
তারিককে খেলার জন্য আর অশ্বিনও কিন্তু ভারতীয় ব্যাটারদের পরামর্শ দিয়েছেন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে আলোচনা করার সময় রবিচন্দ্রন অশ্বিন বলেছেন, ‘আমি একটা জিনিস অবশ্যই দেখতে চাইব। কে এমনটা করার সাহস দেখায় । যদি বল করার আগে তারিক তার হাত থামায়, তাহলে ব্যাটসম্যানের সরে যাওয়াটা তার অধিকারের মধ্যে পরে। ব্যাটসম্যান বলতে পারে, ‘আমি জানি না বলটা কখন আসবে, তাই আমি সরে গেলাম। এই ঘটনাটি বেশ আকর্ষণীয় এবং আম্পায়ারের কাছে মাথাব্যথার কারণ হবে।’
অশ্বিন আরও বলেন, ‘যদি ব্যাটসম্যান বারংবার সরে যেতে শুরু করে, তাহলে ভাবুন তারিকের উপর কতটা চাপ আসবে। হয়তো ওকে ম্যাচের মাঝে ওর বোলিং অ্যাকশন বদলাতে হতে পারে। এমনটা হলে পাকিস্তানের ট্রাম্প কার্ড ‘শূন্য’ প্রমাণিত হবে।’
