দেশের দরিদ্র ও আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র সরকারের অন্যতম বড় উদ্যোগ হল ‘আয়ুষ্মান ভারত – প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ বা PM-JAY। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের অধীনে ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি (NHA) এই প্রকল্প পরিচালনা করে। ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী সকলেই ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ (AB PM-JAY)-এর সুবিধা পাবেন। এই বয়সের সব প্রবীণ নাগরিক, তাঁদের আয় নির্বিশেষে, বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য এই স্বাস্থ্যবিমা পাবেন
এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল, অর্থাভাবে যাতে কোনও পরিবার চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়। সরকারি ও তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ করে দেয় আয়ুষ্মান ভারত।
বছরে ৫ লক্ষ টাকার ক্যাশলেস চিকিৎসা
আয়ুষ্মান ভারতের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, প্রকল্পের আওতায় থাকা প্রতিটি পরিবার বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসা সুবিধা পায়। অর্থাৎ হাসপাতালে ভর্তি, অস্ত্রোপচার বা গুরুতর রোগের চিকিৎসার জন্য রোগীকে সরাসরি টাকা দিতে হয় না। চিকিৎসার খরচ সরকার বহন করে।
হাসপাতালে চিকিৎসার কোন কোন খরচ কভার হয়?
এই প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসার প্রায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যেমন—
- চিকিৎসকের পরামর্শ
- ওষুধ
- ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা
- অস্ত্রোপচার
- ICU-র খরচ
- ইমপ্ল্যান্ট
- হাসপাতালে থাকা ও খাবারের খরচ
শুধু তাই নয়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ৩ দিন আগে এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার ১৫ দিন পর পর্যন্ত চিকিৎসা সংক্রান্ত খরচও কভার করা হয়।
জটিল রোগের ক্ষেত্রেও সুরক্ষা
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে চিকিৎসাকালীন জটিলতা বা কমপ্লিকেশন তৈরি হলেও সেই খরচও কভারের আওতায় আসে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আগে থেকে থাকা রোগও এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ প্রথম দিন থেকেই প্রি-এক্সিস্টিং ডিজিজের সুবিধা পাওয়া যায়।
পরিবারে সদস্যসংখ্যার কোনও সীমা নেই
এই প্রকল্পের আরেকটি বড় সুবিধা হল, পরিবারে সদস্যসংখ্যার উপর কোনও সীমাবদ্ধতা নেই। বয়স, লিঙ্গ বা পরিবারের আকারের ভিত্তিতেও কোনও বাধা নেই। ফলে বড় পরিবারও একই বিমা সুরক্ষার সুবিধা পেতে পারে।
দেশজুড়ে চিকিৎসার সুবিধা
আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের এমপ্যানেল্ড হাসপাতালে পাওয়া যায়। অর্থাৎ, কোনও ব্যক্তি অন্য রাজ্যে গেলেও তালিকাভুক্ত হাসপাতালে ক্যাশলেস চিকিৎসা করাতে পারবেন।
এই ‘ন্যাশনওয়াইড পোর্টেবিলিটি’ প্রকল্পটিকে আরও কার্যকর করেছে।
প্রায় ১,৯২৯টি চিকিৎসা পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত
এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১,৯২৯ ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে। হার্ট সার্জারি, ক্যানসার চিকিৎসা, কিডনি সমস্যা, নিউরোসার্জারি-সহ একাধিক জটিল চিকিৎসাও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
কারা পাবেন আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা?
গ্রামীণ এলাকার উপভোক্তা
গ্রামীণ এলাকার বেশ কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পান। যেসব পরিবার নিম্নলিখিত অবস্থার মধ্যে পড়ে, তারা আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আসতে পারে—
- কাঁচা দেওয়াল ও কাঁচা ছাউনি-সহ একঘরের বাড়ি
- পরিবারে ১৬ থেকে ৫৯ বছরের কোনও প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য নেই
- পরিবারে ১৬ থেকে ৫৯ বছরের কোনও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সদস্য নেই
- পরিবারের সদস্য প্রতিবন্ধী এবং উপার্জনক্ষম কেউ নেই
- SC/ST পরিবার
- ভূমিহীন পরিবার, যাদের মূল আয় দিনমজুরির উপর নির্ভরশীল
- স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত পরিবার
কিছু পরিবারকে সরাসরি প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যেমন—
- গৃহহীন পরিবার
- ভিক্ষাবৃত্তির উপর নির্ভরশীল মানুষ
- ম্যানুয়াল স্ক্যাভেঞ্জার পরিবার
- আদিম জনজাতি গোষ্ঠী
- মুক্ত বন্ডেড লেবার পরিবার
- শহরের কোন মানুষরা সুবিধা পাবেন?
শহরাঞ্চলেও বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় আসেন। যেমন—
ভারতে চিকিৎসার খরচ বহু পরিবারের কাছে বড় আর্থিক চাপ। আয়ুষ্মান ভারত সেই বোঝা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
